ইলমুত তাযকিয়্যাহ:
এক মু’মিন আরেক মু’মিনের প্রতি লানত দেয়া অন্যায়
, ০৮ শাবান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ৩০ ছামিন, ১৩৯৩ শামসী সন , ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ১৪ মাঘ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) মহিলাদের পাতা
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
وَالَّذِيْنَ يُؤْذُوْنَ الْمُؤْمِنِيْنَ وَالْمُؤْمِنَاتِ بِغَيْرِ مَا اكْتَسَبُوْا فَقَدِ احْتَمَلُوْا بُهْتَانًا وَاِثْـمًا مُّبِينًا ◌
অর্থ : যারা বিনা অপরাধে ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার মহিলাদের কষ্ট দেয়, তারা মিথ্যা অপবাদ ও প্রকাশ্যে পাপের বোঝা বহন করে। (পবিত্র সূরা আহযাব : আয়াত শরীফ ৫৮)
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, কোন ব্যক্তি অপর কাউকে ফাসিক বলবে না এবং কুফরীর অপবাদও দিবেনা। কেননা সেই ব্যক্তি সেরূপ না হলে তবে তার অপবাদ নিজের উপরই বর্তাবে। (বুখারী শরীফ)
তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি কাউকে কাফির বলে ডাকে অথবা মহান আল্লাহ পাক উনার দুশমন বলে অথচ যাকে বলা হয়েছে সে তা নয় তখন উক্ত বাক্যটি তার নিজের উপরই প্রত্যাবর্তন করবে। (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ)
তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন, মুসলমান লা’নত তথা অভিশাপ দেয় না।
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, একবার নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কতিপয় ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরসহ সফরে ছিলেন। এমন সময় জনৈকা মহিলা দলের একটি উটকে অভিম্পাত করল। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সেই অভিশপ্ত উটটিকে দল থেকে বের করে দিতে আদেশ মুবারক করলেন। উনার আদেশ মুবারক অনুযায়ী উটটিকে ছেড়ে দেয়া হলো, উটটি স্বেচ্ছায় বহুদিন এদিক সেদিক ঘুরে বেড়াল। কিন্তু অভিশপ্ত বলে কেউই তার নিকটবর্তী হল না।
হযরত আবূ দারদা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, ভূমি বা কোন পদার্থকে লা’নত করলে তা মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট বলতে থাকে, আমাদের মধ্যে যে অধিক পাপী, তার উপর লা’নত বর্ষিত হোক। বস্তুত ভূমি কিংবা কোন পদার্থ পাপী হয় না বরং মানুষ পাপী হয়ে থাকে।
বর্র্ণিত রয়েছে, হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি একবার কোন পদার্থকে লা’নত করলেন। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তা শুনে বললেন, হে হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম! ছিদ্দীক্ব হয়েও আপনি লা’নত করলেন? এটা আপনার জন্য সঙ্গত হয়নি। পবিত্র কা’বা শরীফ উনার কসম! আপনি ছিদ্দীক্ব। লা’নত করা আপনার পক্ষে সমীচীন নয়। হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি তৎক্ষণাত তওবা করলেন এবং কাফফারা স্বরূপ একটি গোলামকে আযাদ করে দিলেন। (কিমিয়ায়ে সাআদাত)
কোন মানুষের প্রতিই লা’নত করা উচিত নয়। তবে আমভাবে পাপীদের প্রতি লা’নত করা যেতে পারে। যেমন যালিম, কাফির, ফাসিক ও বিদআতীর প্রতি লা’নত। যে সকল সম্প্রদায় সম্মানিত শরীয়ত উনার ফায়ছালায় অভিশপ্ত তাদের অভিশাপ দেয়া যেতে পারে। এছাড়া যারা কাফির অবস্থায় পরলোক গমন করেছে বলে সম্মানিত শরীয়ত উনার মধ্যে উল্লেখ রয়েছে, তাদেরকেও লা’নত করা যেতে পারে।
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অল্প সংখ্যক কাফিরদেরকে নাম নিয়ে লা’নত করেছিলেন। তিনি ওহী মারফত জানতে পেরেছিলেন যে, তারা মুসলমান হবে না। বরং কাফির অবস্থায় মারা যাবে।
হযরত আবূ দারদা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার বর্ণনায় এসেছে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যখন বান্দা কোন বস্তুকে বা কাউকে অভিসম্পাত করে তখন সে অভিসম্পাত আসমানের দিকে উঠতে থাকে, তখন আসমানের দরজা বন্ধ করে দেয়া হয় অতঃপর উক্ত অভিসম্পাত যমীনের দিকে প্রত্যাবর্তন করে তখন যমীনের দরজা বন্ধ করে দেয়া হয়। অতঃপর তা ডান দিকে ও বাম দিকে যায় এবং সেখানেও যখন কোন রাস্তা না পায়, শেষ পর্যন্ত সেই ব্যক্তি বা বস্তুর দিকে প্রত্যাবর্তন করে যার প্রতি অভিশাম্পাত করা হয়েছে। যদি সে অভিসম্পাতের উপযুক্ত হয় তবে তার উপর অপতিত হয়। অন্যথায় যে অভিসম্পাত দিয়েছে তার প্রতিই প্রত্যাবর্র্ণিত হয়। (আবূ দাউদ শরীফ)
কিতাবে বর্র্ণিত রয়েছে, কেউ সারা জীবন অভিশপ্ত ইবলীস শয়তানকে একবার লা’নত না করলেও কিয়ামতের দিন তাকে জিজ্ঞাসা করা হবেনা যে, শয়তানকে কেন লা’নত করা হয়নি। কিন্তু কেউ অপর কাউকে লা’নত করলে প্রবল আশঙ্কা রয়েছে যে, কিয়ামতের দিন এজন্য তাকে জাওয়াবদিহি করতে হবে।
একদা ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট উপদেশ প্রার্থনা করলে তিনি বললেন, কাউকে লা’নত দিবেন না।
অতএব, মু’মিনগণ পরস্পরের প্রতি লা’নত করা হতে বিরত থাকা অপরিহার্য্য কর্তব্য।
(সংকলিত)
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
তিন ধরনের লোক বেহেশ্তে প্রবেশ করবে না
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
হযরত উম্মে আতিয়্যাহ আল আনছারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
৩টি বিশেষ নেক কাজ, যা ইন্তেকালের পরও জারি থাকে
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সৃষ্টির শুরুতেই মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত মুবারক উনার মধ্যে ছিলেন, আছেন এবং অনন্তকাল থাকবেন
২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
হজ্জে মাবরুর বা মকবুল হজ্জ পালন করতে হলে কি কি থাকা শর্ত (১)
২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ক্বলবী যিকির জারী না থাকলে শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়
২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পারিবারিক জীবনে একটি মারাত্মক ভুল যার সংশোধন নেই (২)
২৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
একজন উত্তম নারীর গুণাবলী
২৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
তওবা
২৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মুসলমানদের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণনা
২৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












