ঈমানী কুওওয়াত বা শক্তি বৃদ্ধিকারী কতিপয় ঘটনা
, ২২ রবীউল আউওয়াল শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ০৭ রবি, ১৩৯৪ শামসী সন , ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রি:, ২১ ভাদ্র, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
(ধারাবাহিক পর্ব)
(৩) হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, একবার নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনাদের কাছে নকশাযুক্ত ফরাশ (বিছানা) আছে কী? আমি বললাম, ইয়া রসূলাল্লাহ! ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! নকশাযুক্ত ফরাশ (বিছানা) আমাদের কাছে কোথা থেকে আসবে? তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আপনাদের কাছে নকশাযুক্ত ফরাশ থাকবে। হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, তখন আমি আমার আহলিয়াকে বলি, এই নকশাযুক্ত ফরাশ (বিছানা) দূরে সরিয়ে দিন। তিনি জওয়াব দেন, কেন? নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তো ইরশাদ মুবারকই করেছিলেন যে, আপনাদের কাছে নকশাযুক্ত ফরাশ থাকবে। (বুখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফ)
(৪) হযরত তালহা নযরী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, অদূর ভবিষ্যতে আপনাদের মধ্যে এক ব্যক্তির কাছে সকালে একটি বড় পিয়ালা আসবে এবং সন্ধ্যায় একটি বড় পিয়ালা আসবে। আপনারা পবিত্র কা’বা শরীফ উনার গিলাফ বা পর্দার অনুরূপ পোশাক পড়বেন। হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা প্রশ্ন করলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ! ইয়া হাবীবাল্লাহ, ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আজকের দিনে আমরা উত্তম, না সেদিন উত্তম হবো? তিনি বললেন, আপনারা আজকের দিনে উত্তম। এখন আপনাদের মধ্যে পারস্পরিক মুহব্বত আছে। আর তখন তাদের পরস্পরের মধ্যে শত্রুতা বিরাজ করবে এবং একে অপরের ঘাড় কাটবে। (মুসনাদে আহমদ শরীফ, মুস্তাদরাকে ছহীহাইন)
(৫) হযরত আবূ নঈম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বর্ণনা করেন, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ইয়াযীদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে কোথাও দাওয়াত করা হলো। তিনি সেখানে উপস্থিত হয়ে দেখলেন যে, গৃহের দরজায় পর্দা ঝুলানো আছে। তা দেখে তিনি গৃহের বাইরে বসে গেলেন এবং কাঁদতে লাগলেন। কেউ উনাকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি বাইরে বসে আছেন কেন এবং কাঁদছেনই বা কেন?
তিনি বললেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তিনবার বলেছিলেন- আপনাদের উপর দুনিয়ার ধনসম্পদ আত্মপ্রকাশ করবে। অতঃপর তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, আপনারা আজ উত্তম, না তখন উত্তম হবে, যখন আপনাদের কাছে সকালে একটি খাদ্যভর্তি পিয়ালা আসবে এবং সন্ধ্যায় একটি? আপনারা সকালে এক পোশাক পড়বেন এবং বিকালে এক পোশাক। আপনাদের আপন গৃহে এমন পর্দা লাগাবেন, যেমন পবিত্র কা’বা শরীফে লাগানো হয়। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ইয়াযীদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বললেন, এমন পরিস্থিতিতে আমি কান্না না করে কি করবো? আমি দেখতে পাচ্ছি আপনাদের গৃহে এমন পর্দা ঝুলিয়েছেন, যেমন পবিত্র কা'বা শরীফে ঝুলানো হয়। (খাসায়িসুল কুবরা-২/১৩৩)
(৬) ফক্বীহুল উম্মত, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি রেওয়ায়েত করেন, একবার এক ব্যক্তি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমত মুবারকে হাজির হলেন। আরজু করলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ! ইয়া হাবীবাল্লাহ, ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমাদের অর্থসংকট দেখা দিয়েছে। কে খেয়ে ফেলেছে। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, আমি দুর্ভিক্ষের চেয়ে বেশী এ বিষয়ের আশংকা করি যে, দুনিয়া আপনাদের পরবর্তীদেরকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরবে। হায়, আমার উম্মত যদি স্বর্ণকে অলংকার না বানাতো! (দালায়িলুন নবূওয়াত, মুসনাদে আহমদ, মুছান্নাফ ইবনে আবী শায়বা, মু’জামুল আওসাত লিত তাবারানী, মাজমাউয যাওয়ায়িদ লিল হায়ছামী)
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হীরা বিজিত হওয়ার খবর দান:
হযরত খুরাইম ইবনে আউস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন তাবুক থেকে প্রত্যাবর্তন করছিলেন, তখন আমি হিজরত করতঃ উনার খিদমত মুবারকে হাজির হলাম। তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, হীরা আমার সামনে তুলে ধরা হয়েছে। আমি তা দেখতে পাচ্ছি। আর শায়মা বিনতে নুফাইলাকে সাদা খচ্চরের উপর সওয়ার হওয়া অবস্থায় দেখা যাচ্ছে। সে কালো ওড়না পরিহিতা। আমি আরয করলাম, ইয়া রসূলাল্লাহ! ইয়া হাবীবাল্লাহ, ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! যদি আমরা হীরা বিজয় করি এবং শায়মাকে তেমনি পাই যেমন আপনি বললেন, তবে কি শায়মা আমার হবে? নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, হ্যাঁ, সে আপনার হবে।
উল্লেখ্য যে, হীরা ছিলো তৎকালীন ইরাকের একটি গুরুত্বপূর্ণ নগরী। যা হযরত ছিদ্দীকে আকবর আলাইহিস সালাম উনার খেলাফতকালে বিজয় হয়। তখন হযরত খালিদ ইবনে ওয়ালীদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি ছিলেন সেনাপতি।
হযরত খুরাইম ইবনে আউস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, আমরা মুসায়লামাতুল কায্যাবের বিরুদ্ধে দমন অভিযান শেষ করে হীরা নগরীতে প্রবেশ করলাম। আর সেখানে সর্বপ্রথম আমরা শায়মা বিনতে নুফাইলাকে পেলাম। সুবহানাল্লাহ!
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বর্ণনা মুবারক অনুযায়ী সে কালো ওড়না পরিহিতা অবস্থায় খচ্চরের উপর সওয়ার ছিলো। আমি তাকে জড়িয়ে ধরলাম। আর বললাম, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এই মহিলা আমাকে দান করেছেন। হযরত খালিদ ইবনে ওয়ালীদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি এ বিষয়ে সাক্ষী পেশ করতে বললেন। আমি হযরত মুহম্মদ ইবনে মাসলামাহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং মুহম্মদ ইবনে বিশর আনসারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাদেরকে সাক্ষীস্বরূপ পেশ করলাম। অতঃপর হযরত খালিদ ইবনে ওয়ালীদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি শায়মাকে আমার হাতে সোপর্দ করলেন। শায়মার ভাই এসে আমাকে বললো: শায়মাকে আমার হাতে বিক্রি করে দিন।
আমি বললাম, তার মূল্য এক হাজারের কম নেবো না। সে আমাকে হাজার দিরহামই দিলো। লোকেরা বললেন, যদি আপনি এক লাখ দিরহাম চাইতেন, তা হলেও শায়মার ভাই আপনাকে তা দিয়ে দিতো। আমি বললাম, দশ শত এর বেশী সম্পদ কারো কাছে থাকতে পারে তা আমার জানাই ছিলো না। সুবহানাল্লাহ! (দালায়িলুন নুবুওয়াত লি আবী নুয়াইম ২/৫৪১,মু’জামুল কবীর লিত তাবারানী ৪/২১৩, খাসায়িসুল কুবরা-২/১৩৫) (ইনশাল্লাহ চলবে)
-আল্লামা মুফতী সাইয়্যিদ আব্দুল হালীম।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সশব্দে বা জোরে আমীন না বলা
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা কবীরা গুনাহ ও অসন্তুষ্টির কারণ
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা আঙ্গুলের ছাপ শরীয়তসম্মত, নিখুঁত, ব্যবহারে সহজ এবং রহমত, বরকত, সাকীনা লাভের কারণ (৮)
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সর্বাবস্থায় যাঁরা দ্বীন ইসলাম উনার প্রতি দৃঢ়চিত্ত থাকেন উনারাই হক্কানী আলেম
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠের বিস্ময়কর বাস্তব ঘটনাসমূহ
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ফিক্বাহ বা ফতওয়ার সকল কিতাবেই গান-বাজনা, বাদ্য-যন্ত্র ইত্যাদিকে হারাম ফতওয়া দেয়া হয়েছে
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
দেশে দেশে জাতিসংঘ ওরফে ইহুদীসংঘের কথিত মানবাধিকার অফিসমূহের পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও মুসলমান বিরোধী কার্যক্রমের ইতিহাস (১৬তম পর্ব)
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (১৮)
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
অসংখ্য হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত- প্রাণীর ছবি হারাম
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












