ঈমানী কুওওয়াত বা শক্তি বৃদ্ধিকারী কতিপয় ঘটনা
, ০৮ রবীউল আউওয়াল শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ২৩ ছালিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ২২ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি:, ০৭ ভাদ্র, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
(ধারাবাহিক পর্ব)
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এক চোরের খবর বলে দিলেন:
হযরত হারিছ ইবনে হাতিব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সময় একব্যক্তি চুরি করলো। তাকে পাকড়াও করে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছে আনা হলো। তিনি ফায়সালা মুবারক দিলেন, একে হত্যা করো।
উনার খিদমত মুবারকে আরজ করা হলো, ইয়া রসূলাল্লাহ ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!! সে কেবল চুরি করেছে (হত্যাযোগ্য অপরাধ করেনি)। তখন তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, তাহলে তার হাত কেটে ফেলো। এরপর লোকটি পুনরায় চুরি করলে তার দ্বিতীয় হাতও কাটা হলো। এরপর সে হযরত ছিদ্দীকে আকবর আলাইহিস সালাম উনার খিলাফতকালে চুরি করলে তার একটি পা কেটে দেয়া হলো। সে চতুর্থবার চুরি করলে তার দ্বিতীয় পা ও কেটে দেয়া হলো। চার হাত-পা কর্তিত হওয়ার পর সে পঞ্চমবার চুরি করলো।
তখন হযরত ছিদ্দীকে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তার বেহায়াপনা সম্পর্কে সর্বাধিক জ্ঞাত ছিলেন। তাই তিনি প্রথমেই তাকে হত্যা করার আদেশ মুবারক দিয়েছিলেন। কাজেই এখন তাকে নিয়ে যাও এবং হত্যা করো। সেমতে তাকে হত্যা করা হলো। (খাসায়িসুল কুবরা-২/১৩০)
যারা রোযা রেখে গীবত করে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তাদের হাকীকত জানিয়ে দেন:
(১) বিশিষ্ট তাবেয়ী হযরত আবুল বুখতারী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি মুরসাল সনদে বর্ণনা করেন, একজন কটূভাষিণী মহিলা একদিন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমত মুবারকে হাজির হলেন। সন্ধ্যা বেলায় তিনি উনাকে খাওয়ার জন্যে ডাকলেন। তিনি বললেন, আমি রোযাদার ছিলাম। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আপনি রোযা ছিলেন না। পরদিন তিনি উনার জিহ্বাকে কিছুটা সংযত করলেন।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাকে খাওয়ার জন্যে ডাকলেন। তিনি বললেন, আমি রোযাদার ছিলাম। তিনি আবারো ইরশাদ মুবারক করেন, আপনি রোযা ছিলেন না। পরের দিন তিনি উনার রসনাকে পূর্ণরূপে সংযত রাখলেন।
সন্ধ্যায় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাকে খাওয়ার জন্যে ডাকলেন। তিনি বললেন, আজ আমি রোযাদার ছিলাম। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, হ্যাঁ; আজ আপনি রোযা রেখেছেন। (খাসায়িসুল কুবরা-২/১৩০)
(২) খাদিমু রসূলিল্লাহ, হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, একবার নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি রোযা রাখার আদেশ মুবারক দিলেন। সাথে সাথে এটাও বললেন যে, আমি অনুমতি না দেয়া পর্যন্ত কেউ ইফতার করবেন না।
নির্দেশ মুয়াফিক সকলেই রোযা রাখলেন। সন্ধ্যা হলে প্রত্যেক ব্যক্তি আসলেন এবং বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি রোযাদার ছিলাম। আপনি আমাকে ইফতারের অনুমতি দিবেন?
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাদেরকে অনুমতি দিয়ে দিতেন। তারপর এক ব্যক্তি এসে বললেন, আমার পরিবারের দু’জন মহিলা রোযা রেখেছিলেন। উনারা আপনার কাছে আসতে লজ্জাবোধ করছেন। আপনি কি উনাদেরকে ইফতার করার অনুমতি দিবেন? নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নূরুর রহমাহ (চেহারা মুবারক) ফিরিয়ে নিলেন।
লোকটি আবারো আরজ করলেন। তিনি আবারো নূরুর রহমাহ (চেহারা মুবারক) ফিরিয়ে নিলেন। তৃতীয়বারের পর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, উনারা রোযা রাখেননি। যাঁরা মানুষের গোশত খায়, তাদের আবার রোযা কিসের? আপনি উনাদের কাছে গিয়ে বলুন, আপনারা রোযা রেখে থাকলে বমি করে দিন। মহিলাদ্বয়কে একথা বলা হলো। উনারা বমি করলেন। দেখা গেলো বমির সাথে জমাট রক্ত বের হলো।
লোকটি এসে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে এ সংবাদ দিলেন। তখন তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, সেই মহান আল্লাহ পাক উনার কসম, যাঁর কুদরতী হাত মুবারকে আমার প্রাণ, এই জমাট রক্ত উনাদের পেটে থেকে গেলে জাহান্নামের আগুন উনাদেরকে খেয়ে ফেলতো। (খাসায়িসুল কুবরা-২/১৩১) (ইনশাল্লাহ চলবে)
-আল্লামা মুফতী সাইয়্যিদ আব্দুল হালীম।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে- ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (১৩)
২২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা হারাম ও নাজায়িজ
২২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
কদমবুছী করা খাছ সুন্নত মুবারক
২২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্রতা সম্পর্কিত মাসয়ালা-মাসায়িল (৩)
২১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মহিলাদের প্রতি মহান আল্লাহ পাক উনার বিশেষ নির্দেশনা মুবারক- পর্দা পালন করা
২১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুমহান শান মুবারক উনার খিলাফ যারা বলবে তাদের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদন্ড
২১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পবিত্র হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
২১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’দাদ শরীফ মহাসম্মানিত ১২ই শরীফ রাত্র ও দিবসে এবং সাইয়্যিদুশ শুহূর, শাহরুল আ’যম, মহাসম্মানিত রবীউল আউওয়াল শরীফ মাসে যত রহমত বরকত সাকীনা নাযিল হয় অন্য কোন সময় এত রহমত নাযিল হয় না
২১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
ঈমানী কুওওয়াত বা শক্তি বৃদ্ধিকারী কতিপয় ঘটনা
২১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
খরচ করার ব্যাপারে মহান আল্লাহ পাক উনার ফায়সালা
২১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












