ঈমানী কুওওয়াত বা শক্তি বৃদ্ধিকারী কতিপয় ঘটনা
, ০৭ রবীউল আউওয়াল শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ২২ ছালিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ২১ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি:, ০৬ ভাদ্র, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
(ধারাবাহিক পর্ব)
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত আবূ দারদা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার ইসলাম গ্রহণের খবর দিলেন:
হযরত জুবায়ের ইবনে নুযায়ির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, হযরত আবূ দারদা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি প্রথম জীবনে প্রতিমা পূজা করতেন। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে রাওহা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং মুহম্মদ ইবনে সালামাহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনারা উনার গৃহে গিয়ে উনার প্রতিমাগুলো ভেঙ্গে দিলেন। হযরত আবূ দারদা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি গৃহে ফিরে আসলেন। প্রতিমাগুলোর ভগ্নদশা দেখে তিনি বললেন, তোমরা নিজেরা নিজেদেরকেও রক্ষা করতে পারলে না?
অতঃপর তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছে পৌঁছলেন। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে রাওহা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি উনাকে আসতে দেখে বললেন, মনে হয় তিনি আমাদের খোঁজে আসছেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, তিনি আপনাদের খোঁজে আসছেন না। বরং সম্মানিত ইসলাম গ্রহণ করার জন্যে আসছেন। সুবহানাল্লাহ! (খাসায়িসুল কুবরা-২/১২৮)
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সেই ব্যক্তির খবর বলে দিলেন, যিনি পথিমধ্যে বালিকার প্রতি হাত বাড়িয়েছিলেন:
হযরত আবু শাহম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, আমি একদিন পবিত্র মদীনা শরীফ উনার পথে এক বালিকাকে দেখলাম। তিনি আমার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তার কোমরের দিকে হাত বাড়িয়ে দিলাম। পরদিন কিছু লোক বাইয়াতের জন্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমত মুবারকে হাজির হলেন। উনাদের সাথে আমিও গেলাম। বাইয়াত হওয়ার জন্য আমিও আপন হাত মুবারক বাড়িয়ে দিলাম। বললাম, ইয়া রসূলাল্লাহ! ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!! দয়া করে আমাকেও বাইয়াত করান। তখন তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আপনি তো গতকাল আপন হাত এক বালিকার দিকে বাড়িয়েছিলেন।
আমি আরজু করলাম- ইয়া রসূলাল্লাহ! ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!! দয়াকরে আমাকে বাইয়াত করান। মহান আল্লাহ পাক উনার কসম, আমি জীবনে কখনো এরূপ কাজ করবো না। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমি আপনার বাইয়াত কবুল করলাম। সুবহানাল্লাহ! (মুসনাদে আহমদ শরীফ, সুনানুল কুবরা লিন নাসায়ী শরীফ, তাহযীবুল কামাল, খাসায়িসুল কুবরা-২/১২৯)
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অন্যায়ভাবে নেয়া ছাগলের সংবাদ দিলেন:
(১) ইমাম বায়হাকী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি জনৈক আনছারী ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণনা করেন, একবার একজন মহিলা ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে দাওয়াত করলেন। অতঃপর মুবারক খিদমতে খাবার পেশ করলেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এক লোকমা খাবার গ্রহণের পূর্বেই ইরশাদ মুবারক করেন, এটা সেই ছাগলের গোশত, যা অন্যায়ভাবে নেয়া হয়েছে। মহিলা ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনাকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন, উনার প্রতিবেশি এই ছাগলটি উনার আহাল (স্বামীর) অনুমতি ছাড়াই পাঠিয়েছিলেন। (খাসায়িসুল কুবরা-২/১২৯)
(২) হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এবং উনার ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা একজন মহিলা ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনার কাছ দিয়ে যাচ্ছিলেন। মহিলা ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তিনি খুুশি হয়ে উনাদের জন্যে একটি ছাগল যবেহ করলেন। অতঃপর খাবার প্রস্তুত করলেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এক লোকমা খাবার কাছে নিলেন। কিন্তু গ্রহণ করলেন না। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, এ ছাগলটি অনুমতি ছাড়াই গ্রহণ করা হয়েছে। মহিলা ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ, ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! হযরত মুয়াজ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার পরিবারের লোকদের সাথে আমাদের কোন লৌকিকতা নেই। আমরা তাদের বস্তু না বলেই নিয়ে নেই এবং উনারাও আমাদের বস্তু না বলে নিয়ে নেন। (খাসায়িসুল কুবরা-২/১২৯) (ইনশাল্লাহ চলবে)
-আল্লামা মুফতী সাইয়্যিদ আব্দুল হালীম।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্রতা সম্পর্কিত মাসয়ালা-মাসায়িল (৩)
২১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মহিলাদের প্রতি মহান আল্লাহ পাক উনার বিশেষ নির্দেশনা মুবারক- পর্দা পালন করা
২১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুমহান শান মুবারক উনার খিলাফ যারা বলবে তাদের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদন্ড
২১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পবিত্র হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
২১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’দাদ শরীফ মহাসম্মানিত ১২ই শরীফ রাত্র ও দিবসে এবং সাইয়্যিদুশ শুহূর, শাহরুল আ’যম, মহাসম্মানিত রবীউল আউওয়াল শরীফ মাসে যত রহমত বরকত সাকীনা নাযিল হয় অন্য কোন সময় এত রহমত নাযিল হয় না
২১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
খরচ করার ব্যাপারে মহান আল্লাহ পাক উনার ফায়সালা
২১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা শক্ত হারাম, রয়েছে কঠিন শাস্তি
২০ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২০ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা কুফরী
২০ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি খাতামুন নাবিইয়ীন, এই আক্বীদা বিশ্বাস করা ফরযে আইন
২০ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বেপর্দা সর্বপ্রকার অনিষ্ট ও ফিতনা-ফাসাদের মূল
১৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












