আরবী হরফ কেন্দ্র করে উদ্ভূত গণনাপদ্ধতিও যখন মুসলমানদের অবহেলায় খ্রিস্টানদের নামে প্রচলিত হয়ে যায়
, ১৪ রবীউল আউওয়াল শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১০ রবি’, ১৩৯৩ শামসী সন , ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ খ্রি:, ২৩ ভাদ্র, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
আমরা জানি যে, প্রতিটি আরবী হরফ উনার নিজস্ব সাংখ্যমান রয়েছে। উল্লেখ্য, আমরা যেভাবে ‘আলিফ’, ‘বা’ এরপর ‘তা’ পড়ে এসেছি মক্তবের সিপারাহসমূহে, সাংখ্যমান অনুযায়ী আরবী মানের ক্রম সেরকম নয়। সাংখ্যমান অনুযায়ী ‘আলিফ’, ‘বা’ তারপর ‘জীম’ তারপর ‘দাল’ এরকম হয়ে থাকে। যেমন ‘আলিফ’ হরফ উনার সাংখ্যমান ১, ‘বা’ হরফ উনার ২। এভাবে ১ থেকে ১০ পর্যন্ত সংখ্যা ও তাদের সাথে সংশ্লিষ্ট আরবী হরফসমূহ হচ্ছে, আলিফ (ا) -১, বা (ب) -২, জীম (ج) -৩, দাল (د) -৪, ছোট হা (ه) -৫, ওয়াও (و) -৬, ঝা (ز) -৭, বড় হা (ح) -৮, তোয়া (ط) -৯, ইয়া (ي) -১০।
এরপর স্বাভাবিকভাবেই পরবর্তী মানটি ১০ এর পর হওয়ার কথা ১১। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে, এর পরবর্তী মানটি হলো ২০, তার পরের মানটি ৩০। যেমন, ছোট কাফ (ك) -২০, লাম (ل) -৩০, মিম (م) -৪০, নুন (ن) -৫০, সিন (س) -৬০, আইন (ع) -৭০, ফা (ف) -৮০, ছোয়াদ ( ص) -৯০, ক্বফ (ق) -১০০।
এর পরের আরবী হরফ উনার সাংখ্যমান কি ১১০? যেহেতু দশ দশ করে বেড়েছে। না, এর পরবর্তী আরবী হরফ উনার মান হলো ২০০। এরপর ৩০০, এরপর ৪০০ এভাবে বাড়তে থাকে। সর্বোচ্চ সাংখ্যমান বিশিষ্ট আরবী হরফ হচ্ছেন ‘গ¦ইন’ (غ), সাংখ্যমান ১০০০।
অর্থাৎ ক্রমানুসারে আরবী হরফসমূহ উনাদের সাংখ্যমান এভাবে বৃদ্ধি পায়, ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭, ৮, ৯ এরপর ১০, ২০, ৩০, ৪০, ৫০, ৬০, ৭০, ৮০, ৯০, ১০০ অতঃপর ২০০, ৩০০, ৪০০, ৫০০, ৬০০, ৭০০, ৮০০, ৯০০, ১০০০।
উপরের ক্রমটি গণিতের একটি বিশেষ প্রক্রিয়ার সাথে সম্পৃক্ত, যাকে বলা হয় লগারিদম। উচ্চতর গণিতে ব্যবহৃত লগারিদমিক গ্রাফ পেপারে ঘরগুলোর মান হুবহু এই ক্রম অনুসরণ করেই বাড়তে থাকে। এই লগারিদম স্কেলে কোন সংখ্যার মান হয় সেই সংখ্যার দশ এর পাওয়ারের মানের সমান। যেমন ১০০ সংখ্যাটি হলো ১০২ , বা ১০ সংখ্যাটিকে ২ বার গুণ করলে হয় ১০০। এ হিসেবে লগারিদম স্কেলে ১০০ সংখ্যাটির মান হলো ২। এই লগারিদমিক প্রক্রিয়ায় ১ এবং ২-এর পার্থক্য, ১০ এবং ২০-এর পার্থক্যের সমান। ১০ এবং ২০-এর পার্থক্য, ১০০ এবং ২০০-এর পার্থক্যের সমান। ১০০ এবং ২০০-এর পার্থক্য, ১০০০ এবং ২০০০ এর পার্থক্যের সমান। যে কারণে লগারিদমিক গ্রাফ পেপারে সাধারণ গ্রাফ পেপারের ন্যায় ১০-এর পর ১১-এর ঘর থাকে না, ১০-এর পর ২০-এর ঘর থাকে। ১০০-এর পর ২০০-এর ঘর থাকে।
বিশ্বের লক্ষ লক্ষ মুসলিম ছাত্র এই গণনাপদ্ধতি ব্যবহার করছে, যা স্পষ্টভাবে আরবী হরফসমূহ উনাদের সাংখ্যমান থেকে উদ্ভূত। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, এই লগভিত্তিক গণনাপদ্ধতির আবিষ্কর্তা হিসেবে বিশ্বে প্রচলিত হয়েছে কথিত ইংরেজ গণিতবিদ হেনরি ব্রিগস (যবহৎু নৎরমমং)-এর নাম! সমস্ত বইপত্রসমূহে লেখা রয়েছে, লগারিদমের আবিষ্কর্তা হলো হেনরি ব্রিগস।
কোনো আরবীভাষী মুসলিম ছাত্রের চোখেও কি এই বিষয়টি ধরা পড়েনি? মুসলমানরা এতোটাই অসচেতন যে, আরবী ভাষা থেকে উদ্ভূত গণনাপদ্ধতিও বর্তমান বিশ্বে খ্রিস্টানদের নামে প্রচলিত হয়ে রয়েছে। নাউযুবিল্লাহ!
-গোলাম মুর্শিদ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (১০)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ছবি তোলা হারাম, যা জাহান্নামী হওয়ার কারণ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত আশূরা শরীফ উনাকে যারা সম্মান করবে তাদের জন্য-
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত শরীয়ত উনার ফায়ছালা মতে কুলাঙ্গার ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহি কাট্টা কাফির ও চিরজাহান্নামী (১)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পৃথিবীকে পরিবর্তন করার চেয়ে নিজেকে পরিবর্তন করা সহজ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পর্দা রক্ষা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া ব্যভিচারের সমতুল্য
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
৩টি বিষয় কেবল তিনটি অবস্থায়ই জানা যায়।
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত মীলাদ শরীফ পাঠে অনন্য তাজদীদ মুবারক (৪)
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ইসলামী শরীয়ত মুতাবিক- ছবি তোলা হারাম
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












