ইযহারু হাক্বীক্বতিল কুদ্রত আউওয়ালা র্মারাতিন ফী তারীখি খ্বালক্বিল্লাহ্ ‘আলা লিসানি সাইয়্যিদিনা সুলত্বানিন নাছীর মামদূহ্ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলাহ্ আলাইহিস সালাম
(সৃষ্টির ইতিহাসে এই প্রথম সাইয়্যিদুনা সুলত্বানুন নাছীর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত নূরুস সালাম মুবারক-এ পবিত্র কুদরত মুবারক উনার হাক্বীক্বত মুবারক প্রকাশ)- ৪৫
, ০৮ যিলহজ্জ শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২৬ ছানী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ২৬ মে, ২০২৬ খ্রি:, ১২ জৈষ্ঠ্য, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ
পবিত্র কুদরত মুবারক উনার কাইফিয়্যাত মুবারক সম্পর্কে কল্পনাতীত বেমেছাল খোদায়ী ইলিম মুবারক বিতরণ:
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি পবিত্র কুদরত মুবারক উনার মধ্যে আছেন। অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি মহান আল্লাহ পাক উনার নিয়ন্ত্রণ মুবারক-এ, যিয়ারত মুবারক-এ, দীদার মুবারক-এ এবং ছোহবত মুবারক-এ আছেন। তখন কিছুই ছিলো না। আর কোন্ কাইফিয়্যাতে আছেন? যিনি খ্বাালিক্ব যিনি মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনি যেই কাইফিয়্যাতে আছেন, ঐ কাইফিয়্যাতে আছেন। এখন যদি বলা হয়- তাহলে মহান আল্লাহ পাক উনার অনুরূপ হয়ে যায়! কেননা, মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন,
لَيْسَ كَمِثْلِهٖ شَىْءٌ
‘মহান আল্লাহ পাক উনার মেছালেরও কোনো মেছাল নেই।’ (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা শূরা শরীফ: ১১)
মহান আল্লাহ পাক উনার অনুরূপ তো নেই। এর জওয়াব হচ্ছে- তাহলে মহান আল্লাহ পাক তিনি তো ইরশাদ মুবারক করেছেন,
صِبْغَةَ اللهِ وَمَنْ اَحْسَنُ مِنَ اللهِ صِبْغَةً
‘মহান আল্লাহ পাক উনার রঙ্গে রঞ্জিত হও। মহান আল্লাহ পাক উনার চেয়ে উত্তম রঞ্জনকারী কে?’ (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা বাক্বারাহ্ শরীফ: ১৩৮)
আর মহান আল্লাহ পাক তিনি মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছে কুদসী শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেছেন,
تَـخَلَّقُوْا بِاَخْلَاقِ اللهِ
“তোমরা যিনি খ্বাালিক্ব যিনি মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত চরিত্র মুবারক-এ চরিত্রবান হও।” সুবহানাল্লাহ! (তাফসীরে রূহুল মা‘য়ানী ১৫/৩৯৫)
তাহলে এর অর্থ কী? ‘মহান আল্লাহ পাক উনার চরিত্র মুবারক-এ চরিত্রবান হও।’ ‘মহান আল্লাহ পাক উনার রঙ্গে রঞ্জিত হও।’ তাহলে যিনি খ্বাালিক্ব যিনি মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ছিলেন, আছেন, থাকবেন। তিনি কোনো কিছুরই মুহতাজ না। একইভাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি একমাত্র যিনি খ্বাালিক্ব যিনি মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনি ছাড়া কারো মুহতাজ না। সুবহানাল্লাহি ওয়া রসূলিহী ওয়া আহলি বাইতিহী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!
যখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র নূরুল ইযহার মুবারক হলেন, তখন কিছুই ছিলো না। তাহলে উনি কোথায় ছিলেন? উনি পবিত্র কুদরত মুবারক উনার মধ্যে ছিলেন। পবিত্র কুদরত মুবারক দুই ভাগে বিভক্ত। মনে রাখবে।
এক. নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি মহান আল্লাহ পাক উনার নিয়ন্ত্রণ মুবারক-এ, যিয়ারত মুবারক-এ, দীদার মুবারক-এ, ছোহবত মুবারক-এ আছেন। ছোহবত মুবারক-এ যদি থাকেন, তাহলে একজনের ছোহবতে থাকলে দেখে না? তোমরা এক সাথে থাকলে দেখো না? নাকি চক্ষু বন্ধ করে রাখো? দীদার মুবারক-এ, যিয়ারত মুবারকেই তো আছেন।
দুই. কাইফিয়্যাতটা কী? এই কাইফিয়্যাতটা মানুষ জানে না। কাইফিয়্যাত অর্থাৎ কোন্ কায়দায়? কিভাবে? কোন্ তর্জ-তরীক্বায়? তাহলে যিনি খ্বাালিক্ব যিনি মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনি কোন্ কাইফিয়্যাতে আছেন? এটা বলো। এটা যদি তোমরা বলতে পারো, তাহলে বাকিটা আমি বলে দিবো। তোমরা বলতে পারবে না। কাজেই, নূরে মুজসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যে বুলন্দী শান মুবারক, এটা কল্পনাতীত বিষয়। মানুষ উনাকে চিনতেই পারেনি, বুঝতেই পারেনি। না‘ঊযুবিল্লাহ! যার কারণে নানা চূ-চেরা, ক্বীলও ক্বাল। না‘ঊযুবিল্লাহ!
মহান আল্লাহ পাক উনার মতো অর্থ হলো- মহান আল্লাহ পাক উনি যেভাবে আছেন; ঠিক আবার নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে উনি সেভাবে রেখেছেন। সেভাবে উনি আছেন। একটা হলো- মহান আল্লাহ পাক উনি নিজে আছেন। আরেকটা হলো- উনি রেখেছেন। এই হলো পার্থক্য। মহান আল্লাহ পাক উনার মতো অর্থ ঐ মতো না। এটাও বুঝার বিষয় আছে। এখানে একটা সূক্ষ্ম পার্থক্য রয়ে গেছে।
দুইটা ভাগ আমি বললাম। এই বিষয়টা বুঝতে না পারলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যে বুলন্দী শান মুবারক, এটা বুঝা যাবে না। এজন্য মানুষ চূ-চেরা, ক্বীলও ক্বাল করে। এই জন্য খারিজীরা এই মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফখানা অস্বীকার করে। এটা স্বীকার করলে তো তারা মিলাতে পারবে না। তাহলে তারা যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে যেইভাবে কথাবার্তা বলে, না‘ঊযুবিল্লাহ! এগুলি তো বলতে পারবে না। এরা কাফির হয়ে গেছে।
এই বিষয়টা সহজ না। অনেক কঠিন বিষয়। অনেক কঠিন। কারণ, মহান আল্লাহ পাক তিনি সব সময় দায়িমীভাবে উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব ও মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছানা-ছিফত মুবারক করতেছেন, উনার প্রতি সম্মানিত ছলাত মুবারক পেশ করতেছেন। যিনি খ্বাালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
كُلَّ يَوْمٍ هُوَ فِىْ شَاْنٍ
“মহান আল্লাহ পাক তিনি একেক সময় একেক শান মুবারক-এ থাকেন।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আর রহমান শরীফ: ২৯)
অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক তিনি ক্বদীম। তিনি শুরুতে যা করেছিলেন, এখনো তাই করেন। তবে, কোনো কোনো সময় উনার কোনো কোনো বিশেষ শান মুবারক উনার বহিঃপ্রকাশ মুবারক ঘটে থাকেন। কিন্তু সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করা হচ্ছেন সরাসরি মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র আমল মুবারক এবং উনার দায়িমী শান মুবারক। সুবহানাল্লাহি ওয়া রসূলিহী ওয়া আহলি বাইতিহী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজেই দায়িমীভাবে সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করে যাচ্ছেন এবং অনন্তকাল যাবৎ পালন করতেই থাকবেন। সুবহানাল্লাহি ওয়া রসূলিহী ওয়া আহলি বাইতিহী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!
-মুহাদ্দিছ মুহম্মদ আল আমীন।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাঝে ফানা ও বাক্বা সারা কায়িনাত (৮)
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক (৭)
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
(সৃষ্টির ইতিহাসে এই প্রথম সাইয়্যিদুনা সুলত্বানুন নাছীর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত নূরুস সালাম মুবারক-এ পবিত্র কুদরত মুবারক উনার হাক্বীক্বত মুবারক প্রকাশ)- ৫৩
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাঝে ফানা ও বাক্বা সারা কায়িনাত (৭)
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক (৬)
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
(সৃষ্টির ইতিহাসে এই প্রথম সাইয়্যিদুনা সুলত্বানুন নাছীর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত নূরুস সালাম মুবারক-এ পবিত্র কুদরত মুবারক উনার হাক্বীক্বত মুবারক প্রকাশ)- ৫২
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অন্যদের সাথে তুলনা করা কুফরী -তার দলীলভিত্তিক জবাব
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাঝে ফানা ও বাক্বা সারা কায়িনাত (৬)
০৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক (৫)
০৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
(সৃষ্টির ইতিহাসে এই প্রথম সাইয়্যিদুনা সুলত্বানুন নাছীর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত নূরুস সালাম মুবারক-এ পবিত্র কুদরত মুবারক উনার হাক্বীক্বত মুবারক প্রকাশ)- ৫১
০৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












