ইযহারু হাক্বীক্বতিল কুদ্রত আউওয়ালা র্মারাতিন ফী তারীখি খ্বালক্বিল্লাহ্ ‘আলা লিসানি সাইয়্যিদিনা সুলত্বানিন নাছীর মামদূহ্ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলাহ্ আলাইহিস সালাম
(সৃষ্টির ইতিহাসে এই প্রথম সাইয়্যিদুনা সুলত্বানুন নাছীর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত নূরুস সালাম মুবারক-এ পবিত্র কুদরত মুবারক উনার হাক্বীক্বত মুবারক প্রকাশ)- ৪৯
, ১৯ যিলহজ্জ শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০৭ আউওয়াল, ১৩৯৪ শামসী সন , ০৬ জুন, ২০২৬ খ্রি:, ২৩ জৈষ্ঠ্য, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ
পবিত্র কুদরত মুবারক উনার কাইফিয়্যাত মুবারক সম্পর্কে কল্পনাতীত বেমেছাল খোদায়ী ইলিম মুবারক বিতরণ:
আমার বলার মূল বিষয় হচ্ছে যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বুলন্দী শান মুবারক যদি কেউ না বুঝে, তাহলে উনাকে সে সম্মান করবে কিভাবে? একটা লোককে যদি মানুষ না চিনে, তাহলে সম্মান করবে কিভাবে? একজন অনেক বড় বুযূর্গ লোক হেটে গেলো, লোকজন দেখলো; কিন্তু চিনে না। তাহলে তো সম্মান করতে পারবে না। সম্মান করা তো উচিত ছিলো। যেমন- হযরত রুহুল আমীন বশীরহাটী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার কিতাবে উল্লেখ করেছেন যে, আবূ সাঈদ তামীমী ৫৮০ হিজরী শরীফ-এ দামেস্কে বর্ণনা করেছিলো, “আমি যুবক অবস্থায় ইলিম অর্জনের জন্য বাগদাদ শরীফ-এ উপস্থিত হয়েছিলাম। সে সময় নিজামিয়া মাদরাসাতে ইবনে ছাক্কা নামে আমার একজন সহপাঠী ছিলো। আমরা উভয়ে ইবাদত-বন্দেগী, যিকির-ফিকির করতাম। পাশাপাশি সেখানের বুযূর্গগণ উনাদের ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করতাম। বাগদাদ শরীফ-এ সে সময় একজন গাউছ ছিলেন। (উনার নাম মুবারক ছিলেন খাজা আবূ ইঊসুফ হামদানী রহমতুল্লাহি আলাইহি।) তিনি অনেক সময় মানুষের চোখের আড়াল হয়ে যেতেন। একবার হযরত শায়েখ আব্দুল ক্বাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনিসহ আমি ও ইবনে ছাক্কা আমরা তিনজন উক্ত গাউছ উনার যিয়ারতের উদ্দেশ্যে (সাক্ষাৎ লাভের ইচ্ছায়) বাড়ি থেকে বের হলাম। আমরা রাস্তা দিয়ে গমনকালে ইবনে ছাক্কা বললো, ‘আমি উক্ত গাউছ উনাকে এমন একটি প্রশ্ন করবো, যার উত্তর দিতে তিনি সক্ষম হবেন না।’ না‘ঊযুবিল্লাহ! আমি বললাম, ‘আমিও উনাকে একটি প্রশ্ন করবো, দেখি তিনি কি উত্তর দেন।’ না‘ঊযুবিল্লাহ! (তারও উদ্দেশ্য ছিলো তিনি উত্তর দিতে পারবেন না। না‘ঊযুবিল্লাহ!) সাইয়্যিদুল আওলিয়া হযরত বড়পীর ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, ‘না‘ঊযুবিল্লাহ! আমি উনার যিয়ারত মুবারক করে বরকত লাভের আশা পোষণ করি, উনার সামনে উপস্থিত হয়ে আমি কোনো প্রশ্ন করতে পারবো না।’
অতঃপর আমরা তিনজন উনার নিকট উপস্থিত হয়ে উনার স্থানে উনাকে দেখতে পেলাম না, তিনি গায়েব (অদৃশ্য) ছিলেন। একটু পর তিনি যাহির (প্রকাশ) হয়েছেন, উনাকে সেখানে বসা দেখতে পেলাম। তারপর তিনি ইবনে ছাক্কার দিকে অসন্তুষ্ট অবস্থায় তাকালেন এবং বললেন, ‘হে ইবনে ছাক্কা! তোমার জন্য আফসোস! তুমি বলেছিলে যে, তুমি আমার নিকট এমন প্রশ্ন করবে, যার উত্তর দিতে আমি সক্ষম হবো না। তোমার প্রশ্ন হচ্ছে এই, তার উত্তর এই। আমি দেখতে পাচ্ছি যে, কুফরীর আগুন তোমাকে ঘিরে নিয়েছে অর্থাৎ তুমি জাহান্নামী।’ এরপর তিনি আমার দিকে দৃষ্টিপাত করে বললেন, ‘হে আবূ সাঈদ! তুমি না বলেছিলে যে, আমাকে তুমি এমন একটি প্রশ্ন করবে, যার উত্তর আমি দিতে পারি কিনা তা দেখবে। তোমার প্রশ্ন হচ্ছে এই, তার উত্তর এই। আমি দেখতে পাচ্ছি যে, দুনিয়া তোমার মাথা ঘিরে নিয়েছে। অর্থাৎ তুমি দুনিয়াদার হয়ে মারা যাবে।’ তারপরে তিনি হযরত শায়েখ আব্দুল ক্বাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার দিকে দৃষ্টিপাত করে বললেন, ‘আপনি যে আদব রক্ষা করেছেন, সেজন্য মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অর্থাৎ উনারা আপনার উপর অত্যন্ত সন্তুষ্ট হয়েছেন। আমি দেখতে পাচ্ছি যে, আপনি কুরসির উপর আরোহণ করে বলছেন- ‘আমার এই ক্বদম মুবারক আমার সমসময়িক প্রত্যেক ওলীআল্লাহ উনাদের গর্দানের উপর।’ আমি আপনার সমসময়িক ওলীআল্লাহ উনাদেরকে দেখছি যে, আপনাকে সম্মান করার উদ্দেশ্যে উনারা নিজেদের গর্দান অবনত করছেন।’ তারপর উক্ত গাউছ তিনি গায়েব (অদৃশ্য) হয়ে গেলেন। এরপর আমরা আর উনাকে দেখতে পাইনি।
উক্ত গাউছ তিনি হযরত বড়পীর ছাহবে রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সম্পর্কে যা বলেছেন, পরবর্তীতে তাই সংঘটিত হয়েছে। আর ইবনে ছাক্কা ইলমে ফিক্বাহ্ বা কিতাবী ইলিম শিক্ষা করে তাতে পারদর্শী হয়েছিলো। তার সাথে বাহাছে কেউ বিজয় লাভ করতে পারেনি। তৎকালীন শাসক তাকে উন্নত পদে সমাসীন করে কনস্টান্টিনোপালের খ্রিস্টান শাসকের নিকট দূত হিসেবে পাঠালো। এক পর্যায়ে সে শাসকের কন্যাকে দেখে বিমুগ্ধ হয়ে শাসকের নিকট তার কন্যাকে বিবাহের জন্য প্রস্তাব দিলো। শাসক তার খ্রিস্টান হওয়া ব্যতীত বিবাহে সম্মত হলো না। ইবনে ছাক্কা খ্রিস্টান হয়ে শাসকের কন্যাকে বিবাহ করলো। না‘ঊযুবিল্লাহ! আর সুলতান নুরুদ্দীন শাহী তিনি আবূ সাঈদকে দামেস্কে নিয়ে এসে ওয়াক্ফ সম্পত্তিগুলোর কর্তৃত্ব দিলেন। এতে, সে সম্পূর্ণরূপে দুনিয়াদারীতে লিপ্ত হয়ে গেলো।” না‘ঊযুবিল্লাহ!
এখন বলার বিষয় হচ্ছে- একজন গাউছ উনাকে সম্মান না করার কারণে একজন খ্রিষ্টান হয়ে বেঈমান হয়ে মারা গেলো এবং অপরজন দুনিয়াদার হয়ে মারা গেলো। তাহলে কেউ যদি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মান না করে, তাহলে তার অবস্থা কী হবে? ঐটা তো একবারে সর্ব নিকৃষ্ট জাহান্নামী হবে। তাহলে উনাকে চিনা দরকার আছে, বুঝার দরকার আছে। উনাকে না চিনার কারণেই তো তারা উল্টা-পাল্টা লিখে।
এই যে মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের শান মুবারক-এ মনে যেটা আসে, সেটাই লেখে। প্রকৃতপক্ষে এরা চরম গাফিল। বললে শুনতে খারাপ শুনা যায়। অনেক বড় ইমাম-মুজতাহিদ ইত্যাদি। কি হয়েছে ইমাম-মুজতাহিদ হয়েছে? ইমাম-মুজতাহিদ মূল বিষয় না। মূল বিষয় হচ্ছেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি। উনার শান মুবারক যারা বুঝে না, তারা কিসের আবার ইমাম-মুজতাহিদ? কিসের ছিক্বাহ্ রাবী? এটা তো কঠিন বিষয়। এটা তো অনেক সূক্ষ্ম বিষয়।
-মুহাদ্দিছ মুহম্মদ আল আমীন।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
‘উম্মী’ শব্দ নিয়ে বাতিলপন্থীদের মিথ্যাচারের চূড়ান্ত জবাব (১৩)
০৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাঝে ফানা ও বাক্বা সারা কায়িনাত (৪)
০৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক (৩)
০৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাঝে ফানা ও বাক্বা সারা কায়িনাত (৩)
০৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক (২)
০৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাঝে ফানা ও বাক্বা সারা কায়িনাত (২)
০৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক (১)
০৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
(সৃষ্টির ইতিহাসে এই প্রথম সাইয়্যিদুনা সুলত্বানুন নাছীর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত নূরুস সালাম মুবারক-এ পবিত্র কুদরত মুবারক উনার হাক্বীক্বত মুবারক প্রকাশ)- ৪৮
০৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
০৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাঝে ফানা ও বাক্বা সারা কায়িনাত (১)
০৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
(সৃষ্টির ইতিহাসে এই প্রথম সাইয়্যিদুনা সুলত্বানুন নাছীর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত নূরুস সালাম মুবারক-এ পবিত্র কুদরত মুবারক উনার হাক্বীক্বত মুবারক প্রকাশ)- ৪৭
০৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
০৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












