সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মী বা’দা উম্মী আল ঊলা আলাইহাস সালাম
বিলাদত শরীফ: হিজরত পূর্ব ৬৭ সন বিছাল শরীফ: ২৮ হিজরী (৬৫০ খ্রি:) বয়স মুবারক: ৯৫ বছর
, ২২ রজবুল হারাম শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৪ ছামিন, ১৩৯৩ শামসী সন , ১২ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ২৮ পৌষ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) সাওয়ানেহ উমরী মুবারক
পরিচিতি মুবারক:
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিতা মাতা আলাইহাস সালাম উনার পর যিনি সম্মানিতা মাতা আলাইহাস সালাম। উম্মে আয়মান উনার উপনাম। আয়মান নামে উনার একজন সন্তান ছিলেন। উনার দিকে সম্পর্কিত হয়ে তিনি এই কুনিয়াত বা উপনামে অভিহিত হন। উনার আসল ইসিম বা নাম মুবারক হচ্ছেন, হযরত বারাকাহ্ বিনতু ছা‘লাবা বিন আমর বিন মালিক আলাইহাস সালাম।
উনার সম্মানিত কুনিয়াত মুবারকসমূহ হচ্ছেন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু আয়মান আলাইহাস সালাম, হযরত উম্মু উসামাহ্ আলাইহাস সালাম, হযরত উম্মুয যিবা’ আলাইহাস সালাম। তিনি উনার উপনামেই প্রসিদ্ধ ছিলেন।
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মী বা’দা উম্মী আল ঊলা আলাইহাস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত পিতা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম অর্থাৎ সাইয়্যিদুনা হযরত আবূ রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আযাদকৃত খাদিমা ছিলেন।
কায়িনাতের বুকে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মী বা’দা উম্মী আল ঊলা আলাইহাস সালাম তিনিই একমাত্র ব্যক্তিত্ব যিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদতী শান মুবারক উনার পূর্ব থেকে দীদার মুবারকে তাশরীফ মুবারক নেয়া পর্যন্ত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!
পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ:
উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের সন, তারিখ পৃথিবীর কোন কিতাবাদী, পত্র-পত্রিকায় উল্লেখ নেই। তবে মুজাদ্দিদে আ’যম সাইয়্যিদুনা সুলত্বানুন নাছীর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মী বা’দা উম্মী আল ঊলা আলাইহাস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের ১৪ বছর পূর্বে ২৮শে ছফর শরীফ ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) হাবশায় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ!
খিদমত মুবারকের সার্বক্ষণিক আঞ্জাম দান:
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মী বা’দা উম্মী আল ঊলা আলাইহাস সালাম তিনি ঠিক কোন সময়ে হাবশা হতে মক্কা শরীফে আনীত হন তার সঠিক তথ্য পাওয়া যায় না। উনার সম্মানিত পিতা হচ্ছেন- সাইয়্যিদুনা হযরত ছা’লাবাহ্ রহমতুল্লাহি আলাইহি। এবং উনার সম্মানিত মাতা হচ্ছেন- সাইয়্যিদাতুনা হযরত উয্রা রহমতুল্লাহি আলাইহা। সুবহানাল্লাহ!
তৎকালে গোলাম, বাঁদীর ক্রয় বিক্রয় একটা সামাজিক স্বীকৃত প্রথা হিসাবে চালু ছিল। এ সব গোলাম-বাঁদীদের অনেককেই মালিক বা গৃহ-কর্তীর কঠোর আচরণে নিষ্পিষ্ট হয়ে নিপীড়িত জীবন যাপন করতে হতো। সেদিক হতে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মী বা’দা উম্মী আল ঊলা আলাইহাস সালাম তিনি ছিলেন অত্যন্ত ভাগ্যবতী। কারণ উনার মুনিব ছিলেন কুরাইশ গোত্রের প্রধান সাইয়্যিদুন নাস্ হযরত আবদুল মুত্তালিব আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত, অত্যন্ত দয়ালু ও নেককার আওলাদ সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম।
সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সঙ্গে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র নিসবাতুল আযীমাহ শরীফের (শাদী মুবারক) পরপরই উনার পরিবারে একমাত্র সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মী বা’দা উম্মী আল ঊলা আলাইহাস সালাম তিনি গৃহের কাজকর্ম দেখাশুনা করতেন এবং হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিত্য খাদিমা হিসেবে নিয়োজিত থাকতেন।
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মী বা’দা উম্মী আল ঊলা আলাইহাস সালাম উনার বর্ণনা অনুযায়ী, হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র নিসবাতুল আযীমাহ শরীফের মাত্র দুই সপ্তাহ পরেই উনার পিতা হযরত আব্দুল মুত্তালিব আলাইহিস সালাম তিনি এসে সম্মানিত আওলাদ হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে আদেশ মুবারক দিলেন যে, উনাকে একটি ব্যবসায়িক কাফেলার সাথে সিরিয়া সফরে যেতে হবে। ইহা শুনে হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি খুবই চিন্তিত হন।
হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সিরিয়া গমন ছিল হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য অত্যন্ত হƒদয়-বিদারক। হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সিরিয়া সফরে গমনের পর হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জুদায়ীর কারণে তিনি মারিদ্বী শান মুবারক প্রকাশ করেন। দীর্ঘ দিন তিনি শয্যাশায়ী ছিলেন। এই সময় সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মী বা’দা উম্মী আল ঊলা আলাইহাস সালাম তিনিই ছিলেন উনার একমাত্র সান্ত¡না-দাতা এবং সার্বক্ষণিক সঙ্গী।
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মী বা’দা উম্মী আল ঊলা আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার বিদায়ের দুই মাস পরে কোন এক প্রত্যুষে হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাকে ডাকেন। খুশিতে উনার চেহারা মুবারক উৎফুল্ল দেখাচ্ছিল। হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি খুশির আতিশয্যে বললেন, হে বারাকাহ! আমি একটি বিস্ময়কর স্বপ্ন মুবারক দেখেছি। আমি দেখলাম, আমার সম্মানিত নূরুল ওয়ারা’ (পেট) মুবারক হতে একটি মহান নূর মুবারক বের হয়ে পাহাড় পর্বত এবং মক্কা শরীফ উনার সমগ্র উপত্যকা আলোকিত করেছেন। তখন আমি বললাম, আপনি কি রেহেম মুবারকে কোন সন্তান ধারণ করেছেন বলে মনে করেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ, তবে অন্যরা যেরূপ অসুবিধা অনুভব করে সেরূপ নয়। সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মী বা’দা উম্মী আল ঊলা আলাইহাস সালাম বললেন, তবে সম্ভবতঃ আপনি এমন একজন ভাগ্যবান সন্তান ধারণ করেছেন যিনি অনেক কল্যাণের অধিকারী হবেন।
যতদিন হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি বিদেশ সফরে ছিলেন, হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি দুঃখ ভারাক্রান্ত ছিলেন। সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মী বা’দা উম্মী আল ঊলা আলাইহাস সালাম তিনি উনার পাশে থেকে সব সময় সান্ত¡না দিয়ে, উনার সাথে কথা-বার্তা বলে এবং বিভিন্ন ঘটনা মুবারক শুনিয়ে উনাকে খুশি করতে চেষ্টা করতেন।
আবরাহা যখন পবিত্র কা’বা শরীফ উনার ক্ষতিসাধনে আসলো তখন হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এসে অন্যান্য সকলের মত হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে ঘর ছেড়ে পাহাড়ে উঠতে বললেন। তখন হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অত্যন্ত দৃঢ়চিত্তে পাহাড়ে উঠতে অস্বীকার করলেন, কারণ উনার জানা ছিল যে, আবরাহা পবিত্র মক্কা শরীফে প্রবেশ করতে পারবে না এবং মহান আল্লাহ পাক উনার পবিত্রতম ঘর মুবারকও ভাঙ্গতে পারবে না। পরবর্তীতে তাই হলো। আবরাহা তার হস্তী বাহিনী নিয়ে পবিত্র মক্কা শরীফ উনার অদূরে সমূলে বিনাশ প্রাপ্ত হলো।
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মী বা’দা উম্মী আল ঊলা আলাইহাস সালাম তিনি রাত-দিন একাকার করে হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সার্বক্ষণিক খিদমত মুবারকে নিয়োজিত থাকেন। সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মী বা’দা উম্মী আল ঊলা আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, আমি উনার বিছানা মুবারকের পাশে ঘুমাতাম এবং রাতে হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার জুদায়ীর কারণে উনার নিরব কান্না মুবারক শ্রবণ করতাম। কোন কোন সময় উনার নিরব কান্না মুবারক শুনে আমি জাগ্রত হয়ে উঠতাম এবং উনাকে সান্ত¡না ও সাহস দিতাম।
অনেকদিন পর সিরিয়া-গামী ব্যবসায়িক কাফেলার প্রথম দল ফিরে আসল এবং পবিত্র মক্কা শরীফ উনার ব্যবসায়ী পরিবারগুলি তাদেরকে খুশির সাথে সংবর্ধনা প্রদান করলো। সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মী বা’দা উম্মী আল ঊলা আলাইহাস সালাম গোপনে হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার গৃহে গমন করলেন হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার খবর নেয়ার জন্য। কিন্তু উনার কোন খবর পাওয়া গেল না। তিনি হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট ফিরে আসলেন, কিন্তু তিনি কি দেখেছেন বা কি শুনেছেন এ সম্পর্কে কিছুই বললেন না, কারণ এতে তিনি আরো মর্মাহত হতে পারেন। ক্রমে সমস্ত কাফেলা ফিরে আসলো, কিন্তু হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি ফিরে আসলেন না।
পরবর্তীতে যখন পবিত্র মদীনা শরীফ হতে খবর আসল যে, হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেছেন, তখন সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মী বা’দা উম্মী আল ঊলা আলাইহাস সালাম তিনি হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ঘরে ছিলেন। তিনি বলেন, আমি যখন এই খবর শুনলাম, আমার সংজ্ঞা বিলুপ্ত হল। আমি জানি না, এ খবর শোনার পর আমি কি কি করেছি। তবে এইটুকু মনে আছে যে, আমি কান্না করতে করতে অতি দ্রুত হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হুজরা শরীফে গেলাম। আমরা এতদিন যাঁর আগমন অপেক্ষায় প্রহর গুনছিলাম, যেই মহান সত্ত্বা মুবারক, পবিত্র মক্কা শরীফ উনার সবচেয়ে সুন্দর যুবক, কুরাইশ গোত্রের গর্ব, সেই হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি দুনিয়া হতে বিদায় নিয়েছেন।
হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন এই খবর শুনতে পেলেন, তিনি তখন অত্যাধিক হুযুনী শান মুবারকে (বেহুঁশী শান মুবারক) সময় অতিবাহিত করছিলেন, আমি উনার পাশেই অবস্থান করছিলাম। উনার শুশ্রুষা করার মত উনার হুজরা শরীফে আমি ব্যতীত আর কেউ ছিল না। আমি আমার সাধ্য-সামর্থ্য অনুযায়ী সর্বদিক থেকে দিবা-রাত্র নিরলসভাবে উনার সেবা শুশ্রুষা করতে লাগলাম। অতঃপর এক সুমহান রাতে উনার মহাসম্মানিত হুজরা শরীফ আলোকিত করে উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র সন্তান নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সৃষ্টির প্রতি ইহসান করে বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করলেন, যাঁর মুবারক তাশরীফ বা আগমনে সারা পৃথিবীর ঘন অন্ধকার বিদূরিত হলো। সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মী বা’দা উম্মী আল ঊলা আলাইহাস সালাম তিনিই ছিলেন প্রথম ব্যক্তিত্ব যিনি মহাসম্মানিত মহাপবিত্র লখতে জিগার নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দুই নূরুল মাগফিরাত মুবারক বা হাত মুবারক ধারণ করেন। সুবহানাল্লাহ!
অতঃপর উনার সম্মানিত দাদা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এসে মহাসম্মানিত মহাপবিত্র ওজুদ পাক নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে কোল মুবারকে নিয়ে পবিত্র কা’বা শরীফ তাওয়াফ করে আসেন।
তৎকালীন নিয়ম অনুযায়ী অভিজাত ঘরের শিশুগণকে মরুভূমির মুক্ত পরিবেশে প্রতিপালিত হওয়ার জন্য ও মিষ্টভাষী আরবদের বিশুদ্ধ ভাষা আয়ত্ব করার জন্য মরুভূমিতে অবস্থানকারী কোন দায়ীর নিকট সমর্পন করা হতো। মহাসম্মানিত মহাপবিত্র ওজুদ পাক নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকেও যখন সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুর রদ্বাআহ আছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম (হযরত হালিমা সা’দিয়াহ আলাইহাস সালাম) উনার নিকট দুধ পানের নিমিত্তে সমর্পন করা হলো তখনও সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মী বা’দা উম্মী আল ঊলা আলাইহাস সালাম তিনি হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার একমাত্র খাদিমা হিসাবে অবস্থান করছিলেন।
যখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দুনিয়াবী বয়স মুবারক ৬ বৎসর, তখন উনার সম্মানিতা মাতা হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন, উনার সম্মানিত আহাল বা যাওজুম মুর্কারম আলাইহিস সালাম উনার রওজা মুবারক যিয়ারত করে আসবেন। সে অনুযায়ী কোন এক সকালে উনারা তিনজন একত্রে- হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মী বা’দা উম্মী আল ঊলা আলাইহাস সালাম ও সম্মানিত ওজুদ পাক নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা সিরিয়াগামী একটি বড় কাফেলার সাথে একটি বৃহৎ উটের উপর একটি হাওদায় আরোহণ পূর্বক রওয়ানা হলেন।
কাফেলা পবিত্র মদীনা শরীফে পৌঁছতে ১০ দিন সময় লাগলো। হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে মদীনা শরীফে বনু নাজ্জার গোত্রে উনার মামাদের বাড়ীতে রেখে সম্মানিত যাওজুম মুর্কারম আলাইহিস সালাম উনার যিয়ারত মুবারকে গেলেন। যে কয়েক সপ্তাহ তিনি পবিত্র মদীনা শরীফে ছিলেন প্রতিদিনই তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মী বা’দা উম্মী আল ঊলা আলাইহাস সালাম উনাকেসহ সম্মানিত যাওজুম মুর্কারম আলাইহিস সালাম উনার যিয়ারত মুবারকে যেতেন এবং নীরবে অশ্রু বর্ষণ করতেন।
হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র মক্কা শরীফে ফেরার পথে উনার জ্বর আসলো। পবিত্র মদীনা শরীফ ও মক্কা শরীফ উনাদের মাঝ-পথে “আবওয়া” নামক স্থানে তিনি অবতরণ পূর্বক অবস্থান করতে লাগলেন। অতি দ্রুত উনার মারিদ্বী শান মুবারক বেড়ে গেল। এমতাবস্থায় তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মী বা’দা উম্মী আল ঊলা আলাইহাস সালাম উনাকে ডেকে অল্প আওয়াজে বললেন, হে বারাকাহ! অতি সত্বর আমি দুনিয়া ছেড়ে চলে যাব। আমি আমার সম্মানিত আওলাদ-সন্তান উনাকে আপনার নিকট অর্পন করলাম। তিনি যখন আমার খিদমত মুবারকে (রেহেম মুবারকে) ছিলেন তখন উনার সম্মানিত পিতা আলাইহিস সালাম উনাকে হারিয়েছেন। আর এখন উনার চোখের সামনে উনার সম্মানিতা মাতা আলাইহাস সালাম উনাকেও হারাচ্ছেন। আপনাকে উনার সম্মানিতা মাতা উনার স্থলাভিষিক্ত হতে হবে এবং কখনও উনাকে ছেড়ে যাবেন না।
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মী বা’দা উম্মী আল ঊলা আলাইহাস সালাম বলেন, আমার অন্তর চৌচির হয়ে যাচ্ছিল, দুঃখে আমি ক্রন্দন করতে লাগলাম। আমার কান্না দেখে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিও আমার দিকে তাকিয়ে থাকলেন এবং নূরুল মুহব্বত মুবারক (কান্না মুবারক) করতে লাগলেন। তিনি উনার সম্মানিতা মাতা আলাইহাস সালাম উনার বাহু মুবারকের অভ্যন্তরে এসে উনার গলা মুবারক জড়িয়ে ধরলেন।
হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিছালী শান মুবারক প্রকাশ এবং সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মী বা’দা উম্মী আল ঊলা আলাইহাস সালাম উনার অবিরত ধারায় কান্না মুবারক করা:
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মী বা’দা উম্মী আল ঊলা আলাইহাস সালাম উনাকে ওছীয়ত মুবারক করার পর হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বসা থাকা অবস্থায় উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র আওলাদ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে কোল মুবারকে নিয়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাপবিত্র নূরুর রহ্মাত মুবারক (মহাপবিত্র চেহারা মুবারক) উনার দিকে তাকিয়ে উনার সম্মানিত শান মুবারক-এ সর্বকালের সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ ‘সুমহান না’ত শরীফ’ পাঠ করতে করতে শুয়ে পড়েন এবং এমতাবস্থায় মহান আল্লাহ পাক উনার আহ্বান মুবারকে সাড়া দিয়ে বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন অর্থাৎ দীদার মুবারকে তাশরীফ মুবারক নেন। সুবহানাল্লাহ! সময়টি ছিলো সকাল ৯-১০টার মধ্যে। অর্থাৎ ছলাতুল ইশরাকের ওয়াক্ত শেষ এবং ছলাতুদ্ব দ্বুহা বা চাশতের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পর। সুবহানাল্লাহ! তখন কায়িনাতের মাঝে কিরূপ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিলো সেটা জিন-ইনসান, কায়িনাতবাসী কেউ চিন্তা ও কল্পনা করে ঠিক থাকতে পারবে না। স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার মহাসম্মানিত হযরত আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনার জুদায়ী মুবারকের কারণে অবিরত ধারায় মহাপবিত্র নূরুল মুহব্বত মুবারক প্রবাহিত করতে থাকেন। উনার সাথে সাথে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মী বা’দা উম্মী আল ঊলা আলাইহাস সালাম তিনিও অবিরত ধারায় কান্না করতে থাকেন। শুধু তাই নয়, সমস্ত হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা, জিন, গাছ-পালা, তরু-লতা, চন্দ্র-সূর্য, আকাশ-বাতাস এক কথায় সমস্ত কায়িনাত কান্না করতে থাকে। জিনেরা উনার শান মুবারক-এ শোকগাঁথা অর্থাৎ সম্মানিত না’ত শরীফ পাঠ করে। সুবহানাল্লাহ!
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে নিয়ে পবিত্র মক্কা শরীফ-এ রওয়ানা:
মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত মুবারকে হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত গোসল মুবারক এবং সম্মানিত কাফন মুবারক সুসম্পন্ন করা হয়। সুবহানাল্লাহ! অতঃপর মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত নির্দেশ মুবারক অনুযায়ী হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা উক্ত পবিত্র আবওয়া নামক স্থানে হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র রওযা শরীফ উনার পাশে হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র রওযা শরীফ খনন করেন। অতঃপর অত্যন্ত আদব ও তা’যীম-তাকরীমের সাথে উনাকে পবিত্র রওযা শরীফ উনার মধ্যে রাখা হয়। সুবহানাল্লাহ! অতঃপর সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মী বা’দা উম্মী আল ঊলা আলাইহাস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে নিয়ে পবিত্র মক্কা শরীফ প্রত্যাবর্তন করে উনার দাদা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তত্ত্বাবধানে অর্পন করলেন এবং নিজেও উনার যতœ নেয়ার জন্য উনার ঘরে অবস্থান করতে লাগলেন। দুই বৎসর পরে যখন হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করলেন, তখন সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মী বা’দা উম্মী আল ঊলা আলাইহাস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে নিয়ে উনার চাচা আবু তালিবের ঘরে গেলেন এবং বড় হওয়া পর্যন্ত অর্থাৎ হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা কুবরা আলাইহাস সালাম উনার সাথে নিসবতে আযীমাহ মুবারক (বিবাহ মুবারক) হওয়া পর্যন্ত তিনি উনার তত্ত্বাবধানে থাকেন।
পবিত্র নিসবাতুল আযীমাহ শরীফ:
অতঃপর সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মী বা’দা উম্মী আল ঊলা আলাইহাস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা কুবরা আলাইহাস সালাম উনাদের সাথে অবস্থান করতে থাকেন। সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মী বা’দা উম্মী আল ঊলা আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, আমি উনাকে ছাড়িনি এবং তিনিও আমাকে ছাড়েননি। একদিন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মী বা’দা উম্মী আল ঊলা আলাইহাস সালাম উনাকে ডেকে বললেন, ইয়া উম্মাহ! (হে আমার মা!) আমি এখন বিবাহিত, কিন্তু আপনি এখনও অবিবাহিতা। আপনার কি ইচ্ছা হয়, কেউ যদি আপনার সাথে বিবাহের প্রস্তাব দেয়, তবে আপনি তা গ্রহণ করবেন? সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মী বা’দা উম্মী আল ঊলা আলাইহাস সালাম তিনি সম্মত হচ্ছিলেন না। কারণ পরে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ছেড়ে যেতে হয় কিনা? সেই চিন্তা করে তিনি প্রথমে রাজী হচ্ছিলেন না। পরবর্তীতে হযরত উবায়েদ ইবনুল হারেছ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু যিনি ছিলেন পবিত্র মদীনা শরীফের খাযরাজ গোত্রের ব্যক্তি উনার সাথে বিবাহের প্রস্তাব নিয়ে আসা হলো। অবশেষে হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা কুবরা আলাইহাস সালাম উনার মুবারক সম্মতিতে তিনি বিবাহের প্রস্তাবে রাজী হলেন। উনার এই সম্মানিত আহাল উনার ঘরে একজন সন্তান বিলাদত শরীফ গ্রহণ করেন। যাঁর নাম রেখেছিলেন “হযরত আয়মান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু”। আর এই জন্যেই সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মী বা’দা উম্মী আল ঊলা আলাইহাস সালাম উনাকে উম্মে আয়মান আলাইহাস সালাম বলে ডাকা হতো। উনার সন্তান হযরত আয়মান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি হিজরত করেছিলেন এবং জিহাদও করেছিলেন। তিনি হুনাইনের জিহাদে শহীদ হয়েছিলেন। (সিয়ারু আ’লামিন নুবালা)
পবিত্র দ্বীন ইসলাম গ্রহণ এবং হিজরত মুবারক:
শুরুতেই দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন বলে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মী বা’দা উম্মী আল ঊলা আলাইহাস সালাম উনাকে “আস-সাবিকূনাল-আউওয়ালূন” (প্রাথমিক মুসলমান) উনাদের মধ্যে গণ্য করা হয়। তিনি হাবশায় এবং পরে পবিত্র মদীনা শরীফে হিজরত করেন। পবিত্র মদীনা শরীফে হিজরতের ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি নিজেই বলেন, পবিত্র মক্কা শরীফ হতে মদীনা শরীফের উদ্দেশ্যে বের হলাম। আমার কোন বাহন ও পাথেয় ছিল না। পবিত্র মদীনা শরীফের উপকন্ঠে মুনছারিফ নামক স্থানে উপস্থিত হলাম। ঐ দিন রোযা ছিলাম। ইফতারের সময় কোন পানি পেলাম না। পিপাসার কারণে পানি পানের খুব ইচ্ছা জাগলো। এমন সময় আকাশ হতে আমার শিয়রের কাছে একটি পানি ভরা বালতি নামতে দেখলাম। পরিতৃপ্তি সহকারে এই পানি পান করলাম। বালতিটি আকাশের দিকে উঠে গেল। ফল এই দাঁড়ায় যে, আমি জীবনে আর কখনও পিপাসার্থ হইনি। এমনকি প্রচ- গরমে দুপুরেও রোযা অবস্থায় আমার পিপাসা হয় না। (তবাকাত, হায়াতুছ ছাহাবা)
ফযীলত ও মর্যাদা:
পবিত্র উহুদ, খাইবার, হুনাইনসহ বিভিন্ন জিহাদে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে তিনি যোগদান করেছেন। তিনি সৈনিকগণকে পানি পান করাতেন এবং আহতদের শুশ্রুষা করতেন।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাকে অত্যন্ত সম্মান করতেন। উনাকে তিনি “উম্মাহ” (আমার মা) বলে সম্বোধন করতেন এবং বলতেন, আমার মাতা আলাইহাস সালাম উনার পর আপনিই আমার মাতা।
পবিত্র মদীনা শরীফের কাজী আবু বকর ইবনে হাজ্জ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সম্মুখে জনৈক ব্যক্তি তাচ্ছিল্য ভরে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মী বা’দা উম্মী আল ঊলা আলাইহাস সালাম উনার নাম মুবারক উল্লেখ করলে সেই কাজী ঐ ব্যক্তিকে শাস্তি হিসাবে সত্তরটি বেত্রাঘাত করে বলেছিলেন, স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যাঁকে মা বলে সম্বোধন করতেন, উনাকে তুমি নাম ধরে তাচ্ছিল্যভরে উল্লেখ করলে? তোমাকে ক্ষমা করলে মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাকে ক্ষমা করবেন না।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি প্রায়ই সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মী বা’দা উম্মী আল ঊলা আলাইহাস সালাম উনার বাড়ীতে গিয়ে খোঁজ খবর নিতেন।
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মী বা’দা উম্মী আল ঊলা আলাইহাস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে বহু হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন।
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মী বা’দা উম্মী আল ঊলা আলাইহাস সালাম উনার প্রথম আহাল বা স্বামীর ইনতিকালের পর প্রখ্যাত ছাহাবী হযরত যায়েদ বিন হারিছাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সাথে উনার দ্বিতীয় নিসবাতুল আযীমাহ মুবারক অনুষ্ঠিত হয়।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, বেহেশতী কোন মহিলাকে শাদী করতে যদি কারো বাসনা হয় তবে তিনি যেন সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মী বা’দা উম্মী আল ঊলা আলাইহাস সালাম উনাকে শাদী মুবারক করেন। সুবহানাল্লাহ!
এই কথা শুনে হযরত যায়েদ বিন হারিছাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি উনাকে নিসবাতুল আযীমাহ মুবারক করেন। এই নিসবাতুল আযীমাহ মুবারক বা শাদী মুবারক নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আনুষ্ঠানিক রিসালাত মুবারক প্রকাশের প্রথম দিকে সংঘটিত হয়। (সিয়ারু আ’লামিন নুবালা)
তখন সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মী বা’দা উম্মী আল ঊলা আলাইহাস সালাম মোটামোটি ভালো বয়সেই উপনীত হয়েছিলেন। উনাদের মাধ্যম দিয়ে হযরত উসামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন, যিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অত্যন্ত প্রিয় ছিলেন। হযরত যায়েদ বিন হারিছাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি মুতার জিহাদে শহীদ হন।
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মী বা’দা উম্মী আল ঊলা আলাইহাস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে মনে প্রাণে মুহব্বত করতেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যতদিন নূরুল আহরার ও নূরুল হাসানাহ মুবারক অর্থাৎ শৈশবাবস্থায় ছিলেন, উনার কষ্ট হবে ভেবে তিনি ততদিন নিসবতে আযীমাহ শরীফ সম্পন্ন করার চিন্তাও করেননি। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিছালী শান মুবারক প্রকাশ অর্থাৎ দীদার মুবারকে তাশরীফ মুবারক নেয়ার খবর শুনে তিনি খুবই আঘাত পেয়েছিলেন। তিনি তখন খুব কাঁদতেন। একবার আফদ্বালুন নাস বা’দাল আম্বিয়া সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম ও সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনারা সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মী বা’দা উম্মী আল ঊলা আলাইহাস সালাম উনার সাথে সাক্ষাত করতে গেলে দেখতে পেলেন যে, তিনি খুব কাঁদছেন। উনারা উনাকে সান্ত¡না দিতে গিয়ে বললেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে যা আছে তাই উত্তম। সুতরাং এত কাঁদছেন কেন? সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মী বা’দা উম্মী আল ঊলা আলাইহাস সালাম তিনি বললেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এই কথা আমি জানি। তবে এইজন্য কাঁদছি যে, এখন ওহী মুবারক আসার বরকত হতে দুনিয়াবাসী মাহরুম হয়ে গেল। এ কথা শুনে উনারা দু’জনও কাঁদতে লাগলেন। অনুরূপভাবে সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি শাহাদাত বরণ করলে তিনি কাঁদতে কাঁদতে বলতে থাকেন, আজ দ্বীন ইসলাম দুর্বল হয়ে গেল। (সিয়ারু আ’লামিন নুবালা)
পরবর্তীকালে সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার শাহাদাতের খবরে তিনি বলেছিলেন, আজ দ্বীন ইসলাম শহীদ হয়ে গেল।
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মী বা’দা উম্মী আল ঊলা আলাইহাস সালাম উনার মতো নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক হতে বিছালী শান মুবারক অর্থাৎ দীদার মুবারকে তাশরীফ মুবারক নেয়া পর্যন্ত উনার এইরূপ নিকটতম সান্নিধ্যে অবস্থান করার সৌভাগ্য অন্য কেউ পাননি। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পারিবারিক জীবনে উনার খিদমত মুবারকের আঞ্জাম দেয়া ছিল নিঃস্বার্থ ও অতুলনীয়। তদুপরি সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার প্রতি উনার দৃঢ় ও অটল বিশ্বাস ছিল।
পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ:
উনার পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশের সন, তারিখ পৃথিবীর কোন কিতাবাদী, পত্র-পত্রিকায় পাওয়া যায় না। তবে মুজাদ্দিদে আ’যম সাইয়্যিদুনা সুলত্বানুন নাছীর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মী বা’দা উম্মী আল ঊলা আলাইহাস সালাম তিনি আমীরুল মু’মিনীন, খ¦লীফাতুল মুসলিমীন, সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার খিলাফত মুবারক চলাকালীন ২৮ হিজরী শরীফ উনার ২৯শে যিলহজ্জ শরীফ ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন অর্থাৎ দীদার মুবারকে তাশরীফ মুবারক নেন। সে সময় উনার বয়স মুবারক হয়েছিলো প্রায় ৯৫ বছর। উনার রওযা শরীফ জান্নাতুল বাক্বী শরীফে অবস্থিত। ইহা সুনিশ্চিত যে জান্নাতে উনার স্থান অতি উচ্চে।
সূত্র: ঈড়সঢ়ধহরড়হং ড়ভ ঃযব চৎড়ঢ়যবঃ নু অনফঁষ ডধযরফ ঐধসরফ, সিয়ারু আ’লামিন নুবালা
-আল্লামা সাঈদ আহমদ গজনবী।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত জীবনী মুবারক
২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
উম্মু আবীহা, সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুল ঊলা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত জীবনী মুবারক
০৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র দুধমাতা সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুর রদ্বা’য়াহ আছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার সীরত মুবারক
২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হযরত উম্মুল ফদ্বল বিনতুল হারিছ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা
২৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মালিকাতুল জান্নাহ, সাইয়্যিদাতুল উম্মাহাত, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাপবিত্র জীবনী মুবারক
০৬ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ আশার আলাইহাস সালাম উনার সাওয়ানেহ উমরী মুবারক
০৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছানিয়াহ আশার আলাইহাস সালাম উনার সাওয়ানেহ উমরী মুবারক
০১ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছানিয়াহ আশার আলাইহাস সালাম উনার সাওয়ানেহ উমরী মুবারক
২৫ নভেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল হাদিয়াহ আশার আলাইহাস সালাম উনার সাওয়ানেহ উমরী মুবারক
২৩ নভেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল হাদিয়াহ আশার আলাইহাস সালাম উনার সাওয়ানেহ উমরী মুবারক
২২ নভেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল আশিরাহ আলাইহাস সালাম উনার সাওয়ানেহ উমরী মুবারক
১৫ নভেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আত তাসিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার সাওয়ানেহ উমরী মুবারক
০৭ নভেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












