সাবেক এসবি প্রধান মনিরুল:
‘২০২৩ সালেই হাসিনাকে জানিয়েছিলাম ইউনূসের নেতৃত্বে সরকার গঠনের তৎপরতা চলছে’
, ০৫ রবীউল আউওয়াল শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ২০ ছালিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ১৯ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি:, ০৪ ভাদ্র, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) দেশের খবর
নিজস্ব প্রতিবেদক:
পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ২০২৩ সালের মার্চ মাসে তৎকালীন সরকার প্রধান শেখ হাসিনাকে সতর্ক করে একটি রিপোর্ট দিয়েছিলেন বলে জানান। যেখানে তিনি জানান, ২০২৪ সালে একটি নতুন সরকার গঠিত হতে পারে।
মনিরুল বলেন, প্রতিবেদনে যাদের নাম ওখানে উল্লেখ ছিল, তারা অনেকেই উপদেষ্টা হয়েছেন। কেউ কেউ বিভিন্ন কমিশনের চেয়ারম্যান হয়েছেন। চেয়ারপার্সন, চেয়ারম্যান হয়েছেন বা সদস্য হয়েছেন।
সরকারের রেসপন্স কী ছিল সেই রিপোর্টের পরে- এমন প্রশ্নের জবাবে সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘এখন যেহেতু আর আমি সরকারি চাকরিতে নেই, এখন তো বলাই যায়। আমি প্রথম যে রিপোর্টের কথা বললাম মার্চ মাসে, সেটি আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর (তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী) হাতে দিয়েছিলাম। সরাসরি হস্তান্তর করার পর উনি ওটা পড়েছিলেন। এখানে ইন্টারেস্টিং বিষয় যেটা শেয়ার করা যায় সেটি হলো-রিপোর্টে উল্লেখ ছিল যে, ইউনূস বয়সজনিত কারণে, তখন আমার বক্তব্য ছিল জাতীয় সরকার। কিন্তু হয়েছে ইন্টেরিম সরকার বাদবাকি সব মিলে গেছে। সে হয়তো বয়সজনিত কারণে সরাসরি নিজে থাকবে না। তার প্রতিনিধি হিসেবে দুই তিনজনের নাম ছিল। যে এদের কাউকে এই জাতীয় সরকারের প্রধান করতে পারে, ডি পলিটিসাইজেশন যেটা আর কি।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী (তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী) পুরো রিপোর্টটা পড়েছিলেন, বোধহয় সাত আট পৃষ্ঠার একটা রিপোর্ট। এটা একটা গবেষণা পত্রের মতো বলতে পারেন। তো উনি পুরোটা পড়লেন। পড়ে ওই জায়গায় এসে উনি আমাকে বললেন- তুমি জানো না ইউনূসের মতো লোভী লোক, ক্ষমতালোভী, সে নিজেই হয়ে থাকবে, সে নিজেই হতে চাইবে। তখন আমার একটু খটকা লেগেছিল। কারণ আমি ইউনূসকে কখনো সামনাসামনি দেখিনি। তার সাথে কখনো আমার কথা হয়নি। তার কোনো সভা সেমিনারে আমার যাওয়ার সুযোগ হয়নি। আমি দূর থেকে দেখেছি। কিন্তু আমি আসলে তাকে ওই সময়ও চিনতে পারিনি।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও ওই সময় আমাকে বলেছিলেন যে, তুমি চিনো না তারে, তার মতো লোভী লোক, সে মরার আগের দিন পর্যন্ত ক্ষমতার লোভ ছাড়বে না। ওই এটা মূল হবে দেখবা, যদি এরকম একটা কিছু হয়। সেই কথাটা পরবর্তীতে আমার বারবার মনে হয়েছে যে, আসলে একমাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই ইউনূসকে চিনতে পেরেছিলেন। যে এরকম একটা প্যাথোলজিক্যাল লায়ার।’
উনি (শেখ হাসিনা) জানতে পারলেন, আপনারা রিপোর্ট দিলেন। সরকারের পক্ষ থেকে কি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল? জবাবে তিনি বলেন, ‘তখন উনি (হাসিনা) পুরোপুরি রিপোর্টটা এনডোর্স করেছিলেন এবং একনলেজও করছিলেন বেশিরভাগ পয়েন্টসের সঙ্গে। এটা প্রেডিকশন ছিল যে, ইলেকশনটাই হতে দেবে না ২০২৪-এর। এই ইলেকশনের আগে বা পরে এটা হবে। ইলেকশনটা তো আসলে হয়ে গেল শেষ পর্যন্ত এবং ইলেকশনের আগে এই ধরনের একটা প্রচেষ্টা হয়েছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা পরবর্তীতে যেটা মিলিয়ে দেখেছি সেটা হল- ২৮শে অক্টোবর ২০২৩ সালে বিএনপি-জামাতের সমাবেশ। ওইটাকে টার্গেট করে, যেহেতু ওটা কন্ট্রোল করা সম্ভব হয়। কন্ট্রোল করে ফেলার কারণে ওই ছকটা, ওই ব্লু-প্রিন্টটা বাস্তবায়ন হয়নি। কিন্তু একটা সমস্যা হয়েছে ইলেকশন পর্যন্ত সরকার এবং মানে সরকারি দল এবং মানে গভর্মেন্ট মেশিনারি যারা ছিল গোয়েন্দা সংস্থাসহ সবাই, কিন্তু ইলেকশনটা হয়ে গেল। নতুন সরকার হয়ে যাওয়ার কারণে তখন কিছুটা কমপ্লেসেন্ট হয়ে গিয়েছিল।’
তিনি বলেন, এই কমপ্লেসেন্সির কারণেই তখন অনেকে বলেছে যে, এই সরকার টিকবে। কিন্তু আমরা মিলাতে পারিনি। পরবর্তীতে মিলাতে গিয়ে আমরা যেটা দেখেছি, আসলে এই প্রক্রিয়াটা শুরু হয় ২০১৯ সাল থেকে। এই যে ডিপ স্টেট যেটা বলা হয়, এই কথিত ডিপ স্টেট এইটা তো অফিশিয়াল কিছু না, অফিশিয়াল না, আবার অফিশিয়ালও। এই প্রসেসটা তো শুরু হয়েছে ২০২৬ থেকে। আমরা দেখেছি সাত আটে এটা ফেল করল। ফেল করার পর তারা দেখেছে এবং তারা চিন্তা করেছে যে, যেহেতু আওয়ামী লীগ সরকারের পরিবর্তন করতে হবে। তারা মনে করেছিল ২০১৮ তে এই সরকার পরিবর্তন হয়ে যাবে। ইলেকশনের মাধ্যমে ২০১৮ সরকার দেখলো যে, এই সরকারকে ইলেকশনের মাধ্যমে আউট করা সম্ভব নয়।’
সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘ডিপ স্টেট তাদের গবেষণায় এবং তাদের পর্যবেক্ষণে দেখেছিল এবং তাদের লোক তো নানা স্তরে ছড়ানো ছিটানো ছিলই। দেখেছিল যে রাজনৈতিক দলের পক্ষে সরকারের পতন ঘটানো অর্থাৎ কনভেনশনাল সরকারের পতন ঘটানো ও কনভেনশনাল মুভমেন্ট এর মাধ্যমে সরকারের পতন ঘটানো সম্ভব না। সেই কারণেই দুটো আন্দোলনকে তারা আসলে টেস্ট কেস হিসেবে নিয়েছিল। একটা হলো নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, যখন সরকারকে বেশ বেকায়দায় ফেলে দিয়েছিল এবং পরবর্তীতে ২০১৮ সালের কোটা আন্দোলন। তখনই এই ডিপ স্টেট এবং যারা তাদের এজেন্ট হিসেবে বাংলাদেশে আছে তারা একটা সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে, যদি কোনো কিছু করতে হয়, পরিবর্তন ঘটাতে হলে, এটা ছাত্রদেরকে, তরুণদেরকে কাজে লাগাতে হবে।’
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
হাইকোর্টে ১২ কার্যদিবসে ৬২,৬৩৭ পুরোনো মামলা নিষ্পত্তি
১৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ইন্টারপোলের সহায়তায় সাবেক সেনাপ্রধান আজিজকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ
১৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া করায় পদ হারালো জামাত নেতা
১৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
কান্নায় বিরক্ত হয়ে নবজাতককে পানিতে চুবিয়ে হত্যা করলো মা
১৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সারের মজুত উদ্বৃত্ত আছে, সংকটের আলাপ পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র -কৃষিমন্ত্রী
১৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
শিক্ষকদের পে-স্কেল আলাদা হওয়া উচিত -শিক্ষামন্ত্রী
১৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিলের বৈধতা নিয়ে রিট খারিজ
১৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে নিজস্ব অর্থায়নে যেতে হবে -অর্থমন্ত্রী
১৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
অপ্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় কমানোর চেষ্টা করছে সরকার -প্রধানমন্ত্রী
১৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
অসমাপ্ত মেগা প্রকল্পগুলোর ভারে আর্থিক চাপে সরকার
১৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
‘কারাগার ভেঙে পালানো ৬৯০ বন্দি এখনও পলাতক, তথ্য মিলছে না ১৬৬ জনের’
১৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
কাতার গেছে পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ দুই উপদেষ্টা ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী
১৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












