কুতুবুল আলম, আমীরুশ শরীয়ত, মাহতাবে তরীকত, মাহিউল বিদয়াহ, মুহ্ইস সুন্নাহ, মুজাদ্দিদুয যামান, হুজ্জাতুল ইসলাম, রঈসুল মুহাদ্দিছীন, ফখরুল ফুক্বাহা, তাজুল মুফাসসিরীন, সুলতানুল আরিফীন,
হযরত মাওলানা শাহ ছুফী আবুল খায়ের মুহম্মদ ওয়াজীহুল্লাহ নানুপূরী যাত্রাবাড়ীর হযরত মুর্শিদ কিবলা আলাইহিস সালাম উনার সংক্ষিপ্ত সাওয়ানেহ উমরী মুবারক (৪র্থ পর্ব)
, ০৫ যিলহজ্জ শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২৩ ছানী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ২৩ মে, ২০২৬ খ্রি:, ০৯ জৈষ্ঠ্য, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
স্বীয় মুর্শিদ কিবলা উনার ছানা ছিফত:
সুলতানুল আরিফীন যাত্রাবাড়ীর হযরত মুর্শিদ কিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, মুজাদ্দিদে যামান রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার বড় বড় খলীফাদের উপস্থিতিতে একবার বললেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাকে যে নিয়ামত মুবারক দিয়েছিলেন, তা থেকে আমি মাত্র চার আনা দিয়ে যেতে পারলাম, বাকী বারো আনা নিয়ে বোধ হয় আমাকে কবরে যেতে হবে। কারণ উপযুক্ত লোক পেলাম না এসব নিয়ামত মুবারক দেয়ার মত। সে মজলিসে হযরত ন’হুযূর কিবলা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনিও ছিলেন। তিনি তখন অল্প বয়স্ক। শুনে তিনি খুব দুঃখিত হলেন। তিনি মনে মনে আক্ষেপ করে বললেন, আমরা অনুপযুক্ত হওয়ার কারণেই তো তিনি নিয়ামত মুবারক অর্পন করে যেতে পারছেন না। আচ্ছা ঠিক আছে, এখন দেখা যাক কিভাবে উপযুক্ত হওয়া যায়। অতঃপর তিনি জঙ্গলে চলে গেলেন।
উনার সম্মানিত আম্মাজান তিনি চিন্তা করতে লাগলেন, ছেলেটির কি হলো, কোথায় গেলো। কিন্তু মুজাদ্দিদে যামান রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মনে কোন চিন্তা নেই। তিনি বলেন, আমার ছেলে জীবিত, সে আমার থেকে ফয়েজ নিচ্ছে, তা আমি টের পাচ্ছি। তোমরা তার জন্য কেউ চিন্তিত হয়ো না। দীর্ঘ দিন পরে তিনি জঙ্গল থেকে ফিরে আসলেন। কিন্তু বাড়ীতে এসে এক স্থানে আত্মগোপন করে রইলেন। মুজাদ্দিদে যামান রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি শুয়ে ছিলেন। হযরত ন’হুযূর কিবলা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি লুকিয়ে থেকে উনার পবিত্র পা মুবারক উনার উপর ইত্তেহাদী ফয়েজ ছাড়লেন।
মুজাদ্দিদে যামান রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি টের পেয়ে গেলেন এবং বললেন, কার সাহস আমার পায়ের উপর ফয়েজ ছাড়ার? তোমরা দেখো তো ন’হুযূর কিবলা রহমতুল্লাহি আলাইহি এসেছে কিনা? সবাই খুঁজে উনাকে বের করলো। তখন উনার চুল, নখ বড় হয়ে গেছে। অতঃপর উনাকে নখ, চুল কেটে নতুন কাপড় পরিয়ে প্রকৃতিস্থ করা হলো। এরপর থেকে হযরত ন’ হুযূর কিবলা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার সম্মানিত পিতা ও মুর্শিদ, হযরত মুজাদ্দিদে যামান রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সঙ্গে ছায়ার ন্যায় থাকতেন। সুবহানাল্লাহ!
মুর্শিদ কিবলা উনার খিদমত মুবারক:
সুলতানুল আরিফীন যাত্রাবাড়ীর হযরত মুর্শিদ কিবলা আলাইহিস সালাম তিনি উনার মুর্শিদ কিবলা উনাকে অতিশয় মুহব্বত করতেন। এমনকি উনার ছাহেবযাদাদেরকেও যথেষ্ট তা’যীম তাকরীম করতেন। হযরত ন’হুযূর কিবলা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বড় ছাহেবযাদা হযরত বাকী বিল্লাহ ছিদ্দিকী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাথে উনার খুব বেশী আন্তরিকতা ছিলো। একবার হযরত ন’হুযূর কিবলা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার অনুপস্থিতিতে হযরত বাকী বিল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি কিছুটা আর্থিক অসুবিধায় ছিলেন। তখন উনার ঢাকা মাদ্রাসা আলীয়ায় পরীক্ষার ফীশ দিতে অসুবিধা হচ্ছিলো।
সুলতানুল আরিফীন যাত্রাবাড়ীর হযরত মুর্শিদ কিবলা আলাইহিস সালাম উনার তখন দু’টি দোকান ছিলো। তিনি তৎক্ষণাৎ দোকান দু’টি বিক্রয় করে উনার মুর্শিদ কিবলা উনার ছাহেবযাদা উনার ফীশের টাকা দিয়ে দেন। পরবর্তীতে হযরত বাকী বিল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ফুরফুরা শরীফ চলে যান। সুলতানুল আরিফীন যাত্রাবাড়ীর হযরত মুর্শিদ কিবলা আলাইহিস সালাম উনার শেষ জীবনে হযরত বাকী বিল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি একবার ফুরফুরা শরীফ থেকে ঢাকা এসেছিলেন, তখন যাত্রাবাড়ীর খানকা শরীফে এসে খানকাহ শরীফ সংলগ্ন মসজিদে ওয়াজ নছীহত করেছিলেন।
হযরত ন’হুযূর কিবলা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার খুলাফা ও মুরীদানদের মধ্যে সুলতানুল আরিফীন যাত্রাবাড়ীর হযরত মুর্শিদ কিবলা আলাইহিস সালাম তিনি ছিলেন বাংলাদেশে প্রধান ও সর্বশ্রেষ্ঠ খলীফা। যখন উনার সুনাম চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়লো এবং চতুর্দিক থেকে আলিম ফাজিল, ইংরেজী শিক্ষিত অসংখ্য লোক উনার মুরীদ হতে লাগলেন তখন উনার অনেক পীরভাই উনাকে ঈর্ষার চোখে দেখতে লাগলেন। এজন্য সুলতানুল আরিফীন যাত্রাবাড়ীর হযরত মুর্শিদ কিবলা আলাইহিস সালাম তিনি মাঝে মাঝে আফসোস করে বলতেন, তারা কেন আমাকে ঈর্ষা করে আমি জানি না। মহান আল্লাহ পাক উনার নিয়ামত মহান আল্লাহ পাক তিনি যাকে চান তাকে দেন, সকলকে দেন না। তিনি প্রায়ই বলতেন, “আল্লাহ পাক জিসকো চাহতা, ছপ্পর ফাড়কে দেতা।” তিনি শুকরিয়া স্বরূপ বলতেন, আমি আমার সম্মানিত মুর্শিদ কিবলা উনার থেকে যেসব নিয়ামত মুবারক লাভ করেছি, তা গণনা ও হিসাব করে শেষ করা যাবে না। সুবহানাল্লাহ!
-আলহাজ্জ ছূফী সাঈদ আহমদ গজনবী।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
مَا نَقَصَتْ صَدَقَةٌ مِّنْ مَّالٍ
০২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পর্দা রক্ষা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া ব্যভিচারের সমতুল্য
০২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
০২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
উট, গরু এবং মহিষ কুরবানীর ক্ষেত্রে শরীকানা বা একাধিক ব্যক্তির পক্ষ থেকে কুরবানী করা হাদীছ শরীফ উনাদের দ্বারাই সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত (২)
২৬ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা হারাম ও নাজায়িজ
২৬ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৬ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহান আল্লাহ পাক উনার নির্দশনসমূহের তিনটি বিষয় উনাদেরকে খাছ করে সম্মান করা ফরয
২৬ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
২৬ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
২৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া কবীরা গুনাহ
২৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












