জীবনী মুবারক
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (১)
বিলাদত শরীফ: ৬১৯ খৃ: বিছাল শরীফ: ৬৮ হিজরী (৬৮৮ খৃ:) বয়স মুবারক: ৭০ বছর।
, ০৫ যিলক্বদ শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২৪ হাদী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ২৪ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রি:, ১১ বৈশাখ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
পরিচিতি:
নাম মুবারক আবদুল্লাহ, কুনিয়াত মুবারক আবুল আব্বাস, পিতা হযরত আব্বাস আলাইহিস সালাম, মাতা হযরত উম্মুল ফদ্বল লুবাবা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা, কুরাইশ বংশের হাশেমী শাখার সন্তান, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার চাচাতো ভাই এবং সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ আশার আলাইহাস সালাম তিনি উনার আপন খালা।
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে حبر الأمة “হিবরুল উম্মাহ” (মুসলিম জাতির কালি অর্থাৎ মহাজ্ঞানী) বলা হয়। কারণ তিনি ছিলেন একজন বিশিষ্ট ফক্বীহ ও মুফাস্সিরে কুরআন। তিনি আবদুল্লাহ নামে পাঁচ জন বিশিষ্ট ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের অন্যতম। কুরআন শরীফ উনার তাফসীরের ক্ষেত্রে উনার অসাধারণ প্রজ্ঞা, দক্ষতা ও অন্তদৃষ্টির দরুণ উনাকে “রঈসুল মুফাসসিরীন” অর্থাৎ তাফসীরকারকদের প্রধান বলে অভিহিত করা হয়।
বিলাদত শরীফ:
হিজরতের তিন বছর পূর্বে মক্কা শরীফ উনার শি’বে (গিরিপথ) আবী তালিবে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বিলাদত শরীফ গ্রহণ করেন। কুরাইশরা উনার গোত্র বনু হাশিমকে বয়কট করার কারণে উনারা তখন শি’বে আবী তালিবে জীবন যাপন করছিলেন। উনার মাতা হিজরতের পূর্বেই ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। সেজন্য উনাকে বিলাদত শরীফ হতে মুসলিম বলে গণ্য করা হয়।
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার মাতা প্রখ্যাত ছাহাবিয়া হযরত উম্মুল ফদ্বল লুবাবা বিনতুল হারিস আল-হিলালিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা। হযরত আবদুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ভুমিষ্ট হওয়ার পর উনাকে কোলে করে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট নিয়ে যান। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার মহাসম্মানিত নূরুল বারাকাত মুবারক অর্থাৎ থুথু মুবারক নিয়ে শিশু হযরত আবদুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার মুখে দিয়ে উনার তাহনীক করেন। এভাবে উনার পেটে পার্থিব কোন বস্তু প্রবেশের পূর্বেই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র ও বরকতময় নূরুল বারাকাত মুবারক বা থুথু মুবারক প্রবিষ্ট হয়। আর সেই সাথে প্রবেশ করে তাক্বওয়া ও হিক্বমত মুবারক।
বাল্য অবস্থায় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছোহবত মুবারক গ্রহণ:
ইবনে সা’দের বর্ণনা মতে, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা কুবরা আলাইহাস সালাম এবং বানাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের পর হযরত উম্মুল ফদ্বল লুবাবা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তিনিই মহিলাদের মধ্যে সর্বপ্রথম ঈমান আনেন। তাই হযরত আবদুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বিলাদত শরীফের পর থেকেই ইসলামী পরিবেশে গড়ে উঠেন।
হযরত আবদুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার পিতা হযরত আব্বাস আলাইহিস সালাম তিনি হিজরী ৮ম সনে মক্কা শরীফ বিজয়ের অল্প কিছুদিন পূর্বে প্রকাশ্যভাবে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দেন অতঃপর স্বপরিবারে মদীনা শরীফে হিজরত করেন। তখন থেকে তিনি অধিকাংশ সময় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক ছোহবতে কাটাতেন। সাত বছর বয়স থেকেই তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছোহবত মুবারক ও খিদমত মুবারকে আত্মনিয়োগ করেন। অযুর সময় তিনি পানির ব্যবস্থা করতেন, নামাযের সময় উনার পেছনে দাঁড়িয়ে ইকতিদা করতেন এবং সফরের সময় হলে উনার বাহনের পেছনে আরোহন করে উনার সফরসঙ্গী হতেন। এভাবে তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সব সময় অনুসরণ করতেন এবং নিজের মধ্যে সর্বদা বহন করে বেড়াতেন একটি সজাগ অন্তঃকরণ, পরিচ্ছন্ন মস্তিষ্ক এবং শক্তিশালী একটি স্মৃতিশক্তি।
হযরত আবদুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু যদিও স্বভাবগতভাবে ছিলেন শান্তশিষ্ট, বুদ্ধিমান ও চালাক, তবুও তিনি জীবনের যে অধ্যায়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছোহবত মুবারক লাভের সুযোগ লাভ করেন মূলত: সে সময়টি মানুষ খেলাধুলার মধ্যে অতিবাহিত করে। (অসমাপ্ত)
-আল্লামা সাঈদ আহমদ গজনবী।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্রতা সম্পর্কিত মাসয়ালা-মাসায়িল (৪)
২৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
বেপর্দা সর্বপ্রকার অনিষ্ট ও ফিতনা-ফাসাদের মূল
২৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
জরুরী প্রবন্ধ: পবিত্র মাযহাব অনুসরণ নিয়ে লা-মাযহাবীদের আপত্তির জবাব
২৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মহান আল্লাহ পাক উনার মতে মত এবং মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পথে পথ হওয়ার মধ্যেই কামিয়াবী নিহিত
২৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
যেই ২৬ খানা আয়াত শরীফ বাদ দেয়ার জন্য ভারতের আদালতে রিট করেছিলো ইসলামবিদ্বেষীরা
২৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা সত্যের মাপকাঠি
২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম উনাদের প্রতি কুধারণা পোষণ করা বিপদের কারণ
২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের প্রতি বিশুদ্ধ আক্বীদা-হুসনে যন পোষণ করা ঈমান
২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যিনি আল্লাহওয়ালা হয়েছেন উনার পথ অনুসরণ করে চলো
২২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বেপর্দা হওয়া শয়তানের ওয়াসওয়াসাকে সহজ করার মাধ্যম
২২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












