সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, রহমাতুল্লিল আলামীন, ক্বয়িদুল মুরসালীন, রউফুর রহীম, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র জীবনী মুবারক (২২৮০)
, ১০ যিলক্বদ শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ১০ ছানী আ’শার, ১৩৯২ শামসী সন , ০৯ মে, ২০২৫ খ্রি:, ২৬ বৈশাখ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মানিত খন্দকের জিহাদে কবিতা মুবারক পাঠ করেছিলেন:
হযরত বারা ইবনে আযিব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, সম্মানিত খন্দকের মাটি বহনকালে আমি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে কবিতার নিম্নোক্ত চরণগুলি আবৃত্তি করতে শুনেছি।
اللَّهُمَّ لَوْلاَ أَنْتَ مَا اهْتَدَيْنَا + وَلاَ تَصَدَّقْنَا وَلاَ صَلَّيْنَا
فَأَنْزِلَنْ سَكِينَةً عَلَيْنَا + وَثَبِّتِ الْأَقْدَامَ إِنْ لاَقَيْنَا
إِنَّ الْأُوْلَى قَدْ بَغَوْا عَلَيْنَا + إِذَا أَرَادُوْا فِتْنَةً أَبَيْنَا-
অর্থ: ‘আয় মহান আল্লাহ পাক! যদি আপনার অনুগ্রহ না থাকত, তাহলে আমরা অর্থাৎ আমার হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম ও আমার উম্মতগণ হিদায়াতপ্রাপ্ত হতেন না এবং আমরা দান-ছদক্বাও দিতাম না এবং পবিত্র ছলাত তথা নামায-কালাম আদায় করতাম না। অতএব আপনি আমাদের উপরে শান্তি বর্ষণ করুন এবং কাফিরদের সঙ্গে যদি আমাদের মোকাবিলা হয়, তাহলে আমাদের সম্মানিত ক্বদম মুবারকগুলো দৃঢ় রাখুন’। নিশ্চয়ই প্রথম পক্ষ তথা কাফির-মুশরিকরা আমাদের উপরে বাড়াবাড়ি করেছে, যদি তারা ফিৎনা সৃষ্টি করতে চায়, তাহলে আমরা তা থেকে বিরত থাকবো’। (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ)
বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত সাহল বিন সা‘দ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, আমরা সম্মানিত খন্দকের জিহাদে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে ছিলাম। এ সময় আমরা পরিখা খনন করছিলাম ও কাঁধে করে মাটি বহন করছিলাম’। সুবহানাল্লাহ!
হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, শীতের সকালে ক্ষুধা ও পিপাসা নিয়ে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা পরিখা খনন করছিলেন। অর্থাৎ উনারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আদেশ মুবারক পালনে এতো পাগলপারা ছিলেন যে, খাদ্য খাওয়ার কথা ভুলে গেছেন বা খাদ্য খাওয়ার সুযোগও পাননি। সুবহানাল্লাহ! পরিখা খননের এক পর্যায়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সেখানে তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করলেন এবং উনাদেরকে জজবা, উৎসাহ-উদ্দীপনা দিলেন। স্বয়ং সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যিনি খ¦লিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে আর্জি পেশ করলেন-
اللَّهُمَّ لاَ عَيْشَ إِلاَّ عَيْشُ الْآخِرَهْ + فَاغْفِرِ الْأَنْصَارَ وَالْمُهَاجِرَهْ
অর্থ: ‘আয় মহান আল্লাহ পাক! নেই কোন আরাম-আয়েশ, শান্তি পরকালের আরাম-আয়েশ, শান্তি ব্যতীত। কাজেই আপনি দয়া করে হযরত আনছার ও মুহাজির ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে ক্ষমা করুন’। (কামিয়াবী দান করুন)।
জবাবে তখন হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারাও বললেন-
نَحْنُ الَّذِينَ بَايَعُوا مُحَمَّدًا صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ + عَلَى الْجِهَادِ مَا بَقِيْنَا أَبَدَا
অর্থ: ‘আমরাতো তারাই, যাঁরা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল মাগফিরাত মুবারকে (তথা হাত মুবারকে) জিহাদের বাইয়াত হয়েছি, যতদিন আমরা বেঁচে থাকবো’। সুবহানাল্লাহ! (বুখারী শরীফ)
অর্থাৎ হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছে পূর্বেই বাইয়াত মুবারক গ্রহণ করেছিলেন যে, উনারা উনাদের জান-মাল, অর্থ-সম্পদ, আল-আওলাদ, পিতা-মাতা তথা সমস্ত কিছু থেকে উনাকে বেশি মুহব্বত মুবারক করবেন এবং উনার খিদমত মুবারকের আঞ্জাম দিবেন। সুবহানাল্লাহ! এজন্য দেখা গেছে প্রতিটি সম্মানিত জিহাদ মুবারকে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা উনাদের অর্থ-সম্পদ খরচ করেছেন, আল-আওলাদ উনাদেরকেও জিহাদে প্রেরণ করেছেন এবং নিজেও জিহাদে অংশগ্রহণ করেছেন। সুবহানাল্লাহ! সর্বোপরি ২৪ ঘন্টা উনাদের ফিকির ছিলো যে কি করে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমত মুবারকের আঞ্জাম দেয়া যায় এবং সন্তুষ্টি মুবারক লাভ করা যায়। সেই ফিকিরে উনারা দায়েমীভাবে নিয়োজিত ছিলেন। সুবহানাল্লাহ!
মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উছীলা মুবারকে উনার প্রিয়তম আওলাদ, আহলে বাইতে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের খিদমত মুবারক, গোলামী মুবারক ও সন্তুষ্টি মুবারক হাছিল করার তাওফীক দান করুন। আমীন!
-আল্লামা সাইয়্যিদ শাবীব আহমদ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (১০)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ছবি তোলা হারাম, যা জাহান্নামী হওয়ার কারণ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত আশূরা শরীফ উনাকে যারা সম্মান করবে তাদের জন্য-
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত শরীয়ত উনার ফায়ছালা মতে কুলাঙ্গার ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহি কাট্টা কাফির ও চিরজাহান্নামী (১)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পৃথিবীকে পরিবর্তন করার চেয়ে নিজেকে পরিবর্তন করা সহজ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পর্দা রক্ষা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া ব্যভিচারের সমতুল্য
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
৩টি বিষয় কেবল তিনটি অবস্থায়ই জানা যায়।
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত মীলাদ শরীফ পাঠে অনন্য তাজদীদ মুবারক (৪)
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ইসলামী শরীয়ত মুতাবিক- ছবি তোলা হারাম
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












