সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হায়াতুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (৮)
, ২৫ ছফর শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২১ ছালিছ, ১৩৯৩ শামসী সন , ২০ আগস্ট, ২০২৫ খ্রি:, ০৫ ভাদ্র, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ
হায়াতুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে দেওবন্দীদের বক্তব্য:
দেওবন্দী মৌলবী “আনওয়ার শাহ কাশ্মীরীর” বক্তব্য-
الانبياء فى قبورهم يصلون معناه ارواح الانبياء عليهم السلام ليست بمعطلة عن العبادات الطيبة والافعال الـمباركة بل هم مشغولون فى قبورهم ايضا كما كانوا مشغولين حين حياتهم فى صلوة وحج وكذلك حال تابعهم على قدر الـمراتب.
অর্থ: “হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম উনারা উনাদের রওযা শরীফসমূহে পবিত্র নামায পড়েন। ” এ পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার অর্থ এই যে, হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম উনাদের পবিত্র রূহসমূহ ইবাদত বন্দেগী এবং বরকতময় কাজসমূহ হতে কর্মহীন বা অকেজো হন না। বরং উনারা উনাদের রওযা শরীফে এরূপ ইবাদত-বন্দেগীতে লিপ্ত থাকেন যেরূপ উনাদের যিন্দেগীর মধ্যে নামায, রোযা, হজ্জ ইত্যাদি নেক আমলে লিপ্ত ছিলেন। এরূপ উনাদের অনুসরণীয়দের অবস্থা উনাদের মর্যাদানুযায়ী হবে। (ফয়দুল বারী ২য় খ-, ৬৪ পৃষ্ঠা)
দেওবন্দী মৌলবী খলীল আহমদ আম্বেটীর বক্তব্য-
عندنا وعند مشائخنا حضرت الرسالة صلى الله عليه وسلم حى فى قبره الشريف وحياته صلى الله عليه وسلم دنيوية من غير تكليف وهى مختصة به صلى الله عليه وسلم وبجميع الانبياء صلوة الله عليهم اجمعين.
অর্থ: আমাদের এবং আমাদের পূর্বতন পীর মাশায়েখগণের মতে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি স্বীয় পবিত্র রওযা শরীফ উনার মধ্যে জীবিত আছেন এবং তিনি তথায় দুনিয়াবী হায়াত মুবারকের ন্যায়ই বর্তমান আছেন কষ্ট দেয়া ব্যতিরেকে। এ পবিত্র হায়াত মুবারক নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং অন্যান্য সমস্ত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম উনাদের বৈশিষ্ট্য। (আলমুহান্নাদ ১৩ পৃষ্ঠা)
দেওবন্দী মৌলবী এযায আলীর বক্তব্য-
فمثله صلى الله عليه وسلم بعد وفاته كمثله شمع فى حجرة اغلق بابها فهو مستور عمن هو خارج الحجورة ولكن نوره كما كان بل ازيد ولهذه حرم نكاح ازواجه بعده صلى الله عليه وسلم ولم يجر احكام الميراث فيما تركه لانهما من الموت.
অর্থ: নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পর্দা করার দৃষ্টান্ত এরূপ যেমন একটি প্রদীপকে কোন কামরায় রেখে তার দরজা যদি বন্ধ করে দেয়া যায়। তবে এ প্রদীপটি ঐ বাতি হতে লুক্কায়িত থাকবে যে কামরার বাইরে আছে। কিন্তু বাতির আলো এরূপই হবে যেরূপ পূর্বে ছিলো। বরং পূর্বের চেয়েও বেশি হবে। এজন্যই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশের পর উনার সম্মানিতা আহলিয়া হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের সাথে বিবাহ হারাম এবং উনার ত্যাজ্য বিত্তের উপর ওয়ারিছী সত্ত্বের আইনসমূহ জারি হয়নি। কারণ উভয়টিই মৃত্যুর হুকুমের অন্তর্ভুক্ত। (নূরুল ইজাহ ২০৫ পৃষ্ঠা)
দেওবন্দী মুরুব্বী ক্বাসিম নানুতুবীর বক্তব্য-
“হায়াতুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি চিরস্থায়ী। এটা সম্ভবই নয় যে, উনার পবিত্র হায়াত মুবারক ক্ষীয়মান হয়ে যাবে। এবং হায়াতে মু’মিন আকস্মিক, যা ক্ষীয়মান হতে পারে। সাধারণ মু’মিনের ন্যায় মৃত্যু উনার হায়াতে তাইয়্যিবাকে খতম করে না। বরং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিছালী শান মুবারক উনার হায়াত মুবারককে ঢেকে রাখে। এ জন্য উনার হায়াত বাহ্যিক চর্ম চক্ষুবিশিষ্ট লোকের দৃষ্টি গোচর হতে গুপ্ত হয়ে যায়। শুধু অর্ন্তচক্ষু বিশিষ্ট লোকেরা উনার হায়াত মুবারকের পর্যবেক্ষণ করতে পারেন। যাদের জন্য মহান আল্লাহ পাক তিনি পর্দা তুলে রেখেছেন। ”
সে অন্য এক স্থানে এ ধারণাকে এরূপভাবে ব্যাখ্যা করে; “কিন্তু আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম উনাদের যিন্দেগী বাহ্যিক দৃষ্টিমানদের দৃষ্টিগোচর হতে গোপনীয়। উম্মতের ন্যায় উনাদের মৃত্যু ম্রিয়মান বা ক্ষণস্থায়ী হয় না। ” (আবে হায়াত ১৫৯-১৬০ পৃষ্ঠা)
উপরোক্ত দলীলভিত্তিক বিস্তারিত আলোচনা দ্বারা সুস্পষ্ট ও অকাট্যভাবেই প্রমাণিত হলো যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অবশ্যই “হায়াতুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। ” কাজেই, “হায়াতুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম” উনার বিষয়টি অস্বীকার করার অর্থ হলো- পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদেরকে অস্বীকার করা, যা কাট্টা কুফরী। অর্থাৎ যারা এটাকে অস্বীকার করবে তারা কাট্টা কাফির হবে। এটাই সম্মানিত শরীয়ত উনার ছহীহ এবং গ্রহণযোগ্য ফায়ছালা। (সমাপ্ত)
-আল্লামা আবু আহমদ হুসাইন।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার বিশেষ বিশেষ নিসবত মুবারক সম্পর্কে বর্ণনা মুবারক
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সৃষ্টির ইতিহাসে এই প্রথম “لِـيَـعْبُدُوْنِ (লিইয়া’বুদূন) থেকে لِـيُصَلُّوْنِ (লিইউছল্লূন) পর্যন্ত ৮টি মাক্বাম মুবারক উনাদের বর্ণনা মুবারক
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অদ্বিতীয় হাক্বীক্বী কায়িম-মাক্বাম হিসেবে, উনার হুবহু নক্বশা মুবারক হিসেবে উনার সমস্ত নিয়ামত মুবারক আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনাকে হাদিয়া মুবারক করা
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের তরফ থেকে বিশেষ দাওয়াত মুবারক এবং খুশি মুবারক প্রকাশ
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সৃষ্টির ইতিহাসে এই প্রথম নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় ইসিম বা নাম মুবারক اَحْمَدُ (আহমদ) ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মধ্যকার ‘মীম’ হরফ বা অক্ষর মুবারক উনার হাক্বীক্বত মুবারক প্রকাশ
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত শান মুবারক-এ চূ-চেরা, ক্বীলও ক্বাল করার কারণে, হিংসা-বিদ্বেষ পোষণ করার কারণে কাফেরদের বিরুদ্ধে সরাসরি মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট বিচার চাওয়া প্রসঙ্গে
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মধ্যস্থতা মুবারক-এ হাক্বীক্বী দীদার মুবারক লাভরে বশিষে র্বণনা মুবারক
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












