ছহিবুত তাকওয়া, ওলীয়ে মাদারযাদ, হাদিয়ে ইলাহী, কুতুবুল আলম,
সাইয়্যিদুনা হযরত হাদীউল উমাম আলাইহিস সালাম আলোচনা মুবারক উনার বিষয়: পবিত্র সুন্নত মুবারক ইত্তেবা ও প্রচার-প্রসারের ফযীলত
(সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’দাদ শরীফ মহাসম্মানিত ১২ই শরীফ)
, ১৫ রবীউল আউওয়াল শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ৩০ ছালিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ২৯ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি:, ১৪ ভাদ্র, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
(৩য় পর্ব)
যখন তিনি এই হাদীছ শরীফ ইরশাদ মুবারক করলেন, তখন কিছু ইহুদী এবং নাছারা তারা আসলো। ইহুদী-নাছারা তারা এসে বললো, ইয়া রসূলাল্লাহ! ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি যে মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক করেছেন, এতে বুঝা যাচ্ছে- যারা ইহুদী এবং নাছারা তারাও জান্নাতী হবে। কিভাবে সেটা?
তারা তো যিনি খালিক, মালিক, রব, মহান আল্লাহ পাক উনাকে এক হিসেবে জানে তাহলে এই সম্মানিত এবং পবিত্র হাদীছ শরীফ অনুযায়ী ইহুদী এবং নাছারা তারাও প্রত্যেকেই জান্নাতী হবে। মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বিষয়টি শুনলেন। শুনে তিনি সাথে সাথে কিছু বললেন না। কারণ তিনি তো وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى তিনি তো মহাসম্মানিত মহাপবিত্র ওহী মুবারক ব্যতীত কোন কথা মুবারক বলেন না। সুবহানা মুর্শিদ কিবলা আলাইহিস সালাম!
সে জন্য তিনি মহাসম্মানিত মহাপবিত্র ওহী মুবারক উনার জন্য অপেক্ষমান ছিলেন তখন যিনি খালিক, যিনি মালিক, যিনি রব, মহান আল্লাহ পাক তিনি আয়াত শরীফ নাযিল করে দিলেন। কোন সে আয়াত শরীফ
قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ .قُلْ أَطِيعُوا اللَّهَ وَرَسُولَ ۖ فَإِنْ تَوَلَّوْا فَإِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْكَافِرِينَ.
তখন এই আয়াত শরীফ নাযিল করে দিলেন মহান আল্লাহ পাক। হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি বলে দিন, সত্যিই তোমরা ইহুদী-নাছারারা যদি যিনি খালিক, মালিক, রব, মহান আল্লাহ পাক উনাকে মুহব্বত মুবারক করেই থাকো; তাহলে আমার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে তোমরা ইত্তেবা করো। অনুসরণ করো। সুবহানা মুর্শিদ কিবলা আলাইহিস সালাম!
উনাকে ইত্তেবা না করলে, উনাকে ইত্তেবা না করলে কিন্তু তোমাদের গুনাহখাতা মাফ করা হবে না। তোমাদেরকে মুহব্বত মুবারক করা হবে না। তোমাদেরকে দয়াও করা হবে না। তাহলে বলে দেওয়া হচ্ছে- হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ইত্তেবা মুবারক করলে তোমাদেরকে মুহব্বত মুবারক করা হবে তোমাদের গুনাহখাতা মাফ করা হবে। তোমাদের প্রতি অসীম দয়ালু-ক্ষমাশীল তিনি হয়ে থাকবেন। সুবহানা মুর্শিদ কিবলা আলাইহিস সালাম!
এখানে তিনটা বিষয়েই বললেন। এরপর বললেন শুধু এতোটুকুই নয়, বলা হচ্ছে- তোমরা অবশ্যই যিনি খালিক, মালিক, রব, মহান আল্লাহ পাক উনাকে এবং উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অর্থাৎ উনাদের উভয়কেই অনুসরণ করো, উনাদের উভয়কেই অনুসরণ করো অন্যথায় তোমরা জেনে রেখো যারা উনাদের উভয়ের অনুসরণ থেকে ফিরে যাবে; এই আয়াত শরীফ নাযিল হওয়ার পরে যারা ফিরে যাবে, তারা জেনে রেখো- যিনি খালিক, মালিক, রব, মহান আল্লাহ পাক তিনি কিন্তু কাফেরদেরকে মুহব্বত করেন না। অর্থাৎ তাহলে তোমরা কাট্টা কাফেরের অর্ন্তভুক্ত হয়ে যাবে। নাউযুবি মুর্শিদ কিবলা আলাইহিস সালাম! তারপর তোমরা চির জাহান্নামী হবে। নাউযুবি মুর্শিদ কিবলা আলাইহিস সালাম!
ইহুদী-নাছারারা যারা বলেছিলো, শুধু মহান আল্লাহ পাক উনাকে এক হিসেবে মানলে তারাও জান্নাতী হবে তারা সবাই এই আয়াত শরীফ নাযিল হওয়ার পর এখন লা-জাওয়াব হয়ে গেলো। সুবহানা মুর্শিদ কিবলা আলাইহিস সালাম! যে মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ইত্তেবা করা ব্যতীত, অনুসরণ করা ব্যতীত যিনি খালিক, মালিক, রব, মহান আল্লাহ পাক উনার মুহব্বত মুবারক যেমন পাওয়া যাবে না। ঠিক একইভাবে ক্ষমা মুবারকও পাওয়া যাবে না এবং তিনি তাদের প্রতি কখনো দয়ালু-ক্ষমাশীল হবেন না। নাউযুবি মুর্শিদ কিবলা আলাইহিস সালাম!
পবিত্র হাদীছ শরীফে রয়েছে-
عَنْ حَضْرَت أَنَسٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لاَ يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ حَتَّى أَكُونَ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِنْ وَالِدِهِ وَوَلَدِهِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ.
হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা মুবারক করেন। মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত ঈমানদার হতে পারবে না যতক্ষণ পর্যন্ত না তার পিতা-মাতা, সন্তান-সন্ততি, আত্মীয়-স্বজন ইত্যাদি সকলের চেয়েও আমাকে বেশি মুহব্বত মুবারক না করবে।
অর্থাৎ এই হাদীছ শরীফ থেকে যেটা বুঝা যায় সেটা হচ্ছে, আমাদেরকে সব চাইতে বেশি মুহব্বত মুবারক করতে হবে সমস্ত কিছুর চাইতে বেশি মুহব্বত মুবারক করতে হবে কাকে? যিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে। সুবহানা মুর্শিদ কিবলা আলাইহিস সালাম!
(পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় থাকুন)
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ফাদ্বায়িলে উম্মাহাতিল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম (৪)
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পর্দা সর্বপ্রকার বিপদ-আপদ থেকে হিফাজত হওয়ার মাধ্যম
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
দ্বীন ইসলাম উনার জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর ৩ শ্রেণী
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
শরীয়তের দৃষ্টিতে কোন রোগই ছোঁয়াচে নয়,
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্রতা সম্পর্কিত মাসয়ালা-মাসায়িল (১২)
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা কবীরা গুনাহ ও অসন্তুষ্টির কারণ
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
বিধর্মী-অমুসলিমরা কখনো মুসলমানদের ভাই/বন্ধু নয়, বরং তারা মুসলমানদের চির শত্রু (৪র্থ পর্ব)
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মূর্তি, প্রতিমা, ভাস্কর্য, ম্যানিকিন ও ছবি নাজায়িয ও হারাম
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (২৪)
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বেপর্দা হওয়া লা’নত ও হালাকীর কারণ
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












