সাইয়্যিদুল আওলিয়া, মাহবূবে সুবহানী, কুতুবে রব্বানী, গাউছুল আ’যম, মুজাদ্দিদুয যামান, সুলত্বানুল আরিফীন, মুহিউদ্দীন, আওলাদে রসূল,
সাইয়্যিদুনা হযরত বড়পীর ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাওয়ানেহ উমরী মুবারক (৬)
, ৭ই শা’বান শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ১০ তাসি’, ১৩৯২ শামসী সন , ০৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ খ্রি:, ২৪ মাঘ, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
অতঃপর হযরত আবু ছালেহ মূসা জঙ্গী দোস্ত রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি পরদিন সকালে দজলা নদীর তীর দিয়ে হাঁটতে লাগলেন, যেদিক থেকে ছেব ফলটি ভেসে আসছিল। কিছুদূর যাবার পর তিনি দেখলেন, নদীর কিনারায় একটি ছেব ফলের বাগান। বাগানের একটি গাছের একটি ডালা ফলসহ নদীর উপর ঝুলন্ত অবস্থায়। আর তার কিছুফল পানিতে ভেসে আছে। তখন তিনি নিশ্চিত হলেন যে, নিশ্চয়ই আমি এই বাগানেরই ফল খেয়েছি।
অতঃপর তিনি বাগানের মালিকের বাড়িতে গেলেন। বাড়িতে গিয়ে উনার সাথে বাগানের মালীর দেখা হয়। মালী উনাকে অপেক্ষা করার জন্য বলে বাগানের মালিককে সংবাদ দেয়। কিছুক্ষণ পর বাগানের মালিক হযরত আব্দুল্লাহ ছাওমাই রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি সেখানে এসে উপস্থিত হলে সাইয়্যিদুনা হযরত আবু ছালেহ মূসা জঙ্গী দোস্ত রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, হুযূর! আমি না বলে আপনার বাগানের একটি ছেব ফল ক্ষুধার তাড়নায় নদীতে ভাসমান অবস্থায় পেয়ে খেয়ে ফেলেছি। এখন আমি তার মূল্য পরিশোধ করতে এসেছি। একথা শুনার পর সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল্লাহ ছাওমাই রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি আশ্চর্য হলেন এবং মনে মনে ভাবলেন, কত লোকই তো আমার বাগানের কত ফল খেয়েছে কিন্তু কেউই এ পর্যন্ত দাম দিতে আসেনি। নিশ্চয়ই এ যুবক আল্লাহ পাক উনার একজন বিশিষ্ট ওলী হবেন।
বাগানের মালিক জিজ্ঞেস করলেন, আপনার নিকট কত দিরহাম আছে। উত্তরে আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত আবু ছালেহ মূসা জঙ্গী দোস্ত রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, দিরহাম থাকলেতো আপনার ফলই খেতাম না। পুণরায় জিজ্ঞেস করলেন, তাহলে কি দিয়ে মূল্য পরিশোধ করবেন? আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত আবু ছালেহ মূসা জঙ্গী দোস্ত রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, আপনার বাগানে কাজ করে ফলের মূল্য পরিশোধ করতে চাই। বাগানের মালিক বললেন, বেশ কাজ করতে থাকুন।
অনেকদিন কাজ করার পর হযরত আবু ছালেহ মূসা জঙ্গী দোস্ত রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বাগানের মালিক উনাকে বললেন, হুযূর! আমার ফলের মূল্য কি এখনও পরিশোধ হয়নি? তিনি বললেন, হ্যাঁ হয়েছে। তবে আর একটি শর্তে আপনাকে মুক্তি দিতে পারি। তিনি বললেন, কি সেই শর্ত? হযরত আব্দুল্লাহ ছাওমাই রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, আমার একটি মেয়ে আছে তাকে বিয়ে করতে হবে। তবে মেয়েটি অন্ধ, বোবা, বধির, খঞ্জ, লুলা, কালো-কুৎসিত। একথা শুনে হযরত আবু ছালেহ মূসা জঙ্গী দোস্ত রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ভাবলেন, এ ধরনের একটি মেয়েকে বিয়ে করবো! যার কাছ থেকে খিদমত পাওয়ার পরিবর্তে উল্টো তাকেই খিদমত করতে হবে। কিন্তু পরক্ষণেই চিন্তা করলেন, দুনিয়া ক্ষণস্থায়ী। কাজেই, এখন যদি তিনি ক্ষমা না করেন (বিবাহ করা ব্যতীত) তবে মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে কি জবাব দিবো, ইত্যাদি চিন্তা করে রাজি হয়ে গেলেন। বিয়ে হয়ে গেল।
আওলাদে রসূল, হযরত আবু ছালেহ মূসা জঙ্গী দোস্ত রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বাসর ঘরে প্রবেশ করেই (হযরত আব্দুল্লাহ ছাওমাই রহমতুল্লাহি আলাইহি যা বলেছেন তার সম্পূর্ণ বিপরীত দেখতে পেয়েই) তাড়াহুড়া করে ঘর থেকে বের হয়ে আসলেন। ঘর থেকে বের হয়েই দেখলেন, সামনের রাস্তায় (ঘরের সামনে একটি ছোট রাস্তা ছিল) হযরত আব্দুল্লাহ ছাওমাই রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে। বললেন, হুযূর! আপনি যা বলছিলেন এখন দেখি তার বিপরীত। হযরত আব্দুল্লাহ ছাওমাই রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন (যা তিনি পূর্বেই বুঝতে পেরেছিলেন এমন কিছু ঘটবে) বাবা! ইনিই আপনার আহলিয়া। রাত কাটান। সকালে আপনার প্রশ্নের জবাব দেব।
পরদিন হযরত আব্দুল্লাহ ছাওমাই রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত আবু ছালেহ মূসা জঙ্গী দোস্ত রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে বললেন, বাবা! আমার মেয়েকে আমি অন্ধ বলেছি এই জন্য- আমার মেয়ে কখনও কোন পর পুরুষকে দেখেননি; বোবা বলেছি এজন্য যে, তিনি কখনও কোন পাপের কথা মুখে আনেননি। বধির বলেছি এজন্য যে, তিনি কখনও পাপের কথা কানে শুনেননি। খঞ্জ ও লুলা বলেছি এজন্য যে, তিনি কখনও কোন পাপের পথে পা বাড়াননি এবং কোন পাপ কাজ স্পর্শ করেননি। কালো-কুৎসিত এজন্য বলেছি যে, উনাকে কখনও কোন পর পুরুষ দেখেনি। এ কথা শুনে হযরত আবু ছালেহ মূসা জঙ্গী দোস্ত রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার শোকরগুজার করলেন। এখানে ফিকিরের বিষয়, কেমন নেককার ও পরহেযগার মুত্তাক্বী পিতা ও মাতার ঘরে ওলীয়ে মাদারজাত, গাউছুল আ’যম, হযরত শায়েখ সাইয়্যিদ মুহিউদ্দীন বড়পীর ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি আগমন করেছেন। সুবহানাল্লাহ!
শৈশবকাল মুবারক:
অত্যন্ত সাদা-সিধেভাবে উনার শৈশবকাল অতিবাহিত হয়। তিনি অন্যান্য সাধারণ শিশু-বালকদের ন্যায় চিৎকার-চেচামেচি করতেন না। নিতান্তই শৈশবকালে, যে সময়ে দুধের শিশু সে সময়ে সাধারণভাবে ক্ষুধা নিবারণের জন্য দুধ পান করতেন; কিন্তু রমাদ্বান শরীফ মাসে তিনি দিনের বেলা কখনোই দুধপান করতেন না। দিনের বেলায় কোনো রকমের পানাহারের প্রতি কখনোই আকর্ষণ অনুভব করতেন না। যথারীতি তিনি রাতেই দুধপান করতেন এবং এইভাবে কেটে যেত শৈশবের পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাসগুলি। (অসমাপ্ত)
-আল্লামা মুফতী সাইয়্যিদ মুহম্মদ আব্দুল হালীম।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সম্মানিত মীলাদ শরীফ পাঠে অনন্য তাজদীদ মুবারক (৪)
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ইসলামী শরীয়ত মুতাবিক- ছবি তোলা হারাম
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মুসলমানদের জন্য সমস্ত খেলাধুলা হারাম
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
২২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া কবীরা গুনাহ
২২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মূর্তি, প্রতিমা, ভাস্কর্য, ম্যানিকিন ও ছবি নাজায়িয ও হারাম
২২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (৮)
২২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
যেখানে প্রাণীর ছবি থাকে, সেখানে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করেন না
২১ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২১ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মহান আল্লাহ পাক ইরশাদ মুবারক করেন
২১ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












