সুলত্বানুল হিন্দ, কুতুবুল মাশায়িখ, মুজাদ্দিদুয যামান, গরীবে নেওয়াজ, আওলাদে রসূল, হাবীবুল্লাহ
সাইয়্যিদুনা হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন হাসান চীশতী আজমিরী সাঞ্জারী রহমতুল্লাহি আলাইহি (৫৬)
(বিলাদত শরীফ ৫৩৬ হিজরী, বিছাল শরীফ ৬৩৩ হিজরী)
, ১৩ শাওওয়াল শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ১৩ হাদি আশির, ১৩৯২ শামসী সন , ১২ এপ্রিল, ২০২৫ খ্রি:, ২৯ চৈত্র, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
কারামত মুবারক:
* সেই পুরোহিত বা দলপতি বললো, তাহলে আপনি কি এ কথা বলতে চান যে, যারা মহান আল্লাহ পাক উনার ইবাদত করেন তারা আগুনে জ্বলবে না? সাইয়্যিদুনা হযরত খাজা গরীবে নেওয়াজ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, নিশ্চয়ই তাই। ” তখন পুরোহিত বললো, “আমি কি করে বিশ্বাস করবো যে মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি বিশ্বাস স্থাপনকারীকে আগুন জ্বালাতে পারবে না? আপনি যদি জ্বলন্ত আগুন হাতে নিয়ে দেখাতে পারেন যে আপনার হাত না জ্বলে অক্ষত রয়েছে তাহলে আপনার কথা বিশ্বাস করবো।
তখন সাইয়্যিদুনা হযরত খাজা গরীবে নেওয়াজ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, “আমি মুঈনুদ্দীন কেন, মুঈনুদ্দীনের জুতাকেও আগুন জ্বালাবার ক্ষমতা রাখে না। ” এ কথা বলে তিনি উনার পবিত্র না’লাইন শরীফ বা জুতা মুবারককে জ্বলন্ত অগ্নিকুন্ডে নিক্ষেপ করে বললেন, “হে আগুন! এ জুতা যদি মহান আল্লাহ পাক উনার মকবুল বান্দার (মহান আল্লাহ পাক উনার নৈকট্য লাভকারী বান্দা) হয়ে থাকে তাহলে তুমি এ জুতার হিফাযত এভাবে করো যেন এর মধ্যে সামান্যতম আঁচও না লাগে। দেখা গেলো সাথে সাথে আগুন নিভে গিয়ে ঠা-া হয়ে গেলো এবং জুতা অক্ষত অবস্থায় বের হয়ে এলো। এ কারামত দেখে অগ্নি উপাসকের দলপতি তার লোকজনসহ মহাসম্মানিত কালিমা শরীফ পাঠ করে মুসলমান হয়ে গেলো এবং সাইয়্যিদুনা হযরত খাজা গরীবে নেওয়াজ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার হাত মুবারকে হাত রেখে তরীকার উপর বাইয়াত গ্রহণ করলো। সুবহানাল্লাহ!
বর্ণিত আছে যে, ডাকাত দল ছিলো খৃষ্টান। তাদের নিয়ম ছিলো যাদেরকে তারা আক্রমণ করে তারা যদি খৃষ্টান বা ইহুদী হতো তাহলে তারা তাদের মাল-পত্র লুট করে ছেড়ে দিতো। আর যদি মুসলমান হতো তাহলে তাদের মাল-পত্র লুট করার পর তাদেরকে হত্যা করে ফেলতো। নাউযুবিল্লাহ!
* হারূনী মাশায়িখ, সাইয়্যিদুনা হযরত গরীবে নেওয়াজ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি একবার সফরে ছিলেন। এক স্থানে হযরত আহাদুদ্দীন কিরমানী রহমতুল্লাহি আলাইহি ও হযরত শিহাবুদ্দীন সোহরাওয়ার্দী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনারাও উনার সাথে বসেছিলেন। সেই সময় একজন অল্প বয়স্ক বালক যিনি তীর ধনুক কাধে নিয়ে আপন মনে উনাদের পার্শ্ব দিয়ে যাচ্ছিলেন। সাইয়্যিদুনা হযরত গরীবে নেওয়াজ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার দৃষ্টি মুবারক তার উপর পড়লো। তিনি সহসাই বলে উঠলেন- “এই বালক একদিন দিল্লির সিংহাসনে বসবে। বাদশাহ হবে। ”
কালক্রমে উনার এই পবিত্র বাক্য মুবারক অক্ষরে অক্ষরে পরিণত হয়েছিলো। তিনি আর কেউ নন। তিনি হচ্ছেন সুলতান শামসুদ্দীন আলতামাস। যিনি দিল্লীর সিংহাসন অলঙ্কৃত করেছিলেন। সুদীর্ঘ ২৬ বছর সিংহাসনে অধিষ্টিত ছিলেন। সুবহানাল্লাহ! (হযরত খাজা গরীবে নেওয়াজ রহমতুল্লাহি আলাইহি পূর্ণাঙ্গ জীবনী-২৬৯)
* হারূনী মাশায়িখ, সাইয়্যিদুনা হযরত গরীবে নেওয়াজ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি একদিন পবিত্র খানকা শরীফে বসা ছিলেন। এমন সময় এক মহিলা কাঁদতে কাঁদতে পবিত্র খানকা শরীফ উনার নিকটবর্তী হলেন। বললেন, হুযূর! বেয়াদবী ক্ষমা চাই। আমার একমাত্র পুত্র সন্তান। তাকে এই শহরের শাসকর্তা বিনা অপরাধে কতল করেছে। আপনি মহান আল্লাহ পাক উনার ওলী। মহান আল্লাহ পাক উনার যবানে কথা বলে থাকেন। আপনি মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে যা চান তিনি তাই দিয়ে থাকেন। আপনি দয়া করে আমার অবস্থাটা ভেবে দেখুন। আমি বিধবা। আমার আহাল (স্বামী) নেই। একমাত্র কর্মক্ষম সন্তান। তাকেও একেবারে অহেতুক ও বিনা কারণে হত্যা করেছে। আমি এখন কি করবো।
সুলত্বানুল হিন্দ, কুতুবুল মাশায়িখ, সাইয়্যিদুনা হযরত গরীবে নেওয়াজ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বিধবা মহিলার আহাজারী, কাকুতি-মিনতি শুনে নিজের হাত মুবারকের লাঠিটি নিয়ে উঠে দাঁড়ালেন। মহিলাকে বললেন, চলুন। আপনার ছেলের লাশ কোথায়? খাদিমগণ উনার সাথে ছিলেন। সুলত্বানুল হিন্দ, কুতুবুল মাশায়িখ, সাইয়্যিদুনা হযরত গরীবে নেওয়াজ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি লাশের নিকটবর্তী হলেন। লাশের শরীরে হাত মুবারক রেখে বললেন, “হে যুবক! তুমি যদি বিনা কারণে কতল হয়ে থাকো, তাহলে মহান আল্লাহ পাক উনার হুকুমে জীবিত হয়ে যাও। ”
উনার পবিত্র যবান মুবারকের বাক্য বের হওয়ার সাথে সাথে সেই যুবক তার জীবন ফিরে পেলো। তা দেখে বিধবা মহিলা আশ্চার্যান্বিত হলেন। তার বিশ্বাসই হচ্ছিলো না যে, এটাই কি তার সন্তান। পরে মা ও ছেলে উভয়ে সুলত্বানুল হিন্দ, কুতুবুল মাশায়িখ, সাইয়্যিদুনা হযরত গরীবে নেওয়াজ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মুরীদ হয়ে গেলেন। সুবহানাল্লাহ! (চলবে)
-০-
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (১০)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ছবি তোলা হারাম, যা জাহান্নামী হওয়ার কারণ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত আশূরা শরীফ উনাকে যারা সম্মান করবে তাদের জন্য-
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত শরীয়ত উনার ফায়ছালা মতে কুলাঙ্গার ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহি কাট্টা কাফির ও চিরজাহান্নামী (১)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পৃথিবীকে পরিবর্তন করার চেয়ে নিজেকে পরিবর্তন করা সহজ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পর্দা রক্ষা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া ব্যভিচারের সমতুল্য
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
৩টি বিষয় কেবল তিনটি অবস্থায়ই জানা যায়।
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত মীলাদ শরীফ পাঠে অনন্য তাজদীদ মুবারক (৪)
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ইসলামী শরীয়ত মুতাবিক- ছবি তোলা হারাম
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












