খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, ছানীয়ে মুজাদ্দিদে আ’যম, ছাহিবু সুলত্বানুন নাছীর,
সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার মুবারক নছীহত শরীফ
(সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’দাদ শরীফ মহাসম্মানিত ১২ই শরীফ)
, ১৬ রবীউল আউওয়াল শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ০১ রবি, ১৩৯৪ শামসী সন , ৩০ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি:, ১৫ ভাদ্র, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
(৪র্থ পর্ব)
আচ্ছা! এরপরে আসি ইত্তেবা বা অনুসরণের আলোচনায়। এই হক্ব সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন তিনি কালামুল্লাহ শরীফ সূরা আ’রাফ শরীফের ১৫৮নং আয়াত শরীফের মাধ্যমে আমাদেরকে জানিয়ে দিয়েছেন, মূলত এই আয়াত শরীফটা দুইটা হক্বের কথা বলা হয়েছে। একটা হচ্ছে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে পাওয়ার কারণে ঈমান আনতে হবে। যেটা আমরা পূর্বে আলোচনা করেছি এবং আরেকটা হচ্ছে উনার ইত্তেবা বা অনুসরণ করতে হবে। যেটা আমি এখন আলোচনা করবো! বিষয়টা পরিস্কার হওয়ার জন্য আমি আয়াত শরীফটা আবারও পাঠ করছি-
قُلْ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَيْكُمْ جَمِيعًا الَّذِي لَهُ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۖ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ يُحْيِي وَيُمِيتُ ۖ فَآمِنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ النَّبِيِّ الْأُمِّيِّ الَّذِي يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَكَلِمَاتِهِ وَاتَّبِعُوهُ لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ
আচ্ছা! এখানে প্রথম অংশতে ঈমান আনার কথা বলা হয়েছে যে, النَّبِيِّ الْأُمِّيِّ আর পরের অংশে বলা হচ্ছে যে, وَاتَّبِعُوهُ অর্থাৎ তোমরা উনার ইত্তেবা করো! لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ তাহলেই তোমরা হেদায়েতপ্রাপ্ত হবে। অর্থাৎ হক্বটা তখন আদায় হবে, আরকি। আচ্ছা! এই আয়াত শরীফের মাধ্যমে মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে জানিয়ে দিয়েছেন যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে পাওয়ার কারণে আমাদের আরেকটা হক্ব হলো- ইত্তেবা করা। আচ্ছা! এই ইত্তেবাটা কিভাবে করতে হবে? এটাও আমরা ছাহাবায়ে কিরামগণ উনাদের জীবনী মুবারকে দেখতে পাই। এবং এক্ষেত্রে ফারুক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার একটা বানী মুবারক আছেন, উনি বলছিলেন যে-
شيء صنعه النبي صلى الله عليه وسلم فلا نحب أن نتركه"
যে কাজটা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম করেছেন সেটাকে তরক্ব করা বা ছেড়ে দেওয়াটা আমরা পছন্দ করি না। অর্থাৎ করাটাই আমরা পছন্দ করি। এক্ষেত্রে একটা উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে- যে একবার নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি একবার আংটি মুবারক পড়লেন তখন সব ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনার অনুসরণে আংটি মুবারক পড়া শুরু করলেন। এরপর আবার উনি আংটি পড়া বাদ দিয়ে দিলেন, আবার সবাই বাদ দিয়ে দিলেন। উনি কিন্তু কাউকে আদেশও করেন নাই, নিষেধও করে নাই। উনি পড়া শুরু করে দিয়েছেন সবাই পড়া শুরু করে দিয়েছেন। উনি পড়া বাদ দিয়ে দিয়েছেন সবাই পড়া বাদ দিয়ে দিয়েছেন। উনারা সবাই এইভাবেই অনুসরণ করতেন।
আর একটা ঘটনা বলা যেতে পারে- এইটা ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার বিছাল শরীফের আগের ঘটনাটা। এটা আমরা অনেকেই জানি। যে উনার বিছাল শরীফের আগ মুহূর্তে একদম অন্তিমকালে উনি উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনাকে জিজ্ঞাসা করতেছিলেন যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে যে কাফন মুবারক পড়ানো হয়েছে ওখানে কয় কাপড় ছিলো? তো উনি বললেন তিন কাপড়। আচ্ছা! তো পরে আবার জিজ্ঞাসা করলেন, উনার বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন ওইদিন কি বার ছিলো? তো; উনি বললেন যে, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ। তো; জিজ্ঞাসা করলেন, আজকে কি বার? তো বললেন যে, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ। তখন উনি বললেন, যে আজকে যদি, আমার যদি আজকেই বিছাল শরীফটা হতো, চিন্তা-ফিকিরের বিষয় যে, উনার একদম শেষ সময়, এসময় তো মানুষের শরীর আসলে অনেক অসুস্থ থাকে, অনেক দুর্বল থাকে। ওই সময়ও উনার ইত্তেবা করার খেয়াল ছুটে যায় নাই।
এরপরে ইত্তেবাটা মানে শুধু যদি উনি বলতেন, যে তিন কাপড়ে কাফন মুবারক পড়ানো হয়েছে আমাকে এটা দিয়েন। ওইটাতো উনি বলছেনই। যেইটা নাকি উনার, মানে মানুষ কবে ইন্তেকাল করবে এটাতো আল্লাহ পাক নির্ধারণ করেন। ওইটাতেও যদি ইত্তেবা হয় ওইটাও উনার ইচ্ছা। কত উনারা মানে ইত্তেবা করার জন্য ব্যাকুল ছিলেন। কিভাবে উনারা করতেন? প্রত্যেকটা বিষয় ধরে ধরে ধরে ধরে উনারা অনুসরণ করতেন। কাজেই আমাদেরও এখান থেকে শিখতে হবে। আসলে আমাদেরও এইভাবে অনুসরণ করতে হবে।
আচ্ছা! এরপরে তৃতীয় ভাগে যেটা রয়েছে সেটা হচ্ছে নুসরাত এবং তা’যীর। মহান আল্লাহ পাক তিনি সূরা আ’রাফ শরীফের ১৫৭ নং আয়াত শরীফে ইরশাদ মুবারক করেন-
فَالَّذِينَ آمَنُوا بِهِ وَعَزَّرُوهُ وَنَصَرُوهُ وَاتَّبَعُوا النُّورَ الَّذِي أُنزِلَ مَعَهُ ۙ أُولَٰئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ
যারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উপর ঈমান এনেছেন উনাকে সম্মান করেছেন এবং উনার খিদমতের আনজাম দিয়েছেন এবং সেই নূর অনুসরণ করেছেন যা উনার সাথে অবতীর্ণ হয়েছেন উনারাই সফলকাম। এই আয়াত শরীফ হচ্ছে ঐ আয়াত শরীফের পরের অংশ যেটা আমি পূর্বে বলেছি। যেখানে বলা হয়েছিলো, তিনি আমাদেরকে সৎ কাজ এবং অসৎ কাজ চিনিয়েছেন, পবিত্রতা-অপবিত্রতা শিখিয়েছেন। আমাদের কাধের বোঝা এবং হাত পায়ের বেড়ি খুলে দিয়েছেন। সেই আয়াত শরীফেরই পরের অংশ।
(পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় থাকুন)
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ফাদ্বায়িলে উম্মাহাতিল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম (৪)
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পর্দা সর্বপ্রকার বিপদ-আপদ থেকে হিফাজত হওয়ার মাধ্যম
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
দ্বীন ইসলাম উনার জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর ৩ শ্রেণী
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
শরীয়তের দৃষ্টিতে কোন রোগই ছোঁয়াচে নয়,
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্রতা সম্পর্কিত মাসয়ালা-মাসায়িল (১২)
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা কবীরা গুনাহ ও অসন্তুষ্টির কারণ
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
বিধর্মী-অমুসলিমরা কখনো মুসলমানদের ভাই/বন্ধু নয়, বরং তারা মুসলমানদের চির শত্রু (৪র্থ পর্ব)
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মূর্তি, প্রতিমা, ভাস্কর্য, ম্যানিকিন ও ছবি নাজায়িয ও হারাম
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (২৪)
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বেপর্দা হওয়া লা’নত ও হালাকীর কারণ
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












