জীবনী মুবারক
সাইয়্যিদুনা হযরত আব্বাস ইবনে আবদুল মুত্তালিব আলাইহিস সালাম (৪)
বিলাদত শরীফ: ৫৬৬ খৃ: বিছাল শরীফ: ৩২ হিজরী (৬৫৩ খৃ:) বয়স মুবারক: ৮৮ বছর।
, ২৪ জুমাদাল ঊখরা শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৭ সাবি’, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রি:, ০১ পৌষ অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
ফযীলত ও বুযূর্গী:
একবার কুরাইশদের একটি আচরণ সম্পর্কে হযরত আব্বাস আলাইহিস সালাম তিনি অভিযোগ করলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অত্যন্ত জালালী শান মুবারক প্রকাশ করে বললেন, “সেই মহান সত্তার কসম! যার কুদরতী হাত মুবারকে আমার (মহাসম্মানিত নূরুল আমর) প্রাণ মুবারক! যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য আপনাদেরকে মুহব্বত করে না তার অন্তরে ঈমানের নূর থাকবে না।”
একবার নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এক বৈঠকে সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম ও হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম উনাদের সাথে কথা বলছিলেন। এমন সময় হযরত আব্বাস আলাইহিস সালাম তিনি উপস্থিত হলেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাকে নিজের ও হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার মাঝখানে বসালেন এবং কন্ঠস্বর একটু নীচু করে কথা বলতে লাগলেন। হযরত আব্বাস আলাইহিস সালাম চলে যাওয়ার পর হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি উক্তরূপ করার কারণ জিজ্ঞাসা করলেন।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, “মর্যাদাবান ব্যক্তিই পারে মর্যাদাবান ব্যক্তির মর্যাদা দিতে।”
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পরে পরবর্তী হযরত খুলাফায়ে রাশেদীন আলাইহিমুস সালাম উনারা প্রত্যেকেই হযরত আব্বাস আলাইহিস সালাম উনার যথাযোগ্য মর্যাদা দিয়েছেন। সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম ও হযরত উছমান যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনারা হযরত আব্বাস আলাইহিস সালাম উনার পাশ দিয়ে অতিক্রম করার সময় উনার সম্মানার্থে ঘোড়া থেকে নেমে পড়তেন এবং বলতেন, “ইনি হচ্ছেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত চাচা।”
আফদ্বালুন নাস বা’দাল আম্বিয়া, হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি একমাত্র হযরত আব্বাস আলাইহিস সালাম উনাকেই নিজের আসন থেকে সরে গিয়ে স্থান করে দিতেন। আর হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি উনাকে বদরী ছাহাবীদের সমান মর্যাদা দান করেছিলেন।
হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত আছে, হযরত আব্বাস আলাইহিস সালাম উনার জীবিতাবস্থায় হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি হযরত আব্বাস আলাইহিস সালাম উনাকে সঙ্গে নিয়ে বৃষ্টির নামায পড়ার জন্য বের হতেন। তখন তিনি বলতেন, “আয় মহান আল্লাহ পাক! আমরা আমাদের নবী পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হায়াত মুবারকে উনার উছিলায় অনাবৃষ্টির সময় বৃষ্টির জন্য দোয়া করেছি এবং আপনি বৃষ্টি দিয়েছেন। আর এখন আমরা নবী পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত চাচার উছিলায় দোয়া করছি; সুতরাং আমাদেরকে বৃষ্টি দিন।” দেখা যেতো উক্তরূপ দোয়া করার ফলে বৃষ্টিপাত হতো। (দালায়েল, আবু নায়ীম)
একবার জুমুয়ার দিন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হয়ে জুমুয়ার নামাযের জন্য পোশাক পরিধান করে মসজিদে যাচ্ছিলেন; এমন সময় হযরত আব্বাস আলাইহিস সালাম উনার গৃহের নিকট দিয়ে পথ অতিক্রমকালে উনার উপর পানি নিষ্কাশন নল হতে ময়লা পানির ছিঁটা লাগে। জনসাধারণের অসুবিধা দূর করার উদ্দেশ্যে হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম নিষ্কাশন নলটি তুলে ফেলেন; কিন্তু হযরত আব্বাস আলাইহিস সালাম বললেন যে, “এই নিষ্কাশন নলটি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি স্বয়ং উনার পবিত্র নূরুল মাগফিরাহ (হাত মুবারক) দ্বারা স্থাপন করেছিলেন।”
ইহা শুনে সাইয়্যিদুনা ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম শপথ করে বললেন, “আমার স্কন্ধে চড়ে নিষ্কাশন নলটি পুনরায় যথাস্থানে স্থাপন করে দিন।” ফলে হযরত আব্বাস আলাইহিস সালাম উনাকে তাই করতে হলো। (আস-সামহুদী)
হযরত আব্বাস আলাইহিস সালাম ছিলেন অত্যন্ত দানশীল, অতিথি পরায়ণ ও দয়ালু। হযরত সা’দ ইবনে আবী ওয়াক্কাছ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, “হযরত আব্বাস আলাইহিস সালাম হলেন মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার চাচা, কুরাইশদের মধ্যে সর্বাধিক দরাজ হস্ত এবং আত্মীয় স্বজনের প্রতি অধিক মনোযোগী। তিনি ছিলেন কোমল অন্তর বিশিষ্ট। দোয়ার জন্য হাত মুবারক উঠালেই চোখ থেকে অশ্রুর বন্যা বয়ে যেতো। এ কারণে উনার দোয়ার এক বিশেষ আছর পরিলক্ষিত হতো।”
হযরত আব্বাস আলাইহিস সালাম তিনি ৩৫টি হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন। উনার নিকট থেকে উনার পুত্র হযরত আবদুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও হযরত কাসির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, হযরত উবায়দুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, হযরত আউন বিন সা’দ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু প্রমুখ হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন।
হযরত আব্বাস আলাইহিস সালাম উনার মধ্যে কাব্য প্রতিভাও ছিলো। হুনাইনের জিহাদের অভিজ্ঞতা তিনি একটি কবিতায় ব্যক্ত করেছিলেন। (আসমাউর রিজাল, আল-ইসতিয়াব, সীরাতে ইবনে ইসহাক)
সূত্রসমূহ: দালায়েলুন নুবুওয়াত, উসুদুল গাবা, রিজালুন হাওলার রসূল, আসমাউর রিজাল, হায়াতুছ ছাহাবা, কানযুল উম্মাল, আস-সামহুদী, আল-ইসতিয়াব, সীরাতে ইবনে ইসহাক, ইসলামী বিশ্বকোষ। (সমাপ্ত)
-আল্লামা সাঈদ আহমদ গজনবী।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া হারাম
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ওলীআল্লাহ উনাদের সম্পর্কে বদ আক্বীদা পোষণ এবং উনাদের বিরুদ্ধাচরণের কারণে কঠিন পরিণতি
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (৫)
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত মসজিদের মধ্যে উচ্চস্বরে কথা বলা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
অসংখ্য হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত- প্রাণীর ছবি হারাম
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
যে বা যারা কাফিরদের সাথে সম্পর্ক রাখবে সে দ্বীন ইসলাম থেকে খারিজ হবে
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সুগন্ধে ভরে উঠলো পুরো মাঠ!
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ছহিবে নিসাব প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য পবিত্র কুরবানী দেয়া ওয়াজিব (৪)
২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












