সর্বশ্রেষ্ঠ রাত পবিত্র লাইলাতুল মাওলিদ (মহাপবিত্র নূরুত তাশরীফ উনার রাত মুবারক) আজ থেকে প্রায় ৭০০ বছর আগের শ্রেষ্ঠত্বের পক্ষে দলীলসমূহ (৫ম পর্ব)
, ০২ রবীউছ ছানী শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ১৬ রবি, ১৩৯৪ শামসী সন , ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রি:, ৩০ ভাদ্র, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ
সম্মানিত দুই রাত মুবারক পবিত্র লাইলাতুল মাওলিদ শরীফ (মহাপবিত্র নূরুত তাশরীফ রাত মুবারক) না পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর শরীফ কোনটি শ্রেষ্ঠ? প্রখ্যাত মালেকী ফক্বীহ ও মুহাদ্দিছ হাফিজ আবু আব্দুল্লাহ মুহম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে মারজুক আত-তিলেমসানী রহমতুল্লাহি আলাইহি (ওফাত: ৭৮১ হিজরী, ১৩৭৯ ঈসায়ী) রচনা করেন এক কালজয়ী গ্রন্থ: যার আরবী নাম-
جنى الجنتين في شرف الليلتين: ليلة القدر - ليلة المولد
অর্থাৎ “দুই রাতের মর্যাদা সম্পর্কে দুই জান্নাতের ফল, পবিত্র লাইলাতুল মাওলিদ শরীফ (মহাপবিত্র নূরুত তাশরীফ) রাত মুবারক ও পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর শরীফ।
এই কিতাবটি রচনার মূল প্রেক্ষাপট ও ঐতিহাসিক কারণ তিনটি: ১. আবু ইসহাক আশ-শাতিবী- (ওফাত ৭৯০ হিজরী, ১৩৮৮ ঈসায়ী) এর সরাসরি বক্তব্য ও তার কিতাব আল-ই’তিসাম এর উত্থাপিত আপত্তি, যুক্তির খ-ন (সমসাময়িক)।
২. তাজউদ্দীন আল-ফাকাহানী ওফাত: (৭৩১ হিজরী, ১৩৩১ ঈসায়ী) লিখিত গ্রন্থ المورد في عمل المولد আল-মাওয়ারিদু ফি আমালিল মাওলি কিতাবের প্রতিটি বক্তব্য, দলিল ও যুক্তিকে ধরে ধরে খ-ন।
৩. তিউনিসিয়ার সুলতান আবু ইসহাক ইব্রাহিম আল-হাফসি- পবিত্র লাইলাতুল মাওলিদ শরীফের জটিল বিতর্ক ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের সমাধান চেয়ে একটি রাজকীয় চিঠির (رسالة) অনুরোধের লিখিত কিতাব। যা অসংখ্য দলিলের মাধ্যমে তিনি লাইলাতুল মাওলিদ শরীফ (মহাপবিত্র নূরুত তাশরীফে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রাত মুবারক উনার শ্রেষ্ঠত্বের পক্ষে ২১টি কারণ উপস্থাপন করেন, এর পাশাপাশি ২১টি কারণের পরে আবার কী কী প্রশ্ন হতে পারে সেটাও উত্তর দিয়ে গেছেন। আমরা ২১টি কারণ ও তার পরের প্রশ্নের উত্তর ধারাবাহিক প্রকাশ করবো। ইনশাআল্লাহ!
২১টি কারণসমূহ ধারাবাহিক প্রকাশ করা হলো উক্ত কিতাব থেকে- (১৯১ থেকে ২০৫ পৃষ্ঠা পর্যন্ত)
الأدلة على أفضلية ليلة المولد
পবিত্র মাওলিদ শরীফ বা (মহাপবিত্র নূরুত তাশরীফ): রাত মুবারক উনার শ্রেষ্ঠত্বের পক্ষে দলীলসমূহ:
الرَّابِعَ عَشَرَ: لَيْلَةُ الْقَدْرِ ثَبَتَ فِي فَضْلِهَا مَا ثَبَتَ مِمَّا قَدَّمْنَاهُ إِلَّا أَنَّهُ عَرَضَ فِيهَا مَا عَرَضَ مِنَ الْخِلَافِ فِي الْبَقَاءِ وَالرَّفْعِ وَإِنْ ضَعُفَ، وَلَيْلَةُ مَوْلِدِهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ شَرَفُهَا بَاقٍ لِمَا سَنَذْكُرُهُ بَعْدُ إِنْ شَاءَ اللهُ تَعَالَى، فَكَانَتْ أَفْضَلَ بِهَذَا الِاعْتِبَارِ.
চতুর্দশ কারণ: পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর শরীফ উনার শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে যা কিছু প্রমাণিত হয়েছে তা তো আমরা ইতিপূর্বেই আলোচনা করেছি; তবে এ রাতটি কি অবিনশ্বরভাবে রয়ে গেছে, নাকি তা উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে এ বিষয়ে আলিমদের মতভেদ পরিলক্ষিত হয় (যদিও সেই মতভেদটি দুর্বল)। পক্ষান্তরে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার লাইলাতুল মাওলিদ শরীফ বা মহাপবিত্র নূরুত তাশরীফ উনার রাত মুবারক সম্মান ও মর্যাদা চিরস্থায়ী, যা ইনশাআল্লাহ আমরা পরবর্তীতে উল্লেখ করবো। সুতরাং এই কারণেও লাইলাতুল মাওলিদ শরীফ বা মহাপবিত্র নূরুত তাশরীফ উনার রাত মুবারক অধিক উত্তম।
الْخَامِسَ عَشَرَ: الْمُدَّعَى أَنَّ لَيْلَةَ الْمَوْلِدِ أَفْضَلُ، وَيَدُلُّ عَلَيْهِ بِأَنْ نَقُولَ: زَمَنٌ شَرُفَ بِوِلَادَتِهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَإِضَافَتِهِ إِلَيْهِ وَاخْتُصَّ بِذَلِكَ فَلْيَكُنْ أَفْضَلَ الأَزْمِنَةِ قِيَاسًا عَلَى أَفْضَلِيَّةِ الْبُقْعَةِ الَّتِي اخْتُصَّتْ بِهِ وَلَحْدِهِ عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ بَيْنَ أَطْبَاقِهَا عَلَى سَائِرِ الأَمْكِنَةِ، وَقَدْ فُضِّلَتْ إِجْمَاعًا فَلْيَكُنِ الزَّمَنُ الَّذِي اخْتُصَّ بِوِلَادَتِهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَفْضَلَ الأَزْمَانِ (٤٦/ب) بِهَذَا الِاعْتِبَارِ.
পঞ্চদশ কারণ: আমাদের মূল দাবি হলো- লাইলাতুল মাওলিদ শরীফ উনার রাত মুবারক (নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার লাইলাতুল মাওলিদ শরীফ বা মহাপবিত্র নূরুত তাশরীফ উনার রাত মুবারক) অধিক উত্তম; আর এর স্বপক্ষে দলিল হিসেবে আমরা বলি: যে সময় বা কাল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার লাইলাতুল মাওলিদ শরীফ বা মহাপবিত্র নূরুত তাশরীফের মাধ্যমে সম্মানিত হয়েছে, উনার দিকে সম্বন্ধযুক্ত হয়েছে এবং এ বৈশিষ্ট্যে অনন্য হয়েছে তা অন্য সকল সময়ের চেয়ে শ্রেষ্ঠ হওয়াই যুক্তিসঙ্গত।
যেমনটি কিয়াস (তুলনা) করা যায় সেই নির্দিষ্ট ভূখ-ের শ্রেষ্ঠত্বের উপর, যা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাপবিত্র রওজা মুবারক উনাকে ধারণ করার কারণে অন্য সমস্ত স্থানের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছে। আর ঐ স্থানের শ্রেষ্ঠত্ব যেমন সর্বসম্মতভাবে (ইজমা দ্বারা) স্বীকৃত, তেমনি যে সময় বা কাল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার লাইলাতুল মাওলিদ শরীফ বা মহাপবিত্র নূরুত তাশরীফের জন্য বিশেষায়িত হয়েছে, এই বিবেচনায় তা-ও সমস্ত সময়ের চেয়ে শ্রেষ্ঠ ও উত্তম বলে গণ্য হবে।
السَّادِسَ عَشَرَ: لَيْلَةُ الْقَدْرِ فَرْعُ ظُهُورِهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَلَيْلَةُ الْمَوْلِدِ أَصْلُ ظُهُورِهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَالْفَرْعُ لَا يَقْوَى قُوَّةَ الأَصْلِ، فَفُضِّلَتْ لَيْلَةُ الْمَوْلِدِ بِهَذَا الِاعْتِبَارِ وَهُوَ الْمَطْلُوبُ.
ষোড়শ কারণ: পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর শরীফ হলো- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ধরাধামে মহাসম্মানিত আত্মপ্রকাশের শাখা (فرع); আর লাইলাতুল মাওলিদ শরীফ (মহাপবিত্র নূরুত তাশরীফ) রাত মুবারক হলো- উনার মহাসম্মানিত আত্মপ্রকাশের মূল ভিত্তি বা উৎস (أصل)।
আর শাখা কখনোই মূলের মতো শক্তিশালী হতে পারে না। সুতরাং, এই বিবেচনায় লাইলাতুল মাওলিদ শরীফ বা মহাপবিত্র নূরুত তাশরীফ উনার রাত মুবারক শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়া হয়েছে; আর এটাই আমার প্রমাণের উদ্দেশ্য। (চলবে)
বর্তমান সময়ে অকাট্য, প্রকাশ্য দলিল দ্বারা এবং ৯০ দিনব্যাপী আজিমুশ্বান মাহফিল উনার ইন্তেজাম করে এই মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নূরুত তাশরীফ দিবস মুবারক তথা মহাসম্মানিত মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ উনার শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছেন যিনি যামানার মহাসম্মানিত ইমাম রাজারবাগ শরীফ উনার মহান মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলতানুন নাছীর আলাইহিস সালাম।
-খন্দকার মুহম্মদ আরিফ হাসান।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাঝে ফানা ও বাক্বা সারা কায়িনাত (৫৫)
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি মুবারক:
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাঝে ফানা ও বাক্বা সারা কায়িনাত (৫৪)
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি মুবারক:
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নূরুত তাশরীফ মুবারক অর্থাৎ মহাসম্মানিত বিলাদতী শান মুবারক পালন করার বিষয়ে বিশিষ্ট মুহাদ্দিছ হযরত ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার হাদীছ শরীফ বর্ণনা
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাঝে ফানা ও বাক্বা সারা কায়িনাত (৫৩)
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
আল হাদিয়্যাতুল ইলাহিয়্যাহ ফী সীরাতি হাবীব ওয়া মাহবূবিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (৪৫)
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নূরুত তাশরীফ মুবারক (বিলাদতী শান মুবারক) পালন করার বিষয়ে বিশিষ্ট মুহাদ্দিছ হযরত ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার হাদীছ শরীফ বর্ণনা
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক (৬৩)
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
আল হাদিয়্যাতুল ইলাহিয়্যাহ ফী সীরাতি হাবীব ওয়া মাহবূবিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (৪৪)
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












