সম্মানিত মহিলা ছাহাবী উনাদের বেমেছাল মুহব্বত মুবারক
, ১৫ রবীউল আউওয়াল শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১১ রবি’, ১৩৯৩ শামসী সন , ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ খ্রি:, ২৪ ভাদ্র, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) মহিলাদের পাতা
উহুদের জিহাদ সংগঠিত হলো। ইবলিস মিথ্যা কথা ছড়িয়ে দিল। কি মিথ্যা কথা। যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশ করেছেন। নাউযুবিল্লাহ! তখন সমস্ত হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা চিন্তিত হলেন। যেহেতু উহুদের ময়দান পবিত্র মদীনা শরীফ থেকে ৩ মাইল দূরবর্তী ছিল তখন যারা পুরুষ ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা অবশ্যই জিহাদের দিকে ধাবিত হলেন, প্রাণপন দিয়ে জিহাদ করতে থাকলেন। আর যারা মহিলা ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুন্না উনারা যারা ছিলেন, উনারাও সেই উহুদের ময়দানের দিকে ধাবিত হলেন বিষয়টি তাহক্বীক্ব করার জন্য।
উনাদের মধ্যে একজন বিশিষ্ট মহিলা ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তিনি খুব দ্রুত গতিতে যাচ্ছিলেন, তিনি যখন যাচ্ছিলেন তখন ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা জিহাদ প্রায় শেষ করে কেউ কেউ প্রত্যাবর্তন করতেছিলেন। আর কাফিররা তো পালিয়েছে। সেই অবস্থায় সেই ছাহাবীয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তিনি যাচ্ছিলেন দ্রুত গতিতে। যখন কিছু ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের সাথে সাক্ষাত হলো তখন তিনি জানতে চাইলেন, মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কোথায় আছেন, কেমন আছেন। তখন সেই ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের জানা ছিল না। উনারা বললেন, হে মহিলা ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা, আপনার যিনি পিতা তিনিতো জিহাদে শহীদ হয়ে গেছেন। তিনি বললেন, আমি তো আমার পিতা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করিনি। আমি জানতে চেয়েছি, মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কোথায় আছেন, কেমন আছেন। তখন উনারা বললেন, আপনি সামনের দিকে অগ্রসর হোন জানতে পারবেন। তিনি আরো দ্রুত গতিতে অগ্রসর হলেন।
তিনি কিছুদূর যাওয়ার পরে আরো কিছু ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের সাথে সাক্ষাত হলো, তিনি একই প্রশ্ন করলেন যে, মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কোথায় আছেন, কেমন আছেন। উনারা জবাবে বললেন, আপনার যে ভাই তিনি জিহাদে শহীদ হয়েছেন। তিনি বললেন, আমি তো আমার ভাই সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করিনি। আমি জানতে চেয়েছি, মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কোথায় আছেন, কেমন আছেন। উনারা বললেন, আপনি সামনে অগ্রসর হোন।
তিনি আরো দ্রুত গতিতে ধাবিত হলেন। আরো কিছুদূর যাওয়ার পরে আরো কিছু ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের সাথে সাক্ষাত হলো। উনি আবার জানতে চাইলেন, মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কোথায় আছেন, কেমন আছেন। উনারা জবাব দিলেন, আপনার যিনি ছেলে তিনি জিহাদে শহীদ হয়েছেন। তিনি জবাব দিলেন, আমি তো আমার ছেলে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করিনি। আমি জানতে চেয়েছি, মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কোথায় আছেন, কেমন আছেন। উনারা বললেন, আপনি আরো সামনে অগ্রসর হোন।
তিনি আরো কিছুটা অগ্রসর হলেন। আরো কয়েকজন ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের সাথে সাক্ষাত হলো। তিনি উনাদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন যে, মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কেমন আছেন, কোথায় আছেন। উনারা বললেন, আপনার যিনি স্বামী-আহাল তিনিতো জিহাদে শহীদ হয়েছেন। সেই মহিলা ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা বললেন, আমি তো আপনাদেরকে আমার আহাল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করিনি। আমি জানতে চেয়েছি যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কোথায় আছেন, কেমন আছেন। উনারা বললেন, আপনি সামনে অগ্রসর হোন, জানতে পারবেন।
সত্যিই তিনি যখন আরো সামনে গেলেন, এক স্থানে দেখতে পেলেন, কিছু ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা একত্রিত হয়ে ঘেরাও করে আছেন। সেখানে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অত্যন্ত ইতমিনানের সাথে অবস্থান মুবারক করতেছিলেন।
সেই মহিলা ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তিনি সেখানে গেলেন, দেখলেন, দেখে তিনি বললেন, “কুল্লু মুছীবাতিন বা’দাকা জালাল ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। ”
এটা বলে তিনি সামনে জমিনের মধ্যে বসে গেলেন। তিনি বললেন, “কুল্লু মুছীবাতিন বা’দাকা জালাল ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। ” তিনি বললেন, আমার পরিবারের মধ্যে ৪ জন জিহাদ করতে এসেছিলেন। পিতা, ভাই, ছেলে, আহাল। এই ৪ জন এসেছিলেন উহুদের জিহাদে জিহাদ করার জন্য।
উনারা ৪ জনই শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশ করেছেন। এই সংবাদ আমাকে দেয়া হয়েছে। অবশ্যই এটা একজন মহিলার জন্য অত্যন্ত কষ্টের কারণ। কিন্তু তারপরেও ইয়া রসূলাল্লাহ ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! “কুল্লু মুছীবাতিন বা’দাকা জালাল”, অর্থাৎ আপনাকে পরিপূর্ণ ইতমিনান এই শান মুবারকে দেখার কারণে আমার সমস্ত মুছিবতগুলি দূর হয়ে গেছে। সুবহানাল্লাহ! আপনাকে দেখার পরে আমার সমস্ত কষ্টগুলি, মুছিবতগুলি আপনার মহব্বত মুবারকের কারণে দূর হয়ে গেছে। সুবহানাল্লাহ!
-উম্মু ফারজানা।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
খাছ দোয়া মুবারক পাওয়ার বিশেষ মাধ্যম পবিত্র যাকাত আদায়
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পারিবারিক তা’লীম ও তার তারতীব
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
৩টি বিশেষ নেক কাজ, যা ইন্তেকালের পরও জারি থাকে
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সৃষ্টির শুরুতেই মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত মুবারক উনার মধ্যে ছিলেন, আছেন এবং অনন্তকাল থাকবেন
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
দুনিয়ার চাকচিক্যে মোহগ্রস্ত হয়ে বদ আমল করার কারণে মানুষকে পরকালে পাকড়াও হতে হবে (২)
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ক্বলবী যিকির জারী না থাকলে শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্বোধন মুবারক করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আদব-শরাফত বজায় রাখতে হবে
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
খাছ দোয়া মুবারক পাওয়ার বিশেষ মাধ্যম পবিত্র যাকাত আদায়
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত রমাদ্বান শরীফ মাস হচ্ছে তাক্বওয়া হাছিলের মাস, নেক দোয়া করার মাস এবং কাফির মুশরিকদের বিরুদ্ধে বেশী বেশী বদ দোয়া করার মাস
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
৩টি বিশেষ নেক কাজ, যা ইন্তেকালের পরও জারি থাকে
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












