সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে- ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (১৭)
, ২৩ শাওওয়াল শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১২ হাদী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ১২ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রি:, ২৯ চৈত্র, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার ফতওয়া অনুযায়ী ফুটবল-ক্রিকেটসহ সমস্ত খেলাধুলাই হারাম। মাঠে গিয়ে হোক আর টিভিতে হোক সর্বাবস্থায়ই খেলা দেখা হারাম ও কবীরাহ গুনাহের অন্তর্ভুক্ত।
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার বিখ্যাত কিতাব, মুস্তাদরাকে হাকিম শরীফে বর্ণিত আছে, হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত আছে যে, মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
كُلُّ لَعِبٍ حَرَامٌ اِلَّا ثَلَاثٍ: مُلَاعَبَةُ الرَّجُلِ أَهْلَهُ وَرَمْيُهُ بِقَوْسِهِ وَتَأْدِيبُهُ فَرَسَهُ
“সর্বপ্রকার খেলা নিষিদ্ধ তিনটি বিষয় ব্যতীত- যা খেলার অন্তর্ভুক্ত নয়। (১) নিজ আহলিয়া বা স্ত্রীর সাথে শরীয়তসম্মত হাসি-খুশী করা। (২) তীর ধনুক চালনা করা। (৩) অশ্বকে প্রশিক্ষণ দান করা।
“আবু দাউদ শরীফ, তিরমিযী শরীফ, নাসাঈ শরীফ, ইবনে মাজাহ্ শরীফ” ইত্যাদি পবিত্র হাদীছ শরীফের কিতাবেও হযরত উকবা ইবনে আমির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে অনুরূপ পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণিত রয়েছে। তবে শব্দের কিছু তারতম্য রয়েছে।
কাজেই, খেলাধুলার ফিতনা থেকে ঈমান-আমল হিফাজত করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ফরজ-ওয়াজিব।
(ধারাবাহিক)
আশরাফ আলী থানভী ও মুফতে শফির খেলা সম্পর্কিত বক্তব্যকে দলীল হিসেবে উল্লেখ করা কতটুকু সঠিক?
যারা আশরাফ আলী থানভীর ‘বেহেস্তী জিওরের’ এবং মুফ্তী শফির অনুবাদকৃত “আদাবুন্ নবী” কিতাবের বরাত দিয়ে ফুটবল, ক্রিকেট, হকিসহ এ সমস্ত খেলাকে মুবাহ বা পছন্দনীয় সাব্যস্ত করতে চায়, তা তাদের কুট উদ্দেশ্য বলেই গণ্য হবে, যা হারাম ও কুফরীর নামান্তর।
প্রকৃতপক্ষে আশরাফ আলী থানভী ও মুফতে শফি উভয়ের ফতওয়াই সম্পূর্ণ ভূল হয়েছে। তাদের অনুসরনে হারাম খেলাধূলাকে মুবাহ বা জায়েজ ফতওয়া দেয়া কাট্টা কুফরী।
কেননা কোন ব্যক্তি বিশেষকে চাই থানভী হোক বা মুফ্তী শফি হোক অথবা অন্য কাউকে শরীয়ত দলীল হিসেবে সাব্যস্ত করেনা। অর্থাৎ থানভী ও মুফ্তী শফি কোন বিষয়ে জায়িয ফতওয়া দিলেই তা জায়িয হবে অথবা নাজায়িয ফতওয়া দিলেই তা নাজায়িয হবে, তা সম্মানিত শরীয়ত উনার কোথাও উল্লেখ করা হয়নি। বরং সম্মানিত শরীয়ত উনার দলীল হচ্ছে পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ ও উনার আলোকে পবিত্র ইজ্মা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ। আশরাফ আলী থানভী ও মুফ্তী শফি তাদের উল্লিখিত কিতাবদ্বয়ে ফুটবল, হকি ও ক্রিকেট খেলাকে মুবাহ্ ও পছন্দনীয় বলেছে, তবে তারা তার আগে ও পরে কিছু শর্ত শারায়েতও উল্লেখ করেছে। সে সমস্ত শর্ত শারায়েতের কারণে কোন প্রকার খেলাই কস্মিনকালেও জায়িয হতে পারেনা, যা সম্মানিত শরীয়ত নিষেধ করেছে।
আশরাফ আলী থানভী প্রদত্ত শর্তগুলি হলোঃ (১) সময় নষ্ট, (২) পয়সা নষ্ট, (৩) কাজ নষ্ট, (৪) নামাজ ক্বাজা, (৫) ছতর খোলা, (৬) কুসংসর্গে মেশা ইত্যাদি থেকে বেঁচে থাকতে পারলে মুবাহ্ হবে। আর মুফ্তী শফি প্রদত্ত শর্তগুলি হলোঃ (১) ফরজ তরক, (২) হারামে পতিত ও (৩) কাফেরদের নির্ধারিত নিয়মাবলীর মধ্যে খেলা ইত্যাদি থেকে বেঁচে থাকতে পারলে মুবাহ্ বা পছন্দনীয় হবে।
মূলতঃ এসব খেলাতে উপরোক্ত শর্ত সমূহের কোন কোনটা থেকে যদিও বেঁচে থাকা সম্ভব হয়, কিন্তু সময় নষ্ট, বিধর্মীদের নিয়ম-নীতি অনুসরণ, স্বাস্থ্য নষ্ট, পয়সা নষ্ট, কাজ নষ্ট ইত্যাদি শর্ত থেকে বেঁচে থাকা কখনই সম্ভব হবেনা।
এরপরেও বলতে হয় যে, উপরোক্ত শর্ত-শারায়েত দিয়ে উল্লিখিত খেলা সমূহকে মুবাহ্ বলে উল্লেখ করাটা থানভী এবং মুফ্তী শফির জন্যও সঠিক হয়নি। কেননা তাদের এ ফতওয়ার কারণে অনেকেই ইচ্ছা বা অনিচ্ছায় হারামের দিকে ধাবিত হচ্ছে। আর অনেকেই হারামকে হালাল করার পায়তারা করছে ও করবে। অথচ তাদের উল্লিখিত শর্ত-শারায়েত ছাড়াও খেলা হারাম হওয়া সম্পর্কে আরো অনেক কারণ উল্লেখ করেছেন অন্যান্য ইমাম-মুজ্তাহিদগণ। যেমনঃ (১) স্বাস্থ্য নষ্ট হয়, (২) খেলায় প্রতিযোগীতা থাকে, (৩) বাজি ধরে, (৪) পরস্পরের প্রতি হিংসা-বিদ্বেষ পয়দা হয়, (৫) খেলার কারণে সমাজে ফিৎনার সৃষ্টি হয়, (৬) বেদ্বীন ও বদ্দ্বীনী আমল করে, (৭) রং ছিটাছিটি করে, (৮) বেপর্দা হয়, (৯) সমাজ ও দেশ-বিদেশের লোকেরা হারাম কাজে মশগুল হয়, (১০) হারাম কাজে উৎসাহিত করে, (১১) বাহবা দেয়, (১২) হাতে তালি দেয়, (১৩) অভিনন্দন জানায়, (১৪) আর্থিক সহযোগীতা করে, (১৫) খুশী প্রকাশ করে, (১৬) হারামকে হালাল বলে, (১৭) ঈমান নষ্ট করে, (১৮) বিধর্মীদের অনুসরন করে, (১৯) টেলিভিশন দেখে, (২০) মারামারি কাটাকাটি করে, (২১) খুন খারাবি করে (২২) রক্ত প্রবাহিত করে (২৩) হারাম ছবি তোলে (২৪) হারাম ভিডিও করে ইত্যাদি।
উল্লেখ্য, কোন হারামকে শর্ত সাপেক্ষে মোবাহ বলে ফতওয়া দেয়ার অর্থ হলো হারামকে হালাল বলে সাব্যস্ত করার নামান্তর। যা শক্ত গুনাহর ও কুফরীর অন্তর্ভুক্ত।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
مَا نَقَصَتْ صَدَقَةٌ مِّنْ مَّالٍ
০২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পর্দা রক্ষা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া ব্যভিচারের সমতুল্য
০২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
০২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
উট, গরু এবং মহিষ কুরবানীর ক্ষেত্রে শরীকানা বা একাধিক ব্যক্তির পক্ষ থেকে কুরবানী করা হাদীছ শরীফ উনাদের দ্বারাই সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত (২)
২৬ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা হারাম ও নাজায়িজ
২৬ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৬ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহান আল্লাহ পাক উনার নির্দশনসমূহের তিনটি বিষয় উনাদেরকে খাছ করে সম্মান করা ফরয
২৬ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
২৬ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
২৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া কবীরা গুনাহ
২৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












