রাজনৈতিক দলগুলো অবশেষে ৬২ বিষয়ে একমত
, ০১ আগস্ট, ২০২৫ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) দেশের খবর
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রথম পর্বের সংলাপে সংবিধান, নির্বাচনব্যবস্থা, বিচার বিভাগ, জনপ্রশাসন ও দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কারের বিষয়ে ৬২ বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো। বুধবার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত আলোচনায় বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এসব বিষয়ে সম্মতি প্রকাশ করা হয়।
এর মধ্যে ৩০টি দলের সম্মতিতে বলা হয়, বাংলাদেশে একটি দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা থাকবে, যা নিম্নকক্ষ (জাতীয় সংসদ) ও উচ্চকক্ষ (সিনেট) নিয়ে গঠিত হবে। উচ্চকক্ষের সদস্যদের যোগ্যতা ও অযোগ্যতা নিম্নকক্ষের সদস্যদের অনুরূপ হবে। জাতীয় সংসদে নারী আসন ১০০-তে উন্নীত করার বিষয়েও নীতিগতভাবে একমত হয়েছে ১৯টি দল।
এ ছাড়া আইনসভার উভয় কক্ষে একজন করে ডেপুটি স্পিকার বিরোধী দল থেকে মনোনীত করার বিধান রাখা হবে। রাষ্ট্রপতির অভিশংসন প্রক্রিয়া নিম্নকক্ষ ও উচ্চকক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে সম্পন্ন করার প্রস্তাব নেওয়া হয়েছে।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ভাষার ক্ষেত্রে প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা ‘বাংলা’ হওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের নাগরিকদের মাতৃভাষা হিসেবে ব্যবহৃত সব ভাষাকে প্রচলিত ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে। সংবিধানে বিদ্যমান সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৬(২) প্রতিস্থাপন করে বাংলাদেশের নাগরিকরা ‘বাংলাদেশি’ বলে পরিচিত হবেন, এই বিধান যুক্ত করা হবে, যেখানে ৩১টি দল একমত পোষণ করেছে।
সব সম্প্রদায়ের সহাবস্থান ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে সংবিধানকে ‘একটি বহুজাতি, বহুধর্মী, বহুভাষী ও বহু সংস্কৃতির দেশ’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে। মৌলিক অধিকারগুলোর তালিকা সম্প্রসারণের পাশাপাশি জাতীয় স্বার্থ বা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করে, এমন আন্তর্জাতিক চুক্তি আইনসভার উভয় কক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটের মাধ্যমে অনুমোদন করা হবে।
স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের সরাসরি তত্ত্বাবধান নিশ্চিত করা হবে এবং তাদের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও কার্যাবলিতে সম্পূর্ণ কার্যকরী স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করা হবে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা, যারা স্থানীয় সরকারের কাজে সরাসরি নিয়োজিত, তারা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের জনপ্রতিনিধিদের অধীনস্থ হবেন।
নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কারের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের অধীনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোকে তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এর আওতাভুক্ত করা হবে।
বিচার বিভাগ সংস্কারে আপিল বিভাগের বিচারক সংখ্যা বৃদ্ধি এবং প্রধান বিচারকর চাহিদা মোতাবেক বিচারক নিয়োগের বিধান যুক্ত করা হবে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগে প্রধান বিচারকর নেতৃত্বে একটি স্বাধীন বিচার বিভাগীয় নিয়োগ কমিশন (জেএসি) গঠন করা হবে। বিচার বিভাগকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া এবং বিচারকদের জন্য আচরণবিধি প্রণয়ন ও প্রকাশ করার বিষয়েও ঐকমত্য হয়েছে।
অধস্তন আদালতের বিচারকদের চাকরির নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণভাবে সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত করা হবে। নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে কার্যকরভাবে পৃথকীকরণের লক্ষ্যে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে। এ ছাড়া একটি স্থায়ী সরকারি অ্যাটর্নি সার্ভিস ও স্বতন্ত্র ফৌজদারি তদন্ত সার্ভিস প্রতিষ্ঠার জন্য আইন প্রণয়ন করা হবে। বিচারকদের রাজনৈতিক আনুগত্য প্রদর্শনকে অসদাচরণ হিসেবে বিবেচনা করে ব্যবস্থা নেওয়ার বিধানও রাখা হবে।
জনপ্রশাসন সংস্কারের বিষয়ে জুলাই অভ্যুত্থানকালে গণহত্যা ও নিপীড়নের সঙ্গে জড়িত এবং ভোট জালিয়াতি ও দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের চিহ্নিতকরণে স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠনের বিষয়ে ৩২টি দল একমত হয়েছে। একটি স্বাধীন ও স্থায়ী জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন এবং তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ ও অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট, ১৯২৩ সংশোধন করার প্রস্তাবও রাখা হয়েছে। কুমিল্লা ও ফরিদপুর নামে দুটি নতুন প্রশাসনিক বিভাগ গঠন ও স্বতন্ত্র ভূমি আদালত স্থাপনের বিষয়েও ঐকমত্য হয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সংস্কারের ক্ষেত্রে সাংবিধানিক ও আইনগত ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একটি দুর্নীতিবিরোধী জাতীয় কৌশলপত্র প্রণয়ন ও বৈধ উৎসবিহীন আয়কে বৈধতা দানের চর্চা চিরস্থায়ীভাবে বন্ধ করতে সুনির্দিষ্ট আইন প্রণয়ন করা হবে। উচ্চপর্যায়ের দুর্নীতি ও অর্থ পাচার রোধে আইন প্রণয়ন এবং নির্বাচনী অর্থায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে।
দুদক কমিশনারের সংখ্যা তিনজন থেকে পাঁচজনে উন্নীত করা, তাদের মেয়াদ ৫ বছরের পরিবর্তে ৪ বছর নির্ধারণ এবং বাছাই কমিটির নাম ‘বাছাই ও পর্যালোচনা কমিটি’তে পরিবর্তন করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এই কমিটি সাত সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত হবে এবং কমিশনার নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করবে। দুদক আইন, ২০০৪-এর ধারা ৩২(ক) বিলুপ্ত করে জজ, ম্যাজিস্ট্রেট বা সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা করার ক্ষেত্রে সরকারের পূর্বানুমোদন নেওয়ার বিধান বাতিল করা হবে। এ ছাড়া বাংলাদেশ ওপেন গভর্নমেন্ট পার্টনারশিপের (ওজিপি) পক্ষভুক্ত হবে।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
জ্বালানি তেলের অতিরিক্ত চাহিদা নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
গাজীপুর: ঈদযাত্রায় বৃষ্টির হানা, ২০ কিলোমিটার যানজট
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সদরঘাটে দুই লঞ্চের সংঘর্ষ, নিহত ২
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ঈদে বাড়ি ফেরার পথে নিহত একই পরিবারের ৩ জন
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
নেশার টাকা না পেয়ে বসতঘরে আগুন দিলো ছেলে
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
অনলাইন জুয়ায় ৩২ লাখ টাকা আয়, সরিয়ে দেয়া হলো সেই ওসিকে
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ঈদকে সামনে রেখে ৯৯ শতাংশ পোশাক কারখানায় বেতন পরিশোধ -বিজিএমইএ
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
চীনের ঈদ উপহারকে নিজেদের বলে চালিয়ে দিলো জামাত, ব্যাখ্যা দিল দূতাবাস
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক, বাড়তি ভাড়া নেয়া হচ্ছে না, সড়কমন্ত্রীর দাবি
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
জনগণের জীবনমান উন্নয়নে সরকার কাজ করছে -পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যানজট নিয়ন্ত্রণে পুলিশ-দলীয় নেতাকর্মীরা কাজ করছে -টুকু
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ইরান থেকে বাংলাদেশিদের দেশে ফেরানো হচ্ছে
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












