মু’মিনের সিনায় হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের অবস্থান
, ১৮ যিলক্বদ শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০৭ ছানী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ০৭ মে, ২০২৬ খ্রি:, ২৫ বৈশাখ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
اَلْمُؤْمِنُ اَخُوْا الْمؤْمِنُ
অর্থ: “এক মু’মিন অপর মু’মিনের ভাই।”
অন্য এক হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
اَلْمُؤْمِنُ مِرْأَةُ الْمؤْمِنُ
অর্থ: “এক মু’মিন অপর মু’মিনের আয়না স্বরূপ।”
আর পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের ব্যাখ্যায় বলা হয়, মুসলমানরা একে অপরের দ্বীনি ভাই। উনারা একটি অট্টালিকার মতো। ঐ অট্টালিকার এক একটি ইট যেভাবে পরস্পর পরস্পরের সাথে সংযুক্ত হয়ে আছে তেমনি একজন মুসলমান ভাই অপর মুসলমান ভাইয়ের সাথে জড়িত রয়েছে। একজন কষ্ট পেলে অপরজন কষ্ট পায়। আবার একজনের অসুস্থতায় অপরজনের সেবা-যতœ, দেখা-শুনা করা ঈমানী দায়িত্ব। আর এক মুসলমান অপর মুসলমানকে কষ্ট দেয়া কবীরা গুনাহ। শুধু কবীরা গুনাহই না বরং হযরত ফেরেস্তা আলাইহিমুস সালাম উনারাও কষ্ট পান। নাউযুবিল্লাহ! নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “মুসলমানদেরকে কষ্ট দিয়োনা, কারণ উনাদের সিনার (বক্ষের) মধ্যে সত্তরটি পর্দা রয়েছে এবং প্রতিটি পর্দার উপর একজন করে ফেরেস্তা আলাইহিস সালাম তিনি অবস্থান করছেন।” সুবহানাল্লাহ!
যে ব্যক্তি কোন মু’মিন-মুসলমানকে কষ্ট দেয় প্রথমত: সে যেন কোন ফেরেস্তা আলাইহিস সালাম উনাকেই কষ্ট দেয় অর্থাৎ প্রথমে ফেরেস্তা আলাইহিমুস সালাম উনারাই কষ্ট অনুভব করেন এবং পরে মু’মিন ব্যক্তি উপলব্ধি করেন। যে ব্যক্তি মু’মিনকে কষ্ট দেয় সত্তরটি কবীরা গুনাহ (মদ্যপান, ব্যভিচার অথবা এ ধরনের নিষিদ্ধ কোন কর্মের অপরাধকে কবীরা গুনাহ বলা হয়) তার কর্মফলের (আমলনামার) সাথে যোগ হয় এবং তার জন্য দোযখের মধ্যে একটি আযাবের ঘর তৈরী হয়। আরেকটা বিষয়, “মুনাফিক ব্যতীত কেউ মু’মিনগণ উনাদের অন্তরে কষ্ট দেয় না।” নাউযুবিল্লাহ!
হে মুসলমান ভাই-বোনেরা! আমাদের প্রত্যেকের উচিত যদি কারো ভুল-ত্রুটি আমরা দেখি তাহলে একে অপরকে সংশোধন করে দিবো তবে সেটা গোপনে। কারণ প্রকাশ্যে বলা হলে ভুলকারী ভাই যদি কষ্ট পান তাহলে উপরোক্ত বিষয়গুলো মান্য করা সম্ভব নয়। মহান আল্লাহ পাক তিনি যেন আমাদের সকলকে ছহীহ সমঝ দান করেন এবং হক্ব পথে এসে ইস্তেকামত থেকে কবীরা-ছগীরা সমস্ত গুনাহ থেকে হিফাজত করেন। আমীন!
-আহমদ কানিজ ফাতিমা আঁখি।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (১০)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ছবি তোলা হারাম, যা জাহান্নামী হওয়ার কারণ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত আশূরা শরীফ উনাকে যারা সম্মান করবে তাদের জন্য-
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত শরীয়ত উনার ফায়ছালা মতে কুলাঙ্গার ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহি কাট্টা কাফির ও চিরজাহান্নামী (১)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পৃথিবীকে পরিবর্তন করার চেয়ে নিজেকে পরিবর্তন করা সহজ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পর্দা রক্ষা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া ব্যভিচারের সমতুল্য
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
৩টি বিষয় কেবল তিনটি অবস্থায়ই জানা যায়।
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত মীলাদ শরীফ পাঠে অনন্য তাজদীদ মুবারক (৪)
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ইসলামী শরীয়ত মুতাবিক- ছবি তোলা হারাম
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












