মুয়ানাকা করা মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক
, ১৩ শাওওয়াল শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০২ হাদী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ০২ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রি:, ১৯ চৈত্র, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
মুয়ানাকা (معانَقَه) শব্দের অর্থ কোলাকুলি করা, বুকে বুক মিলানো। দীর্ঘদিন পর একে অন্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ হলে পরস্পরে মুয়ানাকা বা কোলাকুলি করা মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক। কেউ সফর থেকে এলে দীর্ঘদিন পর দেখা-সাক্ষাৎ হওয়ায় হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা মুয়ানাকা বা কোলাকুলি করতেন।
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে- সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ ছিদ্দীক্বাহ্ আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত, হযরত যায়েদ ইবনে হারিছা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি যখন পবিত্র মদীনা শরীফে এলেন তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমার পবিত্র হুযরা শরীফে (ঘরে) ছিলেন। হযরত যায়েদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি উনার সঙ্গে মহাসম্মানিত সাক্ষাৎ মুবারক করতে আমার পবিত্র হুযরা শরীফে (ঘরে) এলেন এবং দরজায় টোকা দিলেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজের মহাসম্মানিত কাপড় মুবারক অর্থাৎ মহাসম্মানিত চাদর মুবারক পরিপাটি করতে করতে উঠে গেলেন এবং হযরত যায়েদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সঙ্গে মুয়ানাকা মুবারক (কোলাকুলি) করলেন এবং বুছা মুবারক দিলেন।’ (তিরমিযী শরীফ; পবিত্র হাদীছ শরীফ নং: ২৭৩২)
মুয়ানাকা বা কোলাকুলি করার দু‘আ মুবারক -
اَللّٰهُمَّ زِدْ مَحَبَّتِىْ لِلّٰهِ وَرَسُوْلِهٖ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ.
অর্থ: “আয় মহান আল্লাহ পাক! আমার মুহব্বত আরো বাড়িয়ে দিন মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য অর্থাৎ আপনাদের জন্য।”
মুয়ানাকা বা কোলাকুলি করার মহাসম্মানিত সুন্নতী তরীক্বাহ হলো:-
প্রথমে ডান কাঁধ মিলাবে, তারপর বাম কাঁধ অতঃপর ডান কাঁধ মিলাতে হবে। অর্থাৎ ৩ বার মুয়ানাকা করা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক। অনেকে একবার মুয়ানাকার কথা বলে থাকে; কিন্তু তা সঠিক নয়।
উপরোক্ত দলীল ভিত্তিক আলোচনা দ্বারা অকাট্টভাবেই প্রমাণিত হয়েছে যে, মুয়ানাকা করা খাছ সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত। যারা মুয়ানাকা করতে নিষেধ করবে বা উক্ত মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক উনাকে ইহানত বা অবজ্ঞা করবে তারা কাফির হয়ে যাবে। কেননা, তাছাড়া আমভাবে কোনো মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনাকে অবজ্ঞা বা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা কুফরীর অন্তর্ভুক্ত। এ প্রসঙ্গে আক্বাইদের কিতাবে উল্লেখ আছে-
اهانة السنة كقر
অর্থ: পবিত্র সুন্নত মুবারক উনাকে ইহানত বা অবজ্ঞা করা কুফরী।
মহান আল্লাহ পাক তিনি সকলকে সর্বপ্রকার হারাম-নাজায়িয, কুফরী-শিরকী আক্বীদাহ ও আমল থেকে হিফাযত করে সর্বক্ষেত্রে পবিত্র বিশুদ্ধ আক্বীদাহ পোষণ করার ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল করার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!
-আহমদ হুসাইন
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব- ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (৭)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব- ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (৬)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব-ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (৫)
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব- ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (৪)
২২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব-ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (৩)
২১ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব-ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (২)
২০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব- ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (১)
১৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (৯)
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী খাবার কিছ্ছা
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ফলমূল খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (২)
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক পালন করা ফরয
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ফলমূল খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (১)
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












