ঘটনা থেকে শিক্ষা
মুর্শিদ ক্বিবলা উনার ছোহবত ও খিদমত মুবারকের দ্বারা সর্বশ্রেষ্ঠ নিয়ামত মুবারক হাছিল হয়ে থাকে
, ২৯ রজবুল হারাম শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২১ ছামিন, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ০৫ মাঘ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
হযরত খাজা সাইয়্যিদ আব্দুল্লাহ আকবরাবাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, আমার শায়েখ হযরত আদম বিন নূরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার দরবার শরীফে পৌঁছে লক্ষ্য করলাম যে, হযরত শায়েখ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মুরীদ সকল উনার বাড়ির যাবতীয় কাজ নিজেদের মধ্যে বণ্টন করে নিয়েছেন। কোন একটি কাজও ফেলে রাখা হয়নি। সুতরাং বেশ কিছুদিন আমাকে অপেক্ষা করতে হলো।
অবশেষে একদিন লক্ষ্য করলাম যে, বন-জঙ্গল থেকে কাঠ আনার দায়িত্বে যারা নিয়োজিত, তারা দৈহিকভাবে অত্যন্ত দুর্বল ও জীর্ণ-শীর্ণ। এ দায়িত্ব পালন করা তাদের পক্ষে কিছুতেই সম্ভব নয়। আর আমি যেহেতু সুস্বাস্থ্যের অধিকারী, যুবক। তাই এ কাজটি নিজের কাঁধে তুলে নিলাম। প্রতিদিন দুই বোঝা কাঠ মাথায় করে আনতে লাগলাম। কিন্তু হযরত শায়েখ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কাছাকাছি বসে কোন খিদমত করার সুযোগ হচ্ছিল না। কিছুদিন পর একবার হযরত শায়েখ রহমতুল্লাহি আলাইহি নদীর ঘাটে গোসল করতে যান। উনার শরীর মুবারক কাপড় দ্বারা আবৃত ছিল। আর গোসলের উক্ত স্থানটিও ছিল পরিবেষ্টিত বা ঘেরা। কেননা উন্মুক্ত শরীরে এবং খোলামেলা ভাবে গোসল করা পবিত্র সুন্নাত মুবারকের খিলাফ। আর পবিত্র সুন্নাত মুবারকের খিলাফ আমল করা হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের স্বভাব বিরোধী কাজ। যা উনার মত মহান ব্যক্তিত্বের ক্ষেত্রে কল্পনাও করা অন্যায়।
মুলত সর্বক্ষেত্রেই হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের সম্পর্কে বিশুদ্ধ আক্বীদা পোষণ করা কর্তব্য। কেননা উনাদের শান মুবারকে কুধারণা পোষণ করা, উনাদের ছিদ্রান্বেষণ করা হালাকী বা ধ্বংসের কারণ। মুরীদগণ হযরত শায়েখ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার শরীর মুবারক ডলে ময়লা পরিষ্কার করতে শুরু করলো। আমি তাদের সাথে শামিল হলাম এবং অন্য সবার তুলনায় আমার খিদমতই উত্তম বলে বিবেচিত হলো। ফলে হযরত শায়েখ রহমতুল্লাহি আলাইহি তখনই আমার প্রতি বিশেষ দৃষ্টি (ফয়েজ) মুবারক দান করলেন। এক দৃষ্টিতেই আমার মধ্যে তোলপাড় শুরু হলো। আমি সেই নদীর মধ্যেই বেহুঁশ হয়ে পড়ে গেলাম। সাথীরা আমাকে মৃতের মত ধরে হযরত শায়েখ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বাড়ি পর্যন্ত নিয়ে আসলো। ছয় মাস পর পুনরায় নদীর ঘাটে হযরত শায়েখ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার শরীর মুবারক পরিষ্কার করার সময় তিনি সস্নেহে আমার কুশল জানতে চাইলেন। উনার এ বিশেষ দৃষ্টিপাতে (ফয়েজ-তাওয়াজ্জুহ) এবারও আমি সংজ্ঞা হারালাম।
উল্লেখ্য যে, আমার যা কিছু অর্জন হয়েছে তা আমার শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার এই দৃষ্টি তথা ফয়েয-তাওয়াজ্জুহ মুবারকের অবদান, যা পরপর দু’বার হযরত শায়েখ রহমতুল্লাহি আলাইহি আমাকে দান করেছেন। (আনফাসুল আরিফীন/৫৪)
আফদ্বালুল আউলিয়া, মাহবুবে সুবহানী, ইমামে রববানী হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, রাজা-বাদশাহদের মজলিসের সভাপতিত্বের চেয়ে হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের পবিত্রতম দরবার শরীফের ঝাড়ুদার হওয়াই উত্তম। সুবহানাল্লাহ! (মাকতুবাত শরীফ)
-আল্লামা আবূ খুবাইব।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সম্মানিত শরীয়ত উনার ফায়ছালা মতে কুলাঙ্গার ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহি কাট্টা কাফির ও চিরজাহান্নামী (১)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পৃথিবীকে পরিবর্তন করার চেয়ে নিজেকে পরিবর্তন করা সহজ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পর্দা রক্ষা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া ব্যভিচারের সমতুল্য
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
৩টি বিষয় কেবল তিনটি অবস্থায়ই জানা যায়।
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত মীলাদ শরীফ পাঠে অনন্য তাজদীদ মুবারক (৪)
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ইসলামী শরীয়ত মুতাবিক- ছবি তোলা হারাম
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মুসলমানদের জন্য সমস্ত খেলাধুলা হারাম
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
২২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া কবীরা গুনাহ
২২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












