মালিকুত তামাম, ক্বাসিমুন নিআম, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ফাতহ মুবারক উনার বরকত ও ফযীলত (৩)
, ১০ই রজবুল হারাম শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ১৪ ছামিন, ১৩৯২ শামসী সন , ১১ জানুয়ারী, ২০২৫ খ্রি:, ২৬ পৌষ , ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ফাত্হ মুবারক উনার বরকতে আরোগ্য লাভ:
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম এবং উনাদের পরবর্তীগণ রোগ থেকে মুক্তি লাভের জন্য নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ফাত্হ মুবারক পানিতে ভিজিয়ে সেই পানি মুবারক পান করতেন এবং উনার বরকতে আরোগ্য লাভ করতেন। সুবহানাল্লাহ! যেমন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَوْهَبٍ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ قَالَ أَرْسَلَنِىْ أَهْلِىْ إِلٰى اُمِّ الْمُؤْمِنِيْنَ سَيِّدَتِنَا حَضْرَتْ اَلسَّادِسَةِ عَلَيْهَا السَّلَامُ (حَضْرَتْ أُمِّ سَلَمَةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ) بِقَدَحٍ مِنْ مَّاءٍ وَقَبَضَ إِسْرَائِيْلُ ثَلاَثَ أَصَابِعَ مِنْ فِضَّةٍ فِيْهِ شَعَرٌ مِنْ شَعَرِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَكَانَ إِذَا أَصَابَ الْإِنْسَانَ عَيْنٌ أَوْ شَيْءٌ بَعَثَ إِلَيْهَا مِخْضَبَه فَاطَّلَعْتُ فِي الْجُلْجُلِ فَرَأَيْتُ شَعَرَاتٍ حُمْرًا
অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাওহাব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে আমার পরিবারের লোকেরা এক পেয়ালা পানিসহ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আস সাদিসাহ আলাইহাস সালাম (হযরত উম্মু সালামাহ বিনতে আবী উমাইয়্যাহ আলাইহাস সালাম) উনার নিকট পাঠালেন। (উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আস সাদিসাহ আলাইহাস সালাম উনার নিকট রক্ষিত) একটি পানির পাত্র থেকে (হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার সম্মানিত আওলাদ) হযরত ইসরাঈল রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার তিন আঙ্গুল দিয়ে কিছু পানি তুলে নিলেন। ঐ পাত্র মুবারকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কয়েকখানা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ফাত্হ মুবারক ছিলেন। কারো চোখ লাগলে কিংবা অন্য কেনো রোগ দেখা দিলে, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আস সাদিসাহ আলাইহাস সালাম উনার নিকট থেকে পানি আনার জন্য একটি পাত্র পাঠিয়ে দিতেন। (রাবী বলেন,) আমি (সেই পাত্র মুবারকে) লাল রংয়ের কয়েকখানা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ফাত্হ মুবারক দেখেছি। সুবহানাল্লাহ! (বুখারী শরীফ, হাদীছ শরীফ নং-৫৮৯৬)
অপর বর্ণনায় রয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ عُثْمَانَ بْنِ عَبْدِ اللهِ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ قَالَ أَرْسَلَنِىْ اَهْلِىْ اِلٰى اُمِّ الْمُؤْمِنِيْنَ سَيِّدَتِنَا حَضْرَتْ اَلسَّادِسَةِ عَلَيْهَا السَّلَامُ (حَضْرَتْ اُمِّ سَلَمَةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ) بِقَدَحٍ مِنْ مَّاءٍ وَكَانَ إِذَا أَصَابَ الْإِنْسَانَ عَيْنٌ أَوْ شَيْءٌ بَعَثَ إِلَيْهَا مِخْضَبَه فَاَخْرَجَتْ مِنْ شَعْرِ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَكَانَتْ تُمْسِكُه فِىْ جُلْجُلٍ مِنْ فِضَّةٍ فَخَضْخَضَتْهُ لَه فَشَرِبَ مِنْهُ قَالَ فَاطَّلَعْتُ فِى الْجُلْجُلِ فَرَأَيْتُ شَعَرَاتٍ حَمْرَاءَ
অর্থ: হযরত উসমান ইবনে আবদুল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে আমার পরিবারের লোকেরা এক পেয়ালা পানিসহ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আস সাদিসাহ আলাইহাস সালাম (হযরত উম্মু সালামাহ বিনতে আবী উমাইয়্যাহ আলাইহাস সালাম) উনার নিকট পাঠালেন। আর তখন এটা নিয়ম ছিলো যে, যখনই কারো চোখ লাগতো কিংবা কেউ অন্য কোনো রোগে আক্রান্ত হতো, তখন একটি পাত্রে পানি ঢেলে তা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আস সাদিসাহ আলাইহাস সালাম উনার কাছে পাঠানো হতো। (কেননা উনার কাছে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কয়েকখানা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ফাত্হ মুবারক ছিলেন। )
فَاَخْرَجَتْ مِنْ شَعْرِ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَكَانَتْ تُمْسِكُه فِىْ جُلْجُلٍ مِنْ فِضَّةٍ فَخَضْخَضَتْهُ لَه فَشَرِبَ مِنْهُ
‘অতঃপর তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ফাত্হ মুবারক বের করতেন, যা তিনি রূপার নলের মধ্যে সংরক্ষণ করে রাখতেন এবং পানির মধ্যে ডুবিয়ে নাড়া দিতেন। তারপর ঐ পানি রোগী পান করতো। (যার বরকতে রোগী সুস্থ হয়ে উঠতো। )” সুবহানাল্লাহ! (মিশকাত শরীফ, মিরক্বাতুল মাফাতীহ ৭/২৮৮৮, জামউল ফাওয়াইদ ২/৪২২ ইত্যাদি)
হযরত ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ছেলে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন,
رَاَيْتُ اَبِىْ يَاْخُذُ شَعْرَةً مِنْ شَعْرِ النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَيَضَعُهَا عَلٰى فِيْهِ يُقبِّلُهَا وَاَحْسِبُ اَنِّىْ رَاَيْتُه يَضَعُهَا عَلٰى عَيْنِهِ وَيَغْمِسُهَا فِى الْمَاءِ وَيَشْرَبُه يَسْتَشْفِىْ بِهِ
অর্থ: আমি আমার সম্মানিত পিতা উনাকে দেখেছি, তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ফাত্হ মুবারক নিয়ে উনার মুখে রেখে বুছা দিচ্ছেন। এছাড়াও তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ফাত্হ মুবারক উনার চোখ মুবারকে রাখতেন এবং রোগমুক্তির জন্য মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ফাত্হ মুবারক পানিতে ডুবিয়ে সেই পানি মুবারক পান করতেন। সুবহানাল্লাহ! (সিয়ারু আ’লামিন নুবালা ২১/২৫৩)
-হাফিয মুহম্মদ ইমামুল হুদা।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (১০)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ছবি তোলা হারাম, যা জাহান্নামী হওয়ার কারণ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত আশূরা শরীফ উনাকে যারা সম্মান করবে তাদের জন্য-
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত শরীয়ত উনার ফায়ছালা মতে কুলাঙ্গার ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহি কাট্টা কাফির ও চিরজাহান্নামী (১)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পৃথিবীকে পরিবর্তন করার চেয়ে নিজেকে পরিবর্তন করা সহজ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পর্দা রক্ষা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া ব্যভিচারের সমতুল্য
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
৩টি বিষয় কেবল তিনটি অবস্থায়ই জানা যায়।
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত মীলাদ শরীফ পাঠে অনন্য তাজদীদ মুবারক (৪)
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ইসলামী শরীয়ত মুতাবিক- ছবি তোলা হারাম
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












