মাটির পাত্র ব্যবহার করাও খাছ সুন্নত মুবারক
, ০৭ শাবান শরীফ, ১৪৪৫ হিজরী সন, ২০ তাসি’, ১৩৯১ শামসী সন , ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রি:, ০৫ ফাল্গুন, ১৪৩০ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
অনেক ক্ষেত্রে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মাটির পাত্র বা মাটির পানির পাত্র মুবারক ব্যবহার করেছেন বলে মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণনা পাওয়া যায়। অর্থাৎ মাটির পাত্রে খাদ্য খাওয়া ও পানীয় পান করা মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত।
মাটির পাত্র ব্যবহার সম্পর্কে মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَت سَهْلَ بْنَ سَعْدٍ رضي الله عنه أَنَّ أَبَا أُسَيْدٍ السَّاعِدِيَّ رضي الله عنه دَعَا النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي عُرْسِهِ، وَكَانَتِ امْرَأَتُهُ خَادِمَهُمْ يَوْمَئِذٍ، وَهِيَ الْعَرُوسُ، فَقَالَتْ أَوْ قَالَ أَتَدْرُونَ مَا أَنْقَعْتُ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ أَنْقَعْتُ لَهُ تَمَرَاتٍ مِنَ اللَّيْلِ فِي تَوْرٍ
অর্থ: হযরত সাহল ইবনে সাঈদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত: হযরত আবূ উসাইদ সাঈদী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার বাসর রাতে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে দাওয়াত দিলেন। উনার নববধূ সেদিন উনাদের আহার পরিবেশন করেন। উনার আহলিয়া বলেন, আপনারা কি জানেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য সেদিন আমি ছিলে-চেঁছে কি পরিবেশন করেছিলাম? রাতের বেলা আমি উনার জন্য টাটকা খেজুর একটি ‘মাটির পাত্রে’ ভিজিয়ে রেখেছিলাম। (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, আদাবুল মুফরাদ শরীফ, হাদীছ শরীফ নং ৭৫১)
عَنْ حَضْرَت أَنَسٍ رضي الله عنه قَالَ حَضَرَتِ الصَّلاَةُ، فَقَامَ مَنْ كَانَ قَرِيبَ الدَّارِ إِلَى أَهْلِهِ، وَبَقِيَ قَوْمٌ، فَأُتِيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِمِخْضَبٍ مِنْ حِجَارَةٍ فِيهِ مَاءٌ، فَصَغُرَ الْمِخْضَبُ أَنْ يَبْسُطَ فِيهِ كَفَّهُ، فَتَوَضَّأَ الْقَوْمُ كُلُّهُمْ. قُلْنَا كَمْ كُنْتُمْ قَالَ ثَمَانِينَ وَزِيَادَةً.
অর্থ: হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন: একদা নামাযের সময় উপস্থিত হলে যাঁদের বাড়ি নিকটে ছিল উনারা (উযূ করার জন্য) বাড়ি চলে গেলেন। আর কিছু লোক রয়ে গেলেন (উনাদের কোন উযূর ব্যবস্থা ছিল না)। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য একটি ‘পাথরের পাত্রে’ পানি আনা হল। পাত্রটি এত ছোট ছিল যে, তার মধ্যে উনার উভয় হাত মেলে দেয়া সম্ভব ছিল না। তা থেকেই ক্বওমের সকল লোক উযূ করলেন। আমরা জিজ্ঞেস করলাম: ‘আপনারা কতজন ছিলেন’? তিনি বললেনঃ ‘আশিজন বা তারও কিছু অধিক। (বুখারী শরীফ)
উক্ত মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফসমূহ উনাদের বর্ণনা থেকে বুঝা যায়, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এবং উনার হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা এবং হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা পানি রাখার জন্য মাটির বড় পাত্র, মাঝারি মাটির পাত্র বা মাটির পানির পাত্র এবং ক্ষেত্রবিশেষে পাথরের পাত্রও ব্যবহার করতেন এবং তা থেকে নিরাপদে পানি পান করতেন এবং ব্যবহার করতেন। সুবহানাল্লাহ!
প্রত্যেক মুসলমানের জন্য আবশ্যক হলো, সর্বাবস্থায় মহাসম্মানিত সুন্নত মুবরাক উনার ইত্তেবা করা। মহাসম্মানিত সুন্নতী দ্রব্যসামগ্রী ব্যবহার করা। তবেই সর্বপ্রকার নিয়ামত-রহমত মুবারক লাভ করা সহজ ও সম্ভব।
বান্দা-বান্দী, উম্মত যাতে মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক পালনের মাধ্যমে সহজেই সেই রহমত-বরকত মুবারক লাভ করতে পারে, সেজন্য খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, রহমাতুল্লিল আলামীন, মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন আন্তর্জাতিক পবিত্র সুন্নত মুবারক প্রচারকেন্দ্র।
এখানে, সকল প্রকার মহাসম্মানিত সুন্নতী খাদ্য, মহাসম্মানিত সুন্নতী পোশাক, মহাসম্মানিত সুন্নতী দ্রব্য সামগ্রী পাওয়া যায়। আমাদের দায়িত্ব হলো আন্তর্জাতিক সুন্নত মুবারক প্রচারকেন্দ্র থেকে সকল প্রকার মহাসম্মানিত সুন্নতী খাদ্য, মহাসম্মানিত সুন্নতী পোশাক, মহাসম্মানিত সুন্নতী দ্রব্য সামগ্রী ক্রয় বা সংগ্রহ করা।
-আহমদ হুসাইন
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার শেষ দশকে সম্মানিত ই’তিকাফ করা খাছ সুন্নত মুবারক (২)
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র যাকাত-ফিতরা, উশর আদায়ের হুকুম আহকাম ও মহাসম্মানিত সুন্নতী তারতীব মুবারক (১)
০৭ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ইফতার ও সাহরীতে খেজুর খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (১)
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী খাবার কালোজিরা (হাব্বাতুস সাওদা) - ১
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
কাফির-মুশরিকদের পণ্য পরিত্যাগ করে মহাসম্মানিত সুন্নতী পণ্য ব্যবহার করতে হবে
০২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
আন্তর্জাতিক পবিত্র সুন্নত মুবারক প্রচারকেন্দ্রের সাথে সংযুক্ত-সম্পৃক্ত থাকা সকলের জন্য আবশ্যক
০১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
রোযাদারদের জন্য প্রতিদিন সাহরী খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (২)
২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম
২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত সন্তুষ্টি মুবারক সকল নেয়ামতের মূল
২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
রোযাদারদের জন্য প্রতিদিন সাহরী খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (১)
২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত আদায় করাই খাছ সুন্নত মুবারক, এর কম আদায় করা চরম গোমরাহী (৩)
২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত আদায় করাই খাছ সুন্নত মুবারক, এর কম আদায় করা চরম গোমরাহী (২)
২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












