মাইয়্যিতকে কাফনের কাপড় পরিধান করানোর মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক
, ১২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
মাইয়্যিতকে কাফনের কাপড় পরিধান করানো মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক। পুরুষের জন্য তিন কাপড় দেওয়া মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক। যথা: ১) ইযার, ২) কোর্তা, ৩) চাদর।
পুরুষ মাইয়্যিতকে কাফন পরিধান করানোর মহাসম্মানিত সুন্নতী তারতীব মুবারক
মাইয়্যিতকে কাফন পরিধান করানোর পূর্বে তাতে তিন, পাঁচ বা সাতবার লোবান বা আগরবাতির ধুনি দেওয়া উচিত। প্রথম লেফাফা বা চাদর বিছিয়ে পরে তার উপর ইযার বা তহবন্দ বিছাবে, তারপর পিরহান বা কোর্তার অর্ধেকটা বিছাবে আর বাকি অর্ধেকটা মাথার পিছনের দিকে গুটিয়ে রাখবে তারপর মুর্দাকে আস্তে আস্তে চিৎ করে শোয়াবে এবং শরীরে বিশেষ করে সিজদার জায়গাসমূহে অর্থাৎ কপাল, নাক, হাত, হাঁটু ও পায়ে কর্পূর লাগাবে।
তারপর কোর্তার বাকি অর্ধাংশ উপর হতে টেনে বুকের উপর রাখবে। তারপর ইযার বাম দিক হতে টেনে শরীরের উপর রেখে পরে ডান দিক হতে টেনে এমনভাবে রাখবে যেন ডান দিকটা বাম দিকের উপরে থাকে। এরূপভাবে লেফাফা ও ইয়ারের উপর ফেলবে। অতঃপর পায়ের দিকে ও মাথার দিকে এবং মাঝখানে ফিতা দিয়ে বেঁধে দিবে যেন কাফন ছুটে না যায়। এই হলো পুরুষের জন্য কাফন পরানোর নিয়ম।
মহিলা মাইয়্যিতাকে কাফন পরিধান করানোর মহাসম্মানিত সুন্নতী তারতীব মুবারক
মহিলাদের কাফনের কাপড়ও সাদা-সূতি হওয়া সুন্নত। মহিলা মাইয়্যিতকে ৫ কাপড় দিতে হবে। মাইয়্যিত যদি আকার-আকৃতি সম্পন্ন হয়ে মৃত অবস্থায়ও জন্মগ্রহণ করে তবুও মেয়েদের ক্ষেত্রে ৫ কাপড়ই দিতে হবে।
মহিলাদের কাফনের ৫ কাপড় হলো-
(১) লেফাফা বা চাদর, যা মাথা হতে এক বিঘত লম্বা এবং পা হতে এক বিঘত লম্বা হবে।
(২) ইজার বা লুঙ্গি, যা মাথা হতে পা পর্যন্ত লম্বা হবে।
(৩) সীনাবন্দ বা ওড়না, যা সীনা হতে হাঁটু পর্যন্ত লম্বা হবে।
(৪) কামিছ বা কোর্তা, যা পা পর্যন্ত লম্বা হবে। যার কলি বা আস্তিন থাকবে না, শুধু মাঝখান দিয়ে মাথা প্রবেশ করানোর জন্য কামিছের গলা কেটে সামনের দিকে কিছুটা ফেড়ে মাথা প্রবেশ করিয়ে দিতে হবে।
(৫) ছেরবন্দ বা চুল বন্দনী, যা তিন হাত লম্বা এবং এক বিঘত হতে এক হাত পর্যন্ত প্রস্থ হবে। কাফনের কাপড় প্রস্থে এতটুকু হতে হবে যেন মুর্দার শরীরে কাপড়টি বাম পাশ দিয়ে ঢেকে; তার উপরে পাশ দিয়ে ঢেকে রাখা যায়। কাফনের কাপড় প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থাৎ মাইয়্যিত মোটা, হালকা-পাতলা, বা লম্বা-খাটো অনুযায়ী কম বেশী হতে পারে।
মহিলাদের কাফনের কাপড় বিছানো ও পরানোর নিয়ম হলো-
প্রথমে লেফাফা অর্থাৎ চাদর বিছাবে, অতঃপর ইজার বা লুঙ্গি একই নিয়মে লেফাফার উপর বিছাবে। তারপর ইযারের উপরে সিনাবন্দ বিছাবে। এরপর কামিছের নিচের অংশ বিছাবে এবং কামিছের উপরের অংশ মাথার দিকে কাপড় গুটিয়ে ঘাড়ের নিচ বরাবর রাখবে। পরে মাইয়্যিতকে পরিস্কার শুকনা কাপড় দিয়ে ভালভাবে মুছে ছতরের স্থান ভালভাবে ঢেকে কাফনের উপর চিৎ করে শোয়াবে। কামিছের গুটানো অংশের ফাড়া স্থান দিয়ে মাথা ঢুকিয়ে পা পর্যন্ত টেনে দিবে। পর্দাবৃত কাপড়টি সাবধানে সরিয়ে নিবে যাতে ছতর খুলে না যায়। হস্তদ্বয় মাইয়্যিতের দুই পাশে সোজাভাবে রাখবে। এরপরে সিজদা করার সময় যে অঙ্গসমূহ (কপাল, নাক, হাত, হাঁটু ) যমীনে স্পর্শ হয় উক্ত স্থানে কর্পূর দিবে অথবা কর্পূর নিয়ে ক্বামীসের ভিতর দিয়ে শরীরে ছিটিয়ে দিবে।
অতঃপর মুর্দার মাথার চুল দুই ভাগ করে ছেরবন্দ দিয়ে মাথা ভালভাবে ঢাকতে হবে। ছেরবন্দের দুই পাশের দুই অংশ দিয়ে চুল ভালভাবে পেঁচিয়ে চুল ঢেকে দিবে এবং দুইপাশের চুল সিনার উপরে রাখবে। চুল যেন কোনভাবেই নাভির নিচে না নামে সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে। এরপর সিনাবন্দ দিয়ে ঢাকতে হবে। এরপর ইজার বা লুঙ্গি বাম দিক থেকে উঠাবে।
অতঃপর ডান দিক থেকে উঠিয়ে মাইয়্যিতকে জড়িয়ে দিবে। একই নিয়মে লেফাফা বা চাদর দু’দিক থেকে টেনে মুড়িয়ে দিয়ে গায়ে জড়িয়ে দিবে। পরে কাপড়ের টুকরা দ্বারা কোমরে, মাথার উপরে ও পায়ের নিচে হালকা করে বাঁধন দিবে। কবরে রাখার পর বাঁধনগুলো খুলে দিবে।
উল্লেখ্য যে, মহিলা মাইয়্যিতকে জানাযার খাটে তোলার পূর্বে আগে একটি কাপড় বিছিয়ে নিবে এবং লাশ রাখার পরে খাটের উপরে একটি বড় চাদর বা কাপড় টান করে দিবে যাতে কোনভাবেই মাইয়্যিতকে দেখা না যায় এবং শরয়ী পর্দার হুকুম যেন কোনভাবেই লঙ্ঘিত না হয়। বর্তমান বাজারে লাশ বহনের জন্য যে বক্স পাওয়া যায়, মহিলা মাইয়্যিতকে সেই বক্সে বহন করাই অধিক উত্তম। কেননা, শরয়ী পর্দা যথাযথভাবে পালিত হয় আর বহন করতেও সুবিধা হয় ।
-আহমদ হুসাইন
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
‘আন্তর্জাতিক পবিত্র সুন্নত মুবারক প্রচার কেন্দ্র’ থেকে সংগ্রহ করুন সুন্নতী খাবার ‘পনির’
১২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মাইয়্যিতকে গোসল দেয়ার মহাসম্মানিত সুন্নতী তরীক্বাহ
১১ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ২১শে শাওওয়াল শরীফ হচ্ছেন, আন্তর্জাতিক পবিত্র বাল্যবিবাহ দিবস। বাল্যবিবাহ করা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক; অস্বীকার করা কাট্টা কুফরী।
১০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ২১শে শাওওয়াল শরীফ হচ্ছেন, আন্তর্জাতিক পবিত্র বাল্যবিবাহ দিবস। বাল্যবিবাহ করা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক; অস্বীকার করা কাট্টা কুফরী।
০৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ২১শে শাওওয়াল শরীফ হচ্ছেন, আন্তর্জাতিক পবিত্র বাল্যবিবাহ দিবস। বাল্যবিবাহ করা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক; অস্বীকার করা কাট্টা কুফরী।
০৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ২১শে শাওওয়াল শরীফ হচ্ছেন, আন্তর্জাতিক পবিত্র বাল্যবিবাহ দিবস। বাল্যবিবাহ করা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক; অস্বীকার করা কাট্টা কুফরী।
০৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
চেয়ার-টেবিলে খাবার খাওয়া বিদয়াত; খাছ ফতওয়া মতে হারাম
০৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পেট পুরে আহার করা মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার খিলাফ
০৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
আঙুল, হাত ও বাসন চেটে খাওয়া:
০৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্র জুমুয়াহ শরীফ দিনের মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক
০৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
খাবারে ও পান পাত্রে ফুঁক দেওয়া মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার খিলাফ
০২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মুয়ানাকা করা মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক
০১ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












