মহিলাদের সুন্নতী লিবাস, অলংকার ও সাজ-সজ্জা (৭)
, ০৭ রমাদ্বান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২৭ তাসি, ১৩৯৩ শামসী সন , ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ১২ ফাল্গুন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) মহিলাদের পাতা
ক্বামীছ নিছফে সাক পর্যন্ত পরিধান করা সুন্নত, হাঁটু থেকে নীচের দিকে এক হাত পর্যন্ত ঝুলানো জায়িয আছে :
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ أُمِّ الْحَسَنِ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهَا أَنَّ سَيِّدَتنَا حَضْرَتْ اُمَّ الْمؤْمِنِيْنَ السَّادِسَةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ حَدَّثَتْهُمْ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ شَبَّرَ لِحَضْرَتْ سَيِّدَةِ النِّسَاءِ اَهْلِ الْجَنَّةِ زَهْرَاءَ عَلَيْها السَّلَامُ شِبْرًا مِّنْ نِطَاقِهَا-
অর্থ: হযরত উম্মে হাসান রহমতুল্লাহি আলাইহা উনার থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, নিশ্চয়ই সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আস সাদিসাহ আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, নিশ্চয়ই মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুর রবিয়াহ যাহরা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত নিত্বাক্ব মুবারক উনার ঝুলকে এক বিঘত পরিমাণ নির্ধারিত করে দিয়েছেন। (তিরমিযী শরীফ, মুসনাদে আহমদ ইবনে হাম্বল-৬/২৯৯)
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে রয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عُمَرَ رَضِىَ اللّٰهُ تَعَالٰى عَنْه قَالَ قَالَ رَسُولُ اللّٰه صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ جَرَّ ثَوْبَهُ مِنَ الْخُيَلَاءِ لَمْ يَنْظُرِ اللهُ إِلَيْهِ- قَالَتْ سَيِّدَتُنَا حَضْرَتْ اُمُّ الْمؤْمِنِيْنَ السّادِسَةُ عَلَيْهَا السَّلَام يَا رَسُولَ اللهِ فَكَيْفَ تَصْنَعُ النِّسَاءُ بِذُيُولِهِنَّ؟ قَالَ تُرْخِينَهُ شِبْرًا. قَالَتْ إِذًا تَنْكَشِفَ أَقْدَامُهُنَّ؟ قَالَ تُرْخِينَهُ ذِرَاعًا لَا تَزِدْنَ عَلَيْهِ-
অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, মহাসম্মানিত হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন- যে ব্যক্তি অহংকার বশতঃ পায়ের গোড়ালীর নীচে লুঙ্গি বা বস্ত্র পরিধান করে পরকালে যিনি খালিক, যিনি মালিক, যিনি রব, মহান আল্লাহ পাক তিনি ঐ ব্যক্তির প্রতি রহমত মুবারকের দৃষ্টিতে তাকাবেন না। তখন সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আস সাদিসাহ আলাইহাস সালাম তিনি সুওয়াল মুবারক করলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! মহিলাদের ঝুল কতটুকু হবে? জাওয়াবে তিনি বলেন, এক বিঘত পরিমাণ। পুনরায় তিনি সুওয়াল মুবারক করলেন, যদি তাদের পায়ের গোড়ালী প্রকাশ পেয়ে যায়? জাওয়াবে তিনি বলেন, তাহলে এক হাত পরিমাণ ঝুলাবে, এর চেয়ে বেশি বৃদ্ধি করবেনা। (তিরমিযী শরীফ, নাসায়ী শরীফ, আহমদ শরীফ, আবূ দাউদ শরীফ)
وَالْحَاصِلُ أَنَّ لِلرِّجَالِ حَالَيْنِ حَالُ اسْتِحْبَابٍ وَهُوَ أَنْ يَقْتَصِرَ بِالْإِزَارِ عَلَى نِصْفِ السَّاقِ وَحَالُ جَوَازٍ وَهُوَ إِلَى الْكَعْبَيْنِ وَكَذَلِكَ لِلنِّسَاءِ حَالَانِ حَالُ اسْتِحْبَابٍ وَهُوَ مَا يَزِيدُ عَلَى مَا هُوَ جَائِزٌ لِلرِّجَالِ بِقَدْرِ الشِّبْرِ وَحَالُ جَوَازٍ بِقَدْرِ ذِرَاعٍ وَيُؤَيِّدُ هَذَا التَّفْصِيلَ فِي حَقِّ النِّسَاءِ مَا أَخْرَجَهُ حَضْرَتْ الطَّبَرَانِيُّ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ فِي الْأَوْسَطِ مِنْ طَرِيقِ مُعْتَمِرٍ عَنْ حَضْرَتْ حُمَيْدٍ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ عَنْ حَضْرَتْ أَنَسٍ رَضِىَ اللّٰهُ تَعَالٰى عَنْه أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ شَبَّرَ لحَضْرَتْ سَيِّدَةِ النِّسَاءِ اَهْلِ الْجَنَّةِ زَهْرَاءَ عَلَيْها السَّلَامُ مِنْ عَقِبِهَا شِبْرًا وَقَالَ هَذَا ذَيْلُ الْمَرْأَةِ-
অর্থ: উপরোল্লেখিত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার থেকে যা প্রমাণিত হলো: পুরুষদের ইযার পরিধানের ক্ষেত্রে দুটি অবস্থা। একটি হলো- নিছফে সাক বা পায়ের নলার অর্ধেক পর্যন্ত পরিধান করা সম্মানিত মুস্তাহাব-সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত। অপরটি হলো- পায়ের গোড়ালীর উপর পর্যন্ত পরিধান করা জায়িয। তদ্রুপ মহিলাদের ক্ষেত্রেও দুটি অবস্থা। একটি হলো- পুরুষের অনুরূপ হাঁটু থেকে এক বিঘত পরিমাণ ঝুলানো মুস্তাহাব-সুন্নত মুবারক। অপরটি হলো- হাঁটু থেকে এক হাত পরিমাণ ঝুলানো জায়িয। উক্ত ব্যাখ্যাটিকে আরো শক্তিশালী করে অপর একটি পবিত্র হাদীছ শরীফ। যা আত-তবারানী ফীল-আওসাত গ্রন্থে নির্ভরযোগ্য সনদে বর্ণিত রয়েছে। উক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফখানা হযরত মা’মার রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত হুমাইদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণনা করেন, তিনি হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণনা করেন: তিনি বলেন, নিশ্চয়ই মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুর রবিয়াহ যাহরা আলাইহাস সালাম উনাকে উনার নিতাক্ব মুবারক উনার ঝুল এক বিঘত পরিমাণ রাখতে নির্ধারণ করে দেন। বর্ণনাকারী বলেন, এটাই হলো মহিলাদের ঝুলের পরিমাণ। (ফতহুল বারী-১০/২৫৯, আওনুল মা’বূদ-১১/১১৯, তুহফাতুল আহওয়াজী-৫/৩৩৩, ফয়দ্বুল ক্বদীর-৩/১৭৬, যখীরাতুল ঊক্ববা-৩৯/১১২)
তুহফাতুল আহওয়াজী ৫ম খ- ৪০৭ পৃষ্ঠায় উল্লেখ রয়েছে-
قَالَ حَضْرَتْ النَّوَوِيُّ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْه أَجْمَعُوا عَلَى جَوَازِ الْجَرِّ لِلنِّسَاءِ-
অর্থ: হযরত ইমাম নববী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, মহিলাদের পরিধেয় বস্ত্রের ঝুল মাটিতে হেচরানো জায়েয হওয়ার বিষয়ে হযরত উলামায়ে কিরামগণ উনারা ইজমা করেছেন।
-আল্লামা মুহম্মদ মুফিদুর রহমান।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
খাছ দোয়া মুবারক পাওয়ার বিশেষ মাধ্যম পবিত্র যাকাত আদায়
২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা বেমেছাল ফযীলত মুবারকের অধিকারী
২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
“তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি সর্বোত্তম যে নিজে পবিত্র কুরআন শরীফ শিক্ষা করে এবং অপরকে শিক্ষা দেয়”
২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সৃষ্টির শুরুতেই মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত মুবারক উনার মধ্যে ছিলেন, আছেন এবং অনন্তকাল থাকবেন
২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
তওবা
২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্বোধন মুবারক করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আদব-শরাফত বজায় রাখতে হবে
২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
তিন ধরনের লোক বেহেশতে প্রবেশ করবে না
১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
খাছ দোয়া মুবারক পাওয়ার বিশেষ মাধ্যম পবিত্র যাকাত আদায়
১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
তমা’ বা ধন-সম্পদ পাওয়ার লোভ এবং তার প্রতিকার
১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
৩টি বিশেষ নেক কাজ, যা ইন্তেকালের পরও জারি থাকে
১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












