মহাসম্মানিত হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,‘পবিত্র রমাদ্বান শরীফ হচ্ছেন মুয়াসাহ বা সহানুভূতির মাস।’ সুবহানাল্লাহ! পবিত্র ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে- অতিরিক্ত মুনাফা লাভের উদ্দেশ্যে সিন্ডিকেট করে বাজারে দ্রব্যমূল্য বাড়ানো সম্পূর্ণরূপে হারাম ও নাজায়িয।
তাই সরকারের জন্য দায়িত্ব-কর্তব্য ফরয ছিলো- পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাস উনার সম্মানার্থে রোযাদার উনাদের প্রতি সহানুভূতির লক্ষ্যে প্রতিটি পণ্যের মূল্য সহনশীল ও নাগালের মধ্যে রাখা। পাশাপাশি যারা অতিরিক্ত মূল্য বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী মজুদ করছে এবং যারা সিন্ডিকেট করে বাজারে দ্রব্যমূল্য বাড়াচ্ছে তাদেরকে চিহ্নিত করে তাদের ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া।
, ১৩ রমাদ্বান শরীফ, ১৪৪৫ হিজরী সন, ২৫ আশির, ১৩৯১ শামসী সন , ২৪ মার্চ, ২০২৪ খ্রি:, ১০ চৈত্র, ১৪৩০ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) মহাপবিত্র ক্বওল শরীফ-২
ছহিবাতু সাইয়্যিদিল আ’দাদ শরীফ, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, হাবীবাতুল্লাহ, ছহিবায়ে নেয়ামত, রহমতুল্লিল আলামীন, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাস আসলেই কিছু অসৎ ব্যবসায়ী যারা মুসলমানদের শত্রু তারা সিন্ডিকেট তৈরি করে সব ধরণের পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি করছে। সরকারের তরফ থেকে কিছু পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলা হলেও কার্যকরভাবে তাদের নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে না। এর জন্য উচিত ছিলো এখনই শক্ত এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা। যাতে পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাসে দ্রব্যমূল্য সহনশীল থাকে। কিন্তু সরকার তা করতে ব্যর্থ হয়েছে।
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি যারা অতিরিক্ত মুনাফা লাভের আশায় সিন্ডিকেট করে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করে তাদের পরিণতি সম্পর্কে বলেন, পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে- মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “খাদ্যশস্য দুর্মূল্য হলে বিক্রয় করে অধিক লাভবান হওয়ার আশায় যে ব্যক্তি ৪০ দিন যাবৎ খাদ্যশস্য আটকায়ে রাখে; তার পাপ এতো অধিক যে, সমস্ত খাদ্যশস্য গরিব-দুঃখীদের মধ্যে বিতরণ করে দিলেও পাপের প্রায়শ্চিত্ত হবে না।” নাউযুবিল্লাহ!
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “অতিরিক্ত মূল্য বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে যে ব্যক্তি খাদ্যদ্রব্য ৪০ দিন পর্যন্ত আবদ্ধ রাখে মহান আল্লাহ পাক তিনি তার প্রতি অসন্তুষ্ট হন।” নাঊযুবিল্লাহ!
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, একবার কোনো এক মজুদকারী সম্বন্ধে আমীরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনাকে সংবাদ দেয়া হলে তিনি বলেন, “অগ্নিসংযোগে তার গোলা (গুদাম) ভস্মীভূত করে দাও।”
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, পাশাপাশি যারা অসৎ ব্যবসায়ী তাদের সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “অসৎ ব্যবসায়ীদের হাশর-নশর হবে ফাসিক-ফুজ্জারদের সাথে।” নাঊযুবিল্লাহ! তাই সকলের উচিত হক্ব ও হালালভাবে ব্যবসা করা। অধিক মুনাফা লাভের বা মূল্য বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে দ্রব্য-সামগ্রী মজুদ করে রাখা শুধু হারামই নয়, বরং সাথে সাথে হক্কুল ইবাদ নষ্ট করারও কারণ যা প্রকৃতপক্ষে সম্পূর্ণরূপে সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার বিরোধী।
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে সারা দেশব্যাপী বহু সমস্যা পরিলক্ষিত হচ্ছে। ব্যবসা-বাণিজ্যসহ মানুষের আয়ের সব উৎস বন্ধ। এহেন পরিস্থিতিতে মানুষ অনেক আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত। আর এ অজুহাতেই দ্রব্যমূল্য ক্রমান্বয়ে বাড়ানো হচ্ছে। যা মানুষের সাধ্যের বাহিরে চলে যাচ্ছে। কাজেই সরকারের জন্য ফরয ছিলো, পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাস উনার সম্মানার্থে মুসলমানদের স্বাভাবিক জীবন যাপনের সার্বিক ব্যবস্থা করা।
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, সরকারের জন্য দায়িত্ব-কর্তব্য হলো- যারা অতিরিক্ত মূল্য বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে চাল, ডাল, তেল, গুড়, চিনি, চিড়া ইত্যাদিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী মজুদ করছে এবং যারা সিন্ডিকেট করে বাজারে দ্রব্যমূল্য বাড়াচ্ছে তাদেরকে চিহ্নিত করে তাদের ব্যাপারে এখনই কঠোর ব্যবস্থা নেয়া। তবে শুধুমাত্র আইনের বল প্রয়োগেই এ মজুদদারী প্রবণতা রোধ করা যাবে না। কারণ মানুষের তৈরি আইনের দ্বারা মানুষ সহজেই পার পেয়ে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে অত্যাবশ্যকীয় হলো- মানুষের যিনি মহান রব তায়ালা অর্থাৎ খালিক্ব ও মালিক মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি অনুগত হওয়া ও উনার ভয় পোষণ করা এবং এ সম্পর্কিত মূল্যবোধ ও চেতনা জাগ্রত করা ও প্রয়োজনীয় ইলম হাছিল করা। আর এজন্য আবশ্যক হচ্ছে হক্কানী-রব্বানী আউলিয়ায়ে কিরাম উনাদের হাতে বাইয়াত গ্রহণ করে সবক নিয়ে যিকির-আযকার ও ছোহবত ইখতিয়ারের মাধ্যমে ফয়েয-তাওয়াজ্জুহ হাছিল করে ইছলাহ বা পরিশুদ্ধতা লাভ করা।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুকরণে নাম রাখা দুনিয়ায় যেমন রহমত, বরকত ও সাকীনার কারণ, তেমনি আখিরাতে ও শাফায়াত মুবারক, নাযাত ও ফযীলত লাভের উছীলা।
০৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
প্রাণহীন নামায মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট মূল্যহীন।
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
শয়তান আদম সন্তানের ক্বলবে আসন পেতে বসে থাকে। যখন সে যিকির করে, তখন শয়তান পালিয়ে যায়। আর যখন সে যিকির থেকে গাফিল হয়, তখন শয়তান ওয়াসওয়াসা দেয়।” মহান আল্লাহ পাক উনার যকিরি সমস্ত কামযি়াবীর সোপান।
০৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি যার অন্তরকে প্রসারিত করেন তাকেই হিদায়েত দান করেন। কিভাবে হিদায়েত লাভ করা যাবে আর কি কারণে হিদায়েত থেকে মাহরূম হয়ে যাবে সে বিষয়ে হাক্বীক্বী ইলম হাছিল করতে হলে কামিল শায়েখ বা আউলিয়ায়ে কিরাম উনাদের ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার ব্যতীত কারো জন্য কোন বিকল্প নেই।
০২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাপবিত্র নসবনামাহ মুবারক দৈনিক পাঠ করা সকলের জন্য আবশ্যক।
০১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে- প্রত্যেকের জন্য হালাল কামাই করা, হালাল কাপড় ও দ্রব্য সামগ্রী ব্যবহার করা এবং হালাল ও পবিত্র খাদ্য খাওয়া ফরয। তাই, সকলের জন্য দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে- খালিছভাবে মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারক লাভের উদ্দেশ্যে সম্মানিত শরীয়ত কর্তৃক নির্দেশিত তারতীবে নিজে হালাল কামাই করা, হালাল কাপড় ও দ্রব্য সামগ্রী ব্যবহার করা, হালাল ও পবিত্র খাদ্য গ্রহণ করা। একই সাথে অধীনস্তদেরকে হালাল কামাই, হালাল ও পবিত্র খাদ্য গ্রহণে বাধ্য করা।
৩০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র সাওয়ানেহ উমরী মুবারক বা পবিত্র জীবনী মুবারক জানা ও বেশি বেশি সর্বত্র আলোচনা করা এবং প্রতিক্ষেত্রে উনাকে পরিপূর্ণরূপে অনুসরণ-অনুকরণ করা সকলের জন্যই ফরয।
৩০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহান আল্লাহ পাক উনার যিকিরকারী ব্যক্তি জীবিত আর যে মহান আল্লাহ পাক উনার যিকির করেনা সে ব্যক্তি মৃত।
২৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
অন্তর থেকে বদ খাছলতসমূহ দূর করে দিয়ে পবিত্র নেক খাছলতসমূহ পয়দা করার মাধ্যমেই হাক্বীক্বী ইছলাহ বা পরিশুদ্ধতা লাভ সম্ভব। মুহলিকাতের (বদ খাছলত) কারণে ক্বলব বিনষ্ট হয়। আর মুনজিয়াতের (নেক খাছলত) কারণে ক্বলব পরিশুদ্ধ হয়।
২৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
হায়াত, মাল-সম্পদ এবং পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার হক্ব যারা আদায় করবেনা, তাদেরকে কিয়ামতের দিন অসহায় বকরীর ন্যায় উপস্থিত করা হবে।
২৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
প্রত্যেক মুসলমান পুরুষ-মহিলা সকলের জন্যই কামিল শায়েখ বা মুরশিদ ক্বিবলা উনার নিকট বাইয়াত গ্রহণ করা, ছোহবত ইখতিয়ার করা, তরীক্বার সবক্ব আদায় করা ফরযে আইন। যার মাধ্যমে ইছলাহ বা আত্মশুদ্ধি লাভ হয়। ফলে মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সাথে নিসবত স্থাপিত হয়। সুবহানাল্লাহ!
২৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পর্দা বা বোরকা মুসলমানগণ উনাদের দ্বীনি অধিকার আর খাছ করে মুসলিম মহিলাগণ উনাদের সম্মান এবং ব্যক্তিত্বেরও প্রতীক।
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












