সুন্নত মুবারক তা’লীম
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র সুন্নতী তরীক্বায় বিবাহের মোহর
, ২০ জুমাদাল ঊলা শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৪ সাদিস, ১৩৯৩ শামসী সন , ১২ নভেম্বর, ২০২৫ খ্রি:, ২৭ কার্তিক, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
وَآتُوا النِّسَاءَ صَدُقَاتِهِنَّ نِحْلَةً ۚ فَإِنْ طِبْنَ لَكُمْ عَنْ شَيْءٍ مِّنْهُ نَفْسًا فَكُلُوْهُ هَنِيْئًا مَّرِيْئًا ﴿٤﴾
অর্থ: এবং তোমরা নারীদেরকে দাও তাদের মোহর খুশিমনে। এরপর তারা যদি স্বেচ্ছায় স্বাগ্রহে ছেড়ে দেয় কিছু অংশ তোমাদের জন্য তাহলে তা স্বাচ্ছন্দে ভোগ কর। (পবিত্র সূরা নিসা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ নং: ৪)
উল্লেখ্য, মোহর আহলিয়ার ন্যায্য অধিকার। তার অধিকার সে যেন সঠিকভাবে পায় এবং আহলিয়ার যেন অবমূল্যায়ন না হয়, এ ব্যাপারে আহলিয়ার প্রতি খেয়াল রাখতে হবে। মোহরের সম্মানিত শরীয়ত উনার হুকুম হলো, ১০ দিরহামের কম না হওয়া (১০ দিরহামের পরিমাণ বর্তমান হিসাবে পৌনে তিন ভরি খাঁটি রূপা) এবং মোহরের সর্বোচ্চ পরিমাণ সম্মানিত শরীয়ত নির্ধারণ করেননি। (মিরকাতুল মাফাতীহ : ৬/৩৫৮)
মোহরে হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনার হুকুম ও বাজারদর:
মোহরে হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম-ই খাছ সুন্নতী মোহর মুবারক। এই মোহর ধার্য করা বরকতময় ও উত্তম।
উল্লেখ্য, একজন ব্যতীত সকল হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম এবং সকল হযরত বানাতু রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মহাসম্মানিত মোহর মুবারক ৫০০ দিরহাম অর্থাৎ ১৩১.২৫ ভরি খাঁটি রূপা অথবা তার সমপরিমাণ বাজারমূল্য। (মুস্তাদরাকে হাকিম, পবিত্র হাদীছ শরীফ: ২৭৪২)
মোহর পরিশোধ করার হুকুম:
বর্তমান সমাজে সাধ্যের বাইরে অনেক বড় অংকের মোহর ধার্য এবং তা আদায়ে অনীহার মনোভাব লক্ষ্য করা যায়। মেয়ে পক্ষ বিবাহের সম্পর্ক রক্ষার জন্য মোহরের অঙ্ক বাড়ানোর চেষ্টা করে এবং ছেলে পক্ষ চিন্তা করে এটি আদায় করতে হবে না। মূলত, এমন কাজ সম্মানিত শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে সঠিক নয়।
সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘তোমরা মহিলাদের মোহরের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি কোরো না। কেননা তা যদি দুনিয়ায় সম্মানের হতো, তাহলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এই ইজ্জত-সম্মানের বেশি হক্বদার ছিলেন। অথচ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজের মহাসম্মানিত নিসবাতুল আযীম শরীফে এবং উনার মহাসম্মানিতা হযরত বানাত আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত নিসবাতুল আযীম শরীফে সাড়ে ১২ উকিয়া (৫০০ দিরহাম) এর বেশি নির্ধারণ করেননি। ’ (তিরমিযী শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ : ১১১৪)
অতএব সামর্থ্য অনুযায়ী মোহর ধার্য করা আবশ্যক এবং ধার্য করা মোহর পরিশোধ করতেই হবে। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘যে পুরুষ বিবাহের মধ্যে মোহর আদায়ের নিয়তবিহীন মোহর ধার্য করল, চাই তা বেশি হোক বা কম, সে হাশরের দিন মহান আল্লাহ পাক উনার সামনে ব্যভিচারী হিসেবে উপস্থিত হবে। ’ নাউযুবিল্লাহ! (আল মু’জামুল আওসাত, পবিত্র হাদীছ শরীফ: ১৮৫১)
-আহমদ হুসাইন
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব- ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (৬)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব-ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (৫)
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব- ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (৪)
২২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব-ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (৩)
২১ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব-ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (২)
২০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব- ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (১)
১৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (৯)
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী খাবার কিছ্ছা
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ফলমূল খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (২)
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক পালন করা ফরয
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ফলমূল খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (১)
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার পরিচয় ও প্রকারভেদ (২)
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












