মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের বেমেছাল দানশীলতা মুবারক (১)
, ১১ রবীউল আউওয়াল শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০৭ রবি’, ১৩৯৩ শামসী সন , ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ খ্রি:, ২০ ভাদ্র, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) মহিলাদের পাতা
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা হচ্ছেন সমস্ত মু’মিনদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মাতা আলাইহিন্নাস সালাম। উনারা ছিলেন মোট ১৩ জন। উনারা প্রত্যেকেই সমস্ত উত্তম ছিফত মুবারকে অনন্য। উনাদের তুলনা শুধু উনারাই। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হচ্ছেন ‘আজওয়াদুন নাস’ বা সর্বশ্রেষ্ঠ দানশীল। মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারাও ছিলেন এই ছিফত মুবারক উনার একক অধিকারী বা মালিক। সুবহানাল্লাহ!
উনারা কায়িনাতবাসীকে তা’লীম মুবারক দিয়েছেন কিভাবে দান করতে হয়, কিভাবে সবকিছু বিলিয়ে দিতে হয়। কিন্তু কিছু গোমরাহ ও পথভ্রষ্ট লোক এবং হক্বপন্থী দাবিদারদের মধ্যেও অনেকে প্রচার করে এবং তাদের কিতাবে লিখে থাকে যে, উনারা অনেক দরিদ্র ছিলেন, খাওয়া-পরা পেতেন না ইত্যাদি ইত্যাদি। না‘ঊযুবিল্লাহ!
উনাদের শান মুবারকে এরূপ আক্বীদাহ্ পোষণ করা উনাদের প্রতি মিথ্যা অপবাদ দেয়ার শামিল। যারা এরূপ আক্বীদাহ পোষণ করবে তাদের ঈমান নষ্ট হবে, তারা চরম গোমরাহ হবে, যদি তাওবা না করে তারা ঈমান হারা হয়ে কাফির হয়ে মৃত্যুবরণ করবে। নাঊযুবিল্লাহ!
মূলত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা উনাদের কাছে যা কিছুই আসতো সবকিছু দান করে দিতেন। উনারা উনাদের নূরুল মাগফিরাত মুবারকে (হাত মুবারকে) কোনো কিছুই রাখতেন না এবং এটা পছন্দও করতেন না। যার কারণে দেখা যেতো উনাদের কাছে অনেক সময় কোনো কিছুই থাকতো না। আর এটাকেই তারা প্রচার করছে যে, উনারা গরীব ছিলেন, উনাদের চুলা মুবারকে আগুন জলতো না ইত্যাদি। নাঊযুবিল্লাহ!
উনাদের এই বেমেছাল দানশীলতা মুবারক বিষয়েই বক্ষমান লেখায় আলোচনা করা হবে, ইনশাল্লাহ।
....
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে মাসিক ও বাৎসরিক হাতখরচ মুবারক দিতেন। যার পরিমাণ একেক সময় একে রকম ছিলো।
হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে- হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি খায়বারবাসীদেরকে উৎপাদিত ফল বা ফসলের অর্ধেক ভাগের শর্তে জমি বর্গা দিয়েছিলেন। এরপর (ওখানে উৎপাদিত ফসল থেকে) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে ১০০ ওসাক দিতেন। এর মধ্যে ৮০ ওসাক খুরমা এবং ২০ ওসাক যব। দ্বিতীয় খলীফা সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি (উনার খিলাফতকালে) খায়বরের সেই জমি বণ্টন করেন। তিনি হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে ইখতিয়ার দিলেন যে, উনারা জমি ও পানি নিবেন, না কি উনাদের জন্য পূর্বে যেটা নির্ধারিত ছিলো সেটাই চালু থাকবে। তখন উনাদের মধ্যে কেউ জমি নিলেন আর কেউ ওসাক নিতে রাজী হলেন। সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম তিনি জমিই নিয়েছিলেন। (মুসলিম শরীফ : পবিত্র হাদীছ শরীফ নং ২৩২৮)
এরপর দ্বিতীয় খলীফা সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি উনার খিলাফতকালে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের জন্য বার্ষিক ভাতা নির্ধারণ করেন ১০-১২ হাজার দিরহাম।
যেমন কিতাবে বর্ণিত রয়েছে- বিশিষ্ট তাবেয়ী হযরত মুছআব ইবনে সা’দ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, দ্বিতীয় খলীফা সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের জন্য ১০ হাজার দিরহাম ভাতা নির্ধারণ করেছিলেন। আর সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম উনার জন্য সেটা বৃদ্ধি করে ১২ হাজার দিরহাম করেন এবং বলেন, নিশ্চয়ই তিনি হচ্ছেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হাবীবাহ অর্থাৎ অত্যন্ত প্রিয়। সুবহানাল্লাহ! (ত্ববাক্বাতুল কুবরা লি ইবনে সা’দ ৮/৬৭)
সেই যুগের ১০-১২ হাজার দিরহাম বর্তমান যুগের প্রায় অনেক টাকা। হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা উনাদের ভাতার টাকা থেকে প্রায় সবই দান করে দিতেন। সুবহানাল্লাহ!
যদিও মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের সবার দানশীলতার কথা সরাসরি কিতাবাদিতে পাওয়া যায় না। তবে প্রকৃত অবস্থা হচ্ছে- উনারা প্রত্যেকেই উনাদের সবকিছু দান করে দিতেন, নিজেদের জন্য কোনোকিছুই অবশিষ্ট রাখতেন না। সুবহানাল্লাহ!
-হাফিজ মুহম্মদ ইমামুল হুদা।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
হযরত ফুরাই’আহ বিনতে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহা
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
৩টি বিশেষ নেক কাজ, যা ইন্তেকালের পরও জারি থাকে
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
যে ৪ শ্রেণীর লোকদের জন্য ক্বিয়ামতের দিন সুপারিশ ওয়াজিব হবে
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মহিলাদের সুন্নতী লিবাস, অলংকার ও সাজ-সজ্জা (১৯)
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
হাশরের ময়দানে যে ৫টি প্রশ্নের উত্তর প্রত্যেককেই দিতে হবে
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা বেমেছাল ফযীলত মুবারকের অধিকারী
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পিতা-মাতা উভয়েই দ্বীনদার হওয়া ব্যতীত দ্বীনদার সন্তান আশা করা সম্পূর্ণ বৃথা (১)
০৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ক্বলবী যিকির জারী না থাকলে শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়
০৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
হীলাহ্ বিবাহ এবং তার শরয়ী ফায়সালা (১)
০৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
নারী সমাজের জন্য একটি জরুরী ফিকির!
০৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
“মৃত্যু দেখে দেখে নসীহত হাছিল করতে হবে”
০৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্বোধন মুবারক করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আদব-শরাফত বজায় রাখতে হবে
০৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












