মধ্যপ্রাচ্যে খাদ্য রপ্তানিতে যুদ্ধের ধাক্কা, কমছে ক্রয় আদেশ
, ৩১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) দেশের খবর
নিজস্ব সংবাদদাতা:
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে উপসাগরীয় দেশগুলোতে বাংলাদেশের প্রক্রিয়াজাত খাদ্য ও কৃষিপণ্য রপ্তানি ধাক্কার মুখে পড়েছে। চলমান যুদ্ধের প্রভাবে পণ্য পরিবহন খরচ চার গুণ বেড়েছে। পাশাপাশি নতুন ক্রয় আদেশও কমেছে।
যুদ্ধের আগে এক কনটেইনার প্রক্রিয়াজাত খাদ্য পাঠাতে খরচ হতো প্রায় ১ হাজার ৫০০ ডলার। কিন্তু যুদ্ধ শুরুর পর পণ্য রপ্তানিতে বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে, ফলে পরিবহন খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬ হাজার ৫০০ ডলারে।
উপসাগরীয় দেশগুলোতে বিভিন্ন ধরনের পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ। এই তালিকায় আছে-মসলা, বিস্কুট, মুড়ি, চানাচুর, নুডলস, সরিষার তেল, পানীয় এবং নাশতাসামগ্রী। এসব পণ্যের প্রধান ক্রেতা হলো ওই অঞ্চলে বসবাসকারী বাংলাদেশি প্রবাসীরা।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই বাজারের আকার ১০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি। প্রধান রপ্তানি গন্তব্যগুলোর মধ্যে আছে-সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, কাতার, কুয়েত ও বাহরাইন।
বোম্বে সুইটস অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডের আন্তর্জাতিক বিপণন ব্যবস্থাপক রেজাউল হক খন্দকার জানান, যুদ্ধের জন্য তারা ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে মধ্যপ্রাচ্য কেন্দ্রীক রপ্তানির জন্য পণ্য উৎপাদন বন্ধ রেখেছেন।
পারটেক্স স্টার গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ড্যানিশ ফুডস লিমিটেডের বিজনেস প্রধান সাইদুল আজহার সারওয়ার বলেন, পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় নতুন করে এক ধরনের ‘যুদ্ধ খরচ’ যুক্ত হয়েছে, যা মোট খরচের পরিমাণ বাড়িয়েছে।
তিনি বলেন, ‘খরচ বেড়ে যাওয়ায় আমদানিকারকেরা পণ্য নিতে অনীহা দেখাচ্ছেন। বিশেষ করে যেসব পণ্য ইতোমধ্যে পথে আছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।’
তার মতে, মোট ব্যয় অন্তত ১৫ শতাংশ বেড়েছে। এতে অনেক ক্রেতাই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশায় অর্ডার পিছিয়ে দিচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, প্রবাসী শ্রমিকদের মধ্যে চাকরির অনিশ্চয়তা বাড়তে শুরু করেছে। এ কারণে তাদের কাছে অপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের চাহিদা কমতে পারে।
সিটি গ্রুপের বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ডিরেক্টর লুৎফুল কবির শাহীন জানান, শিপমেন্টের সময়সূচি এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এর ফলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রেও পণ্য পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে এবং ট্রানজিট সময় প্রায় ১০ দিন পর্যন্ত বেড়ে গেছে।
তবে তিনি বলেন, উৎপাদন মোটামুটি ঠিক আছে। কোম্পানিগুলো নতুন নতুন পথ ব্যবহার করছে, যেমন দুবাই হয়ে পণ্য পাঠানো। খাদ্যপণ্যের চাহিদা ঠিকই আছে, কিন্তু রপ্তানি প্রক্রিয়া এখন আগের চেয়ে বেশি জটিল হয়ে গেছে, তাই কাজ করতে বাড়তি পরিকল্পনা ও নমনীয়তা দরকার হচ্ছে।
সিটি গ্রুপের মতোই, মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের রপ্তানি প্রধান সামিরা রহমান বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের জন্য তাদের উৎপাদন এখনো স্বাভাবিক রয়েছে।
তবে তিনি বলেন, অনেক শিপিং কোম্পানি নতুন অর্ডার নিচ্ছে না, এমনকি আগের অর্ডারও বাতিল করছে। এতে পণ্য পাঠানোর সময়সূচি ঠিক রাখা যাচ্ছে না, আর ঝুঁকির কারণে খরচও বাড়ছে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য বলছে, মধ্যপ্রাচ্যে প্রক্রিয়াজাত খাদ্য রপ্তানি থেকে বছরে প্রায় ৪০-৪৫ মিলিয়ন ডলার আয় হয়। আর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কৃষিখাত থেকে মোট আয় হয়েছে ৬৫.২৪ মিলিয়ন ডলার।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মাকে হত্যার পর লাশ ঘরে তালাবন্ধ রেখে পালায় কিশোর ছেলে
৩১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
টানা কয়েকদিন দেশজুড়ে ঝড়ের পূর্বাভাস
৩১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
আমির হামজার বিরুদ্ধে শতকোটি টাকার মানহানি মামলা
৩১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
বিনিয়োগ প্রতারণা, পাচার হওয়া ৪৪ কোটি টাকা ফেরত আনলো সিআইডি
৩১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
রাজবাড়ী রুটে ভালো মানের বাস ঢুকতে না দেয়ার অভিযোগ
৩১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রকল্পে অনিয়ম-দুর্নীতি হলে কাউকে ছাড় নয় -কৃষিমন্ত্রী
৩১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
লাগেজ চুরি, প্রবাসীদের সঙ্গে আচার-ব্যবহার নিয়ে কড়া নির্দেশনা
৩১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গণভোটের অধ্যাদেশ উঠছে না সংসদে
৩১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
‘রাজশাহী মেডিকেলে মৃত ২৯ শিশুর কারোরই হাম শনাক্ত হয়নি’
৩১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
তেলের অবৈধ মজুত ও পাচারের তথ্য দিলে পাওয়া যাবে লাখ টাকা পুরস্কার
৩১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
‘উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই, তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে’
৩১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
বাড়তে পারে সাপ্তাহিক ছুটি, ফিরতে পারে অনলাইন ক্লাস ও বাসা থেকে অফিস
৩১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












