জীবনী মুবারক
বিশিষ্ট তাবেয়ী হযরত মাসরূক ইবনুল আজদা’ রহমতুল্লাহি আলাইহি (২)
বিলাদত শরীফ: তারিখ উল্লেখ নেই। বিছাল শরীফ: ৬৩ হিজরী।
, ০৫ যিলক্বদ শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ০৫ ছানী আ’শার, ১৩৯২ শামসী সন , ০৪ মে, ২০২৫ খ্রি:, ২১ বৈশাখ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
উনার জীবনের বিভিন্ন ঘটনা:
বর্ণিত আছে যে, হযরত মাসরূক রহমতুল্লাহি আলাইহি হজ্জ করেন, অতঃপর হজ্জ থেকে বিদায় পর্যন্ত যমীনে কপাল ঠেকানো ব্যতীত বিছানায় শুয়ে আরাম করেননি অর্থাৎ তিনি সিজদায় পড়ে থাকতেন। বর্ণিত আছে যে, তিনি বলতেন, বান্দা যখন সিজদায় যায় তখন সে মহান আল্লাহ পাক উনার সর্বাধিক নিকটবর্তী হয়। তিনি যখন নামাযে দ-ায়মান হতেন তখন দুনিয়ার সবকিছু ভুলে যেতেন। তিনি তখন উনার পরিবারের লোকদেরকে বলতেন, তোমাদের কি কি প্রয়োজন আমার নামাযে দ-ায়মান হওয়ার পূর্বে এখনই আমাকে বলো। তিনি উনার ও উনার পরিবারের মাঝামাঝি একটি পর্দা টানিয়ে দিয়ে নামাযের জন্য অগ্রসর হতেন, অতঃপর দুনিয়ার সবকিছু পরিত্যাগ করতেন। (হিলইয়াতুল আওলিয়া)
হযরত মাসরূক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার আংটিতে ‘বিসমিল্লাহির রহ্মানির রহীম’ নকশা আকারে অংকিত ছিলো। (তাবাকাত)
হযরত মাসরূক রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ও উনার তিন ভাই- হযরত আবদুল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত আবু বকর রহমতুল্লাহি আলাইহি এবং হযরত আল-মুনতাসির রহমতুল্লাহি আলাইহি উনারা সকলেই কাদেসিয়ার জিহাদে অংশগ্রহণ করেছিলেন। সেই জিহাদে উনার এই তিন ভাই শাহাদাত বরণ করেন। হযরত মাসরূক রহমতুল্লাহি আলাইহি নিজেও আহত হন, উনার হাত অবশ হয়ে যায় এবং উনি মাথায় আঘাত পান। (তাবাকাত)
একবার হযরত মাসরূক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পরিবারে কোন খাদ্য ছিলো না। উনার আহলিয়া উনার নিকট উপস্থিত হয়ে বললেন, হে আবু আয়েশা! আজ সকালে আপনার পরিবারের জন্য কোন খাদ্য সামগ্রী নেই। ইহা শুনে হযরত মাসরূক রহমতুল্লাহি আলাইহি মুচকি হাসলেন এবং বললেন, মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! মহান আল্লাহ পাক তিনি তাদের জন্য রিযিকের ব্যবস্থা করবেন। (তাবাকাত)
বর্ণিত আছে যে, হযরত মাসরূক রহমতুল্লাহি আলাইহি ও উনার আহলিয়া উভয়ের একজন ফোরাত নদীতে গিয়ে পানি সংগ্রহ করতেন, উহা থেকে নিজেরা পান করতেন এবং কিছু বিক্রয় করে দান খয়রাতও করতেন। (তাবাকাত)
হযরত আনাস ইবনে সীরীন রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, একবার আমাদের নিকট এইরূপ সংবাদ আসলো যে, হযরত মাসরূক রহমতুল্লাহি আলাইহি মহামারীর ভয়ে কূফা থেকে পলায়ন করেছেন। হযরত মুহম্মদ রহমতুল্লাহি আলাইহি (একজন তাবে‘ঈ) বিষয়টি অস্বীকার করলেন। তিনি বললেন যে, আমাদের সাথে উনার আহলিয়ার নিকট চলুন, উনাকে আমরা জিজ্ঞাসা করবো। অতঃপর আমরা উনার আহলিয়ার নিকট গিয়ে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, কখনই নয়; মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! তিনি পলায়ন করেননি, বরং তিনি বলেছিলেন, এই দিনগুলিতে আমার কর্মব্যস্ততা অনেক বেড়ে গিয়েছে। সুতরাং আমি ইবাদতের উদ্দেশ্যে একাকী হওয়া পছন্দ করছি। অতঃপর তিনি ইবাদতের জন্য পৃথক হয়ে একাকীত্ব অবলম্বন করলেন। উনার আহলিয়া বলেন, কোন কোন সময় আমি উনার পিছনে বসেছি আর উনার কর্মকান্ড দেখে তখন আমার কান্না এসেছে। তিনি এমনভাবে নামায পড়ছিলেন যে, উনার পদদ্বয় ফুলে গিয়েছিলো। আমি উনাকে বলতে শুনেছি, মহামারীতে, সন্তান-সম্ভাবা অবস্থায়, হায়েজ-নেফাস অবস্থায়, পানিতে ডুবে কোন মুসলমান নর-নারী মারা গেলে তাদের শাহাদাতের মর্তবা লাভ হয়। সুতরাং তিনি কেন মহামারী থেকে পলায়ন করবেন? (তাবাকাত)
হযরত মাসরূক রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এক ব্যক্তির জন্য কোন কাজে সুপারিশ করেছিলেন। অতঃপর লোকটি উনাকে একটি বাঁদী হাদিয়া প্রদান করে। এতে তিনি খুব রাগান্বিত হন এবং বলেন, আমি যদি জানতাম যে, তোমার মনে ইহা ছিলো, আমি তোমার বিষয়ে কোন সুপারিশই করতাম না। আর এই বিষয়ে আমার সুপারিশের যা বাকী রয়েছে, আমি কখনও তা করবো না। আমি হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে বলতে শুনেছি, যদি কেউ কারো কোন হক্ব আদায়ের জন্য অথবা কাউকে কোন জুলুম থেকে রক্ষা করার জন্য সুপারিশ করে, আর এজন্য তাকে কোন হাদিয়া দেয়া হয় এবং সে উহা গ্রহণ করে, ইহা সম্পূর্ণই হারাম বস্তু গ্রহণ করা হলো। বিচারের বিনিময়ে কিছু গ্রহণ করা আরো মারাত্মক, ইহা সম্পূর্ণ কুফরী। (তাবাকাত)
বর্ণিত আছে যে, হযরত মাসরূক রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার মেয়েকে হযরত আস-সাইব ইবনুল আকরা’ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকট বিবাহ দিয়েছিলেন। তিনি শর্ত করে মেয়ের জামাতা থেকে দশ হাজার দিরহাম নিয়েছিলেন এবং এই সমস্ত টাকা মুজাহিদ ও মিসকীনদের জন্য এবং মুকাতাব গোলাম আযাদ করার জন্য ব্যয় করেন। (দ্বীন ইসলামে যৌতুক নেয়া জায়িয নেই। উনার মত এত বড় একজন আলিম ও আবিদ ব্যক্তি শরীয়তের খিলাফ কাজ করবেন, তা কল্পনা করা যায় না। বিশেষ কারণে তিনি এইরূপ করেছিলেন। তাছাড়া যেহেতু এ অর্থ সবই তিনি দান করে দিয়েছিলেন, নিজের কোন কাজে লাগাননি, ইহা যৌতুক হিসাবে গণ্য হবে না। ) হযরত মাসরূক রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি একজন কাযী ছিলেন। বিচার কার্যের বিনিময়ে তিনি কোন পারিশ্রমিক নিতেন না। (তাবাকাত) (ইনশাআল্লাহ চলবে)
-আল্লামা সাঈদ আহমদ গজনবী।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (১০)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ছবি তোলা হারাম, যা জাহান্নামী হওয়ার কারণ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত আশূরা শরীফ উনাকে যারা সম্মান করবে তাদের জন্য-
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত শরীয়ত উনার ফায়ছালা মতে কুলাঙ্গার ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহি কাট্টা কাফির ও চিরজাহান্নামী (১)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পৃথিবীকে পরিবর্তন করার চেয়ে নিজেকে পরিবর্তন করা সহজ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পর্দা রক্ষা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া ব্যভিচারের সমতুল্য
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
৩টি বিষয় কেবল তিনটি অবস্থায়ই জানা যায়।
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত মীলাদ শরীফ পাঠে অনন্য তাজদীদ মুবারক (৪)
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ইসলামী শরীয়ত মুতাবিক- ছবি তোলা হারাম
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












