পবিত্র মীলাদ শরীফ পাঠ করা ও তা’যীমার্থে ক্বিয়াম শরীফ করা সুন্নত হওয়ার অকাট্য প্রমাণ
, ০৫ মে, ২০২৫ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
সম্মানিত ক্বিয়াম শরীফ উনার প্রমাণ
(পূর্বে প্রকাশিতের পর)
বর্ণিত আলোচনা থেকে যে দিক নির্দেশনা পাওয়া যায়, সে পরিপ্রেক্ষিতে দৃঢ়তার সাথে বলতে হয় যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আলোচনা মুবারক করার সময়ে অর্থাৎ সালাম পেশ করার সময় দাঁড়িয়ে যাওয়া ওয়াজিব। যেহেতু সম্মানিত ব্যক্তিকে উনার সামনে যেমন সম্মান করা হয়, উনার আড়ালেও তেমনভাবে সম্মান করতে হয়।
যেমন ইসলামী শরীয়ত উনার বহুল পরিচিত একটি মাসয়ালাকে এ বিষয়টি সহজভাবে বুঝার জন্যে দৃষ্টান্ত হিসেবে পেশ করা যেতে পারে।
পবিত্র বাইতুল্লাহ শরীফ উনার সামনে অবস্থানকালে যেমন পবিত্র বাইতুল্লাহ শরীফ উনার দিকে সম্মুখ বা পিঠ দিয়ে ইস্তিঞ্জার জন্য বসা নিষিদ্ধ। তেমনিভাবে হাজার হাজার মাইল দূর দেশ হতেও ইস্তিঞ্জার সময় পবিত্র বাইতুল্লাহ শরীফ উনার দিকে সম্মুখ বা পিঠ দিয়ে বসা নিষিদ্ধ।
যেমন পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَنْ حَضْرَةْ اَبِـىْ اَيُّوْبَ الْاَنْصَارِىُّ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ اِنَّ النَّبِىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ اِذَا اَتَيْتُمُ الغَّائِطَ فَلَا تَسْتَقْبِلُوا الْقِبْلَةَ وَلَا تَسْتَدْبِرُوْهَا بِبَوْلٍ وَلَا غَائِطٍ وَلٰكِنْ شَرّقُوْا اَوْ غَرّبُوْا قَالَ حَضْرَةْ اَبُوْ اَيُّوْبَ الْاَنْصَارِىُّ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ فَقَدِمْنَا الشَّامَ فَوَجَدْنَا مَرَاحِيْضَ قَدْ بُنِيَتْ قِبَلَ الْقِبْلَةِ فَنَنْحَرِفُ عَنْهَا وَنَسْتَغْفِرُ اللهَ قَالَ نَعَمْ.
অর্থ : হযরত আবূ আইয়ুব আনছারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন যে, “যখন তোমরা ইস্তিঞ্জাখানায় যাবে, তখন ক্বিবলার দিকে তোমাদের সম্মুখ বা পিঠ করবেনা। ” হযরত আবূ আইয়ুব আনছারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, আমরা যখন শাম দেশে গেলাম, তখন দেখি সেখানে ইস্তিঞ্জাখানাগুলো ক্বিবলামুখী করে তৈরি করা হয়েছে। আমরা ঘুরে বসে কাজ সমাধা করতাম এবং মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করতাম। হযরত ছুফিয়ান ইবনে উয়ায়নাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, হ্যাঁ। (মুসলিম শরীফ, বুখারী শরীফ, তিরমিযী শরীফ)
পবিত্র বাইতুল্লাহ শরীফ হল শিয়ারুল্লাহ; যা মুসলমানদের ক্বিবলা। এ জন্যে এ ঘর মুবারক উনাকে সম্মান করতে হয়। এ ঘর উনার উপস্থিতিতে যেভাবে সম্মুখ ভাগ বা পিঠ দিয়ে বসে ইস্তিঞ্জা করা যায় না। ঠিক একইভাবে সামনে না হলেও মহান আল্লাহ পাক উনার ঘর ক্বিবলা উনাকে সম্মান করতে হয়। হাজার হাজার মাইল দূরেও সম্মুখ বা পিঠ দিয়ে বসে ইস্তিঞ্জা করা জায়িয নেই। এই মাসয়ালার ভিত্তিতে বলা যায় যে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যদি কোন মুসলমানের সামনে স্বশরীর মুবারক-এ এসে হাজির হন অর্থাৎ কোন মুসলমান যদি উনাকে দেখে তখন এমন কোন মুসলমান কি আছে, যে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সামনে দেখেও সে তার নিজের আসনে বসে থাকবে, দাঁড়িয়ে তা’যীম বা সম্মান প্রদর্শন করবে না? অবশ্যই করবে। যদি তখন দাঁড়িয়ে যাওয়া আদব হয় ও জায়িয হয় বরং শরীয়ত অনুযায়ী তখন দাঁড়ানো ফরযের অন্তর্ভুক্ত। তবে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সরাসরি না দেখে কেন দাঁড়িয়ে উনাকে তা’যীম বা সম্মান প্রদর্শন করা জায়িয হবে না? বরং দাঁড়িয়ে যাওয়া ফরয-ওয়াজিব। তাই পবিত্র মীলাদ শরীফ-এ উনার বিলাদত শরীফ উনার কথা শুনে দাঁড়িয়ে যাওয়া নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি তা’যীম বা সম্মান প্রদর্শনেরই অন্তর্ভুক্ত।
এ প্রসঙ্গে মাওলানা আশরাফ আলী থানবীর খলীফা মাওলানা শামছুল হক্ব ফরীদপুরী তার ‘তাছাওউফ তত্ত্ব’ নামক কিতাবে ৪১ নম্বর পৃষ্ঠায় লিখেছে,
“হযরত মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সালাম দেয়ার সময় বসে বসে সালাম দেয়া শরীফ তবীয়তের লোকের কাছে বড়ই বেয়াদবী লাগে। সেজন্য রওযা শরীফ উনার সামনে নিজেকে হাজির ধ্যান করে খাড়া হয়ে সালাম দেয়াতে কোনই দোষ হতে পারেনা। যেমন পবিত্র মদীনা শরীফ উনার মধ্যে রওযা শরীফ উনার সামনে সালাম দেয়ার সময় সকলেই দাঁড়াইয়া সালাম দিয়ে থাকেন। ”
মাওলানা শামসুল হক ফরীদপুরীর উক্ত বক্তব্য দ্বারাও প্রমাণিত হলো যে, পবিত্র মীলাদ শরীফ উনার মধ্যে যে ক্বিয়াম শরীফ করা হয়, তা মুহব্বত, আদব, শরাফত ও তা’যীমার্থে করা হয়। এখানে মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে দেখা ও না দেখার সাথে কোন সম্পর্ক নেই।
তাছাড়া ক্বিয়াম শরীফ বিরোধীরা কি এরূপ একখানা দলীল পেশ করতে পারবে? যেখানে উল্লেখ আছে যে, মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সালাম দেয়ার সময় দাঁড়িয়ে সালাম দেয়া নিষেধ বা নাজায়িয। মূলত একখানা দলীলও তারা পেশ করতে পারবেনা। যদি তাই হয়ে থাকে তবে ক্বিয়াম শরীফ করাকে বা দাঁড়িয়ে সালাম দেয়াকে কি করে নাজায়িয ও বিদয়াত বলা যেতে পারে? বস্তুত পবিত্র মীলাদ শরীফ উনার মধ্যে ক্বিয়াম শরীফ করা হচ্ছে, খাছ সুন্নত ও আদবের অন্তর্ভুক্ত। আর আদব রক্ষা করা ফরযের অন্তর্ভূক্ত। কাজেই এই আমল উনাকে বিদয়াত ও নাজায়িয বলা সুস্পষ্ট কুফরী।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (১০)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ছবি তোলা হারাম, যা জাহান্নামী হওয়ার কারণ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত আশূরা শরীফ উনাকে যারা সম্মান করবে তাদের জন্য-
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত শরীয়ত উনার ফায়ছালা মতে কুলাঙ্গার ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহি কাট্টা কাফির ও চিরজাহান্নামী (১)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পৃথিবীকে পরিবর্তন করার চেয়ে নিজেকে পরিবর্তন করা সহজ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পর্দা রক্ষা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া ব্যভিচারের সমতুল্য
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
৩টি বিষয় কেবল তিনটি অবস্থায়ই জানা যায়।
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত মীলাদ শরীফ পাঠে অনন্য তাজদীদ মুবারক (৪)
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ইসলামী শরীয়ত মুতাবিক- ছবি তোলা হারাম
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












