পবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠের বিস্ময়কর বাস্তব ঘটনাসমূহ
, ২৪ রবীউল আউওয়াল শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ০৯ রবি, ১৩৯৪ শামসী সন , ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রি:, ২৩ ভাদ্র, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
(১ম পর্ব)
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের মাঝে পবিত্র দুরূদ শরীফ উনার যেমন অসংখ্য ফযীলত মুবারক বর্ণনা করা হয়েছে। ঠিক বাস্তবেও পবিত্র দুরূদ শরীফ উনার বিস্ময়কর অনেক ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। নিম্নে সেখান থেকে কতিপয় ঘটনা বর্ণনা করা হলো-
১. বিকৃত চেহারাকে জোৎস্নার চাঁদের মতো উজ্জ্বল করে দিলেন:
কিতাবে বর্ণিত রয়েছে-
حكى الشيخ أبو حفص عمر بن الحسن السمرقندي رحمة الله عليه فيما روي عن بعض استاذيه عن أبيه قال سمعت رجلاً في الحرم وهو كثير الصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم حيث كان من الحرم والبيت وعرفة ومنى فقلت أيها الرجل إن لكل مقام مقالاً فما بالك لا تشتغل بالدعاء ولا بالتطوع بالصلاة سوى إنك تصلي على النبي صلى الله عليه وسلم فقال خرجت من خراسان حاجاً إلى هذا البيت وكان والدي معي فلما بلغنا الكوفة أعتل والدي وقويت به العلة فمات غطيت وجهه بازار ثم غبت عنه وجئت إليه فكشفت وجهه لأراه فإذا صورته كصورة الحمار فحين رأيت ذلك عظم عندي وتشوشت بسبه وحزنت حزناً شديداً وقلت لنفيي كيف أظهر للناس بهذا الحال الذي صار والدي فيه وقعدت عنده مهموماً فأخذتني سنة من النوم فنمت فبينما أنا نائم إذ رأيت في منامي كأن رجلاً دخل علينا وجاء إلى عند والدي وكشف عن وجهه فنظر إليه وغطاه ثم قال لي ما هذا الغم العظيم الذي أنت فيه فقلت وكيف لا أغتم وقد صار ووالدي بهذه المحنة فقال أبشر أن الله عز وجل قد أزل عن والدك هذه المحنة قال ثم كشفت الغطاء عن وجهه فإذا هو كالقمر الطالع فقلت للرجل بالله من أنت فقد كان قدومك مباركاً فقال انا المصطفى فلما قال ذلك فرحت فرحاً عظيماً وأخذت بطرف ردائه فلففته على يدي وقلت بحق الله يا سيدي يا رسول الله ألا أخبرتني بالقصة فقل أن والك آكل الربا وإن من حكم الله عز وجل إن من أكل الربا يحول اله صورته عند الموت كصورة حمار أما في الآخرة ولكن كان من عادة والدك أن يصلي علي في ليلة قبل أن يضطجع على فراشه مائة مرة فلما عرضت له هذه المحنة من أكل الربا جاءني الملك الذي يعرض علي أعمال أمتي فأخبرني بحالة والدك فيألت الله فشفعني فيع قال فاستيقظت فكشفت عن وجه والدي فإذا هو كالقمر ليله بدره فحمدت الله وشكرته وجهزته وجفنته وجلست عند قبره ساعة فبينما أنا بين النائم واليقظان إذا أنا بهاتف يقول لي أتعرف بهذه العناية التي حقت والدك ما كان سببها قلت لا قال كان سببها الصلاة والسلام على رسول الله صلى الله عليه وسلم فآليت على نفيي أنني لا أترك الصلاة والسلام على رسول الله صلى الله عليه وسلم على أي حال كنت وفي أي مكان كنت
অর্থ: হযরত শায়খ আবূ হাফছ উমর ইবনে হাসান সমরকন্দী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার এক উস্তাদের থেকে বর্ণনা করেছেন। আর উনার উস্তাদ স্বীয় পিতা থেকে বর্ণনা করেন। উনার পিতা বলেন, আমি এক ব্যক্তিকে পবিত্র হারাম শরীফে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অধিক পরিমাণে পবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠ করতে শুনলাম। যেখানে পবিত্র হারাম শরীফ, পবিত্র বাইতুল্লাহ শরীফ, পবিত্র আরাফাহ ময়দান ও পবিত্র মিনাও অন্তর্ভুক্ত ছিলো।
আমি বললাম, হে ব্যক্তি! প্রত্যেক স্থানের জন্য নির্দিষ্ট কথা অর্থাৎ দোয়া রয়েছে; কিন্তু তোমার কী হয়েছে যে, তুমি না দোয়া পড়ছো আর না কোনো নফল নামায পড়ছো, শুধুই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি পবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠ করে যাচ্ছো?
তখন লোকটি বললো, শুনুন! আমি একবার খোরাসান থেকে এই পবিত্র ঘর অর্থাৎ বাইতুল্লাহ শরীফ উনার উদ্দেশ্যে পবিত্র হজ্জ করার জন্য রওনা হয়েছিলাম। আমার সাথে আমার পিতাও ছিলেন। আমরা যখন কূফায় পৌঁছলাম, তখন আমার পিতা অসুস্থ হয়ে পড়লেন এবং উনার অসুখ আরও বেড়ে গেলে তিনি মারা গেলেন। আমি একটি কাপড় দিয়ে উনার মুখ ঢেকে দিলাম। তারপর কিছুক্ষণের জন্য উনার থেকে সরে গেলাম। একটু পরে ফিরে এসে উনার মুখ খুলে দেখতে গেলাম, কিন্তু দেখি উনার চেহারা গাধার মতো হয়ে গেছে।
যখন আমি এ দৃশ্য দেখলাম, বিষয়টি আমার কাছে খুবই গুরুতর মনে হলো। এতে আমি অনেকটাই বিভ্রান্ত হলাম এবং গভীরভাবে চিন্তাগ্রস্ত হলাম। তখন আমি মনে মনে বলতে লাগলাম, আমার পিতার এমন অবস্থা হয়েছে এটা আমি কীভাবে লোকদের নিকট প্রকাশ করবো? এরপর আমি অত্যন্ত বিষন্ন অবস্থায় আমার পিতার নিকট বসে পড়লাম। হঠাৎ আমার তন্দ্রা চলে আসলে আমি ঘুমিয়ে পড়লাম।
আমি যখন ঘুমাচ্ছিলাম, স্বপ্নে দেখলাম একজন মহান ব্যক্তি আমাদের নিকট আসলেন। এরপর আমার পিতার কাছে গিয়ে উনার মুখ থেকে কাপড় সরিয়ে তাকালেন, তারপর আবার ঢেকে দিলেন। অতঃপর তিনি আমাকে বললেন, ‘তুমি কেন এমন গভীর দুঃখে আছো?’ আমি বললাম, ‘আমি কেন ব্যথিত হবো না, যখন আমার পিতা এমন কঠিন বিপদে পতিত হয়েছেন?’ তখন তিনি বললেন, ‘তুমি সুসংবাদ নাও! মহান আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তোমার পিতার এই বিপদ ও কষ্ট দূর করে দিয়েছেন।’ সুবহানাল্লাহ!
-হাফিয মুহম্মদ ইমামুল হুদা।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ফাদ্বায়িলে উম্মাহাতিল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম (৪)
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পর্দা সর্বপ্রকার বিপদ-আপদ থেকে হিফাজত হওয়ার মাধ্যম
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
দ্বীন ইসলাম উনার জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর ৩ শ্রেণী
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
শরীয়তের দৃষ্টিতে কোন রোগই ছোঁয়াচে নয়,
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্রতা সম্পর্কিত মাসয়ালা-মাসায়িল (১২)
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা কবীরা গুনাহ ও অসন্তুষ্টির কারণ
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
বিধর্মী-অমুসলিমরা কখনো মুসলমানদের ভাই/বন্ধু নয়, বরং তারা মুসলমানদের চির শত্রু (৪র্থ পর্ব)
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মূর্তি, প্রতিমা, ভাস্কর্য, ম্যানিকিন ও ছবি নাজায়িয ও হারাম
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (২৪)
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বেপর্দা হওয়া লা’নত ও হালাকীর কারণ
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












