পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের আলোকে- তাওবাতুন নাছূহা (২)
, ২৭ রজবুল হারাম শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৯ ছামিন, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ০৩ মাঘ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
(পূর্ব প্রকাশিতের পর)
বান্দা যদি যমীন থেকে আসমান পরিমাণ গুনাহ করে তারপর মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে ক্ষমা করে দেন। এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ تَـعَالٰى عَنْهُ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ اللهُ تَـعَالَى يَا ابْنَ آدَمَ إِنَّكَ مَا دَعَوْتَنِي وَرَجَوْتَنِي غَفَرْتُ لَكَ عَلَى مَا كَانَ فِيْكَ وَلَا أَبَالِي يَا ابْنَ آدَمَ لَوْ بَلَغَ ذُنُوبُكَ عَنَامَ السَّمَاءِ ثُمَّ اسْتَـغْفَرْتَنِي غَفَرْتُ لَكَ وَلَا أُبَالِي يَا ابْنَ آدَمَ إِنَّكَ لَوْ لَقِيتَنِي بِقُرَابِ الْأَرْضِ خَطَايَا ثُمَّ لَقِيتَنِي لَا تُشْرِكْ بِي شَيْـئًا لَآتَـيْـتُكَ بِقُرَاهَا مَغْفِرَةً
অর্থ: “হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন, “হে আদম সন্তান! তুমি যদি দোয়া করো এবং আশা করো আমি তোমাকে ক্ষমা করবো তাহলে আমি কাউকে পরওয়া করি না। তোমার গুনাহ যদি আকাশ পরিমাণ হয় তারপরেও যদি তুমি ক্ষমা চাও আমি তোমাকে ক্ষমা করবো। আমি কাউকে পরওয়া করি না। আর যদি তুমি যমীন পরিপূর্ণ গুনাহ নিয়ে আমার সাথে অন্য কাউকে শরীক না করে সাক্ষাৎ করতে আসো, আমি যমীন পরিপূর্ণ ক্ষমা নিয়ে তোমার কাছে উপস্থিত হবো।” সুবহানাল্লাহ! (তাফসীরে খাযীন: ৪/৬২, তাফসীরে বাগবী: ২/১০৮, তিরমিযী শরীফ: ৫/৫৪৮, দারেমী শরীফ: ৩/১৮৩৫, হিলয়াতুল আউলিয়া: ৪/৩০১ মু’জামুছ ছগীর লিত ত্ববারানী: ২/৮২, মিশকাত শরীফ: ৮/৭৮)
এই পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার দ্বারা এটাই বুঝা যায়, কেউ যদি শিরকের গুনাহ ব্যতীত যমীন পরিপূর্ণ গুনাহ নিয়ে মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট হাজির হয় তাহলে মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে ক্ষমা করে দিবেন। কিন্তু মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
قُلْ يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلى أَنفُسِهِمْ لَا تَـقْنَطُوا مِن رَّحْمَةِ اللهِ ۚ إِنَّ اللهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا ۚ إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ
অর্থ: “(হে আমার মহাসম্মানিত হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) আপনি বলে দিন, হে আমার বান্দারা! যারা নফসের বা নিজেদের প্রতি যুলুম করেছে, তারা যেন মহান আল্লাহ পাক উনার রহমত মুবারক থেকে নিরাশ না হয়। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি সমস্ত গুনাহ-খতা ক্ষমা করেন, নিশ্চয়ই তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” সুবহানাল্লাহ! (পবিত্র সূরা যুমার শরীফ: ৫৩)
আর উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যায় পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ ثَوْبَانَ رَضِيَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَا أُحِبُّ أَنَّ لِيَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا بِهَذِهِ الْآيَةِ: يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَى أَنْفُسِهِمْ لَا تَقْنَتُوا مِنْ رَّحْمَةِ اللهِ إِنَّ اللهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا فَقَالَ رَجُلٌ: يَا رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَمَنْ أَشْرَكَ؟ فَسَكَتَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ قَالَ: أَلَا وَمَنْ أَشْرَكَ. ثَلَاثَ مَرَّاتٍ
অর্থ: “হযরত ছাওবান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বলতে শুনেছি। তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, এই পবিত্র আয়াত শরীফ উনার পরিবর্তে যদি সমস্ত দুনিয়া আমার হয়ে যায় বা আমাকে দেয়া হয় আমি তা পছন্দ করি না। (আয়াত শরীফটি হলো) “হে আমার বান্দারা! যারা নফসের বা নিজেদের প্রতি যুলুম করেছে, তারা যেন মহান আল্লাহ পাক উনার রহমত মুবারক থেকে নিরাশ না হয়। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি সমস্ত গুনাহ-খতা ক্ষমা করেন, নিশ্চয়ই তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” এক ব্যক্তি বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! যদি সে শিরক করে? তিনি কিছুক্ষণ চুপ থাকলেন। তারপর বললেন, সাবধান! যদিও সে শিরক করে আর শিরক করার পর তওবা করে তাহলে মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে ক্ষমা করে দিবেন। তিনি এ কথা মুবারক তিনবার বললেন।” সুবহানাল্লাহ! (তাফসীরে ইবনে কাছীর: ৭/১০৬, তাফসীরে ত্ববারী: ২০/২২৯, দুররুল মানছূর: ১২/৬৭৫, রুহুল মা‘আনী: ১২/২৭১, মুসনাদে আহমদ: ৫/২৭৫, শুয়াবুল ঈমান: ৯/৩৪০)
এই পবিত্র আয়াত শরীফ উনার দ্বারা বুঝানো হয়েছে, মহান আল্লাহ পাক উনার রহমত থেকে কেউ যাতে নিরাশ না হয়। বান্দা যতই ভুল করুক যদি সে মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট ক্ষমা চায় মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে অবশ্যই ক্ষমা করবেন। (অসমাপ্ত)
-মুহম্মদ মুস্তাজীবুর রহমান ওয়াক্বী।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সম্মানিত মীলাদ শরীফ পাঠে অনন্য তাজদীদ মুবারক (৪)
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ইসলামী শরীয়ত মুতাবিক- ছবি তোলা হারাম
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মুসলমানদের জন্য সমস্ত খেলাধুলা হারাম
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
২২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া কবীরা গুনাহ
২২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মূর্তি, প্রতিমা, ভাস্কর্য, ম্যানিকিন ও ছবি নাজায়িয ও হারাম
২২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (৮)
২২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
যেখানে প্রাণীর ছবি থাকে, সেখানে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করেন না
২১ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২১ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মহান আল্লাহ পাক ইরশাদ মুবারক করেন
২১ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












