পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের আলোকে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের মর্যাদা-মর্তবা ও ফযীলত মুবারক প্রসঙ্গে (৩৪)
, ১৯ই রজবুল হারাম শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ২৩ ছামিন, ১৩৯২ শামসী সন , ২০ জানুয়ারী, ২০২৫ খ্রি:, ০৬ মাঘ, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “মহান আল্লাহ পাক তিনি মু’মিনগণের উপর (অর্থাৎ হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের উপর) সন্তুষ্ট হলেন, যখন উনারা গাছের নিচে আপনার নিকট বাইয়াত গ্রহণ করলেন। উনাদের অন্তরে যা ছিল তা তিনি অবগত ছিলেন। অতঃপর উনাদেরকে (অর্থাৎ হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে) দান করলেন প্রশান্তি এবং পুরষ্কার; দিলেন আসন্ন বিজয় আর বিপুল পরিমাণ গনীমতের সম্পদ, যা উনারা হস্তগত করবেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি পরাক্রমশীল, প্রজ্ঞাময়। ” (পবিত্র সূরা ফাতাহ্ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১৮-১৯)
উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফের ব্যাখ্যায় “তাফসীরে মাযহারীতে” উল্লেখ আছে যে, উক্ত আয়াত শরীফের মর্মার্থ হচ্ছে, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি মু’মিনগণের উপরে অর্থাৎ হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের উপরে সন্তুষ্ট হলেন, যখন হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা হুদায়বিয়ার এই গাছের নিচে আপনার নিকট কাফিরের বিরুদ্ধে জিহাদ করার জন্য বাইয়াত গ্রহণ করলেন। আর হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের অন্তরে যে মহান আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের এবং দ্বীন ইসলামের জন্য বিশুদ্ধ মুহব্বত ছিলো তা তো মহান আল্লাহ পাক তিনি ভাল করেই জানেন। তাই হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে পুরষ্কার দিলেন খায়বরের আসন্ন বিজয় ও বিপুল পরিমাণ গনীমতের মাল-সম্পদ। যা হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের হস্তগত হবেই। আর এটাই হচ্ছে মহাপরাক্রমশীল ও মহাপ্রজ্ঞাময় রব তায়ালা উনার নির্ধারণ। সুবহানাল্লাহ!
উক্ত আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যায় “তাফসীরে মাযহারীতে” আরো উল্লেখ আছে যে, আলোচ্য আয়াত শরীফ নাযিল হওয়ার কারণেই হুদায়বিয়ার বাইয়াতকে বলা হয় বাইয়াতে রিদ্বওয়ান বা সন্তুষ্টির শপথ। আর এই আয়াত শরীফ নাযিল হয়েছে, বাইয়াত গ্রহণকারী হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের প্রশংসা বর্ণনার্থে।
বুখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফে উল্লেখ আছে, হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বর্ণনা করেন, হুদায়বিয়ায় আমরা বাইয়াত গ্রহণ করেছিলাম চৌদ্দশত জন ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম। তখন মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাদেরকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, “হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম! (নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের পরে) পৃথিবীতে একমাত্র আপনারাই সর্বোত্তম। ” সুবহানাল্লাহ! (চলবে)
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (১০)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ছবি তোলা হারাম, যা জাহান্নামী হওয়ার কারণ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত আশূরা শরীফ উনাকে যারা সম্মান করবে তাদের জন্য-
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত শরীয়ত উনার ফায়ছালা মতে কুলাঙ্গার ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহি কাট্টা কাফির ও চিরজাহান্নামী (১)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পৃথিবীকে পরিবর্তন করার চেয়ে নিজেকে পরিবর্তন করা সহজ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পর্দা রক্ষা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া ব্যভিচারের সমতুল্য
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
৩টি বিষয় কেবল তিনটি অবস্থায়ই জানা যায়।
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত মীলাদ শরীফ পাঠে অনন্য তাজদীদ মুবারক (৪)
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ইসলামী শরীয়ত মুতাবিক- ছবি তোলা হারাম
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












