পবিত্র ই’জায শরীফ
, ১২ রজবুল হারাম শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০৪ ছামিন, ১৩৯৩ শামসী সন , ০২ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ১৮ পৌষ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
সফরে কোন উৎস ব্যতিত পানি লাভ
বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত ইমরান ইবনে হুসাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, একবার আমরা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সফর মুবারকে ছিলাম। চলতে চলতে পানি ফুরিয়ে সঙ্কট দেখা দিলো। লোকজন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট এসে আরজু করতে লাগলেন। পানির সঙ্কটের কথা শুনে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনাকে ডাকলেন। সাথে আরেকজন ছাহাবী উনাকেও ডেকে বললেন, ‘দেখুন তো কোথাও পানির সন্ধান পাওয়া যায় কি-না!’
উনারা বের হলেন পানির সন্ধানে। কিছুদূর যাওয়ার পর পথে সাক্ষাৎ হলো একজন মহিলা ছাহাবী উনার সাথে। উটের উপর পানির পাত্র বোঝাই করে নিয়ে যাচ্ছেন। হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি উক্ত মহিলা ছাহাবী উনাকে জিজ্ঞেস করলেন, পানি এখান থেকে কতদূর হবে? তখন তিনি বললেন, বেশ দূর! গতকাল এই সময় আমি পানির ধারে ছিলাম আর আজ এখানে! হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি ভাবলেন এতদূর যাওয়া সম্ভব নয়। অবশেষে উক্ত মহিলা ছাহাবী উনাকে সাথে করে উনারা হাজির হলেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকটে।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সবই জানেন, কিন্তু উনাদের থেকেও সব শুনলেন। তারপর বললেন, আচ্ছা আমাকে একটি পাত্র দিন! পাত্র আনা হলো। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উক্ত মহিলা ছাহাবী উনার পাত্র থেকে কিছু পানি নিলেন সেই পাত্রে। অতঃপর এক হাতের তালু পরিমাণ পানি তুলে কুলি মুবারক করে আবার সেই পাত্রে রেখে দিয়ে বললেন, এই পানিটুকু উক্ত মহিলা ছাহাবী উনার পাত্রে ঢেলে দিন। এবং পাত্রের নিচের দিকের বাঁধনটি খুলে দিন।
পাত্রের মুখ খুলে দেয়া হলো। শুরু হলো পানির নহর। এ সংবাদ সারা কাফেলায় ছড়িয়ে পড়লো। সকলে ছুটে এলেন। কেউ পানি পান করলেন, কেউ বোঝাই করে নিলেন। মহিলা ছাহাবী অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন অলৌকিক-বহমান ঝরনাধারার প্রতি। অনুভূতির অপার্থিব আনন্দ-সুষমায় ভরে উঠছিলো ক্রমে।
বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত ইমরান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! সকলে নিজ নিজ প্রয়োজন মত পানি তুলে নেয়ার পর লক্ষ্য করলাম, পাত্রটি এখন আগের চাইতে অধিক ভরপুর। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আদেশ মুবারক করলেন, উক্ত মহিলা ছাহাবী উনাকে কিছু সংগ্রহ করে দিন। আমরা সওদা সংগ্রহে নেমে পড়লাম। প্রচুর পরিমাণে খেজুর, আটা আর ছাতু সংগ্রহ করে দিলাম।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সেই মহিলা ছাহাবী উনাকে বললেন, আপনি নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছেন, আমরা আপনার পাত্র থেকে পানি নেইনি। মহান আল্লাহ পাক তিনিই আমাদের পানি দিয়েছেন। তিনিই আমাদের পরিতৃপ্ত করেছেন।
এদিকে সেই মহিলা ছাহাবী উনার ঘরে ফিরতে বেশ দেরি হলো। বাড়ির সকলেই অস্থির। তিনি ঘরে পৌঁছতেই সকলে ছুটে এলো। জিজ্ঞেস করতে লাগলো, পথে কোনো বিপদ হয়নি তো! মহিলা ছাহাবী তিনি গভীর আশ্চর্যের সঙ্গে বললেন; সে এক বিরাট ঘটনা! অতঃপর সম্পূর্ণ ঘটনা বর্ণনার পর মহিলা ছাহাবী বললেন, মহান আল্লাহ পাক উনার এই বিশাল পৃথিবীতে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার চেয়ে বড় দ্বিতীয়জন নেই। নিশ্চয়ই তিনি সত্য ও মনোনীত মহান রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।
বর্ণনাকারী হযরত ইমরান ইবনে হুসাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, আমরা সে এলাকায় জিহাদ করেছি। কিন্তু এই মহিলা ছাহাবী যে স্থানে থাকতেন সেখানে আমরা হামলা করতাম না। অবশেষে একদিন এই মহিলা ছাহাবী উনার সম্প্রদায়ের লোকজনকে ডেকে বললেন, দেখো! আমার মনে হয় মুসলমানগণ উনারা ইচ্ছাকৃতভাবেই আপনাদের খাতির করছেন। এখন আপনাদের মুসলমান হয়ে যাওয়া উচিত। সেই সম্প্রদায়ের সকলেই উনার কথায় সম্মতি প্রকাশ করলেন এবং ঈমান আনতে উপস্থিত হলেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দরবার শরীফে। এবং ঈমান গ্রহণ করে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের অন্তর্ভুক্ত হলেন।
-খুবাইব আহমদ সাফওয়ান।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সুলতান আব্দুল হামিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ইলদিজ প্রাসাদে ইফতার আয়োজনের স্মৃতিকথা
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যাকাত সম্পর্কিত আহকাম, মাসায়িল ও ফাযায়িল (১৬)
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ছবি তোলা হারাম, যা জাহান্নামী হওয়ার কারণ
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম ও সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম উনাদের অনবদ্য তাজদীদ মুবারক-
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মুসলমানদের হাঁচি সম্পর্কে জানা প্রয়োজন
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পর্দা সর্বপ্রকার বিপদ-আপদ থেকে হিফাজত হওয়ার মাধ্যম
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (১৬)
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরামগণ উনাদের প্রতি মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারক পবিত্র কুরআন শরীফ দ্বারা প্রমাণিত
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












