নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মানহানিকারীর একমাত্র শরঈ শাস্তি হচ্ছে ‘মৃত্যুদন্ড’ (১২)
, ১৮রজবুল হারাম শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১০ছামিন, ১৩৯৩ শামসী সন , ০৮ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ২৪ পৌষ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ
যিনি খ্বালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন-
مَلْعُوْنِيْنَ اَيْنَمَا ثُقِفُوْاۤ اُخِذُوْا وَقُتِّلُوْا تَقْتِيْلًا
অর্থ: “(এরা হচ্ছে লা’নতগ্রস্ত) লা’নতগ্রস্ত অবস্থায় তাদেরকে যেখানেই পাওয়া যাবে, সেখানেই পাকড়াও করা হবে এবং অবশ্যই তাদেরকে অত্যন্ত কঠিনভাবে শরঈ শাস্তি মৃত্যুদন্ড দেয়া হবে।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৬১)
এ প্রসঙ্গে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছেন,
عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ اَنَّ اَعْمٰى كَانَتْ لَهٗ اُمُّ وَلَدٍ تَشْتُمُ النَّبِىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَتَقَعُ فِيْهِ فَيَنْهَاهَا فَلَا تَنْتَهِىْ وَيَزْجُرُهَا فَلَا تَنْزَجِرُ قَالَ فَلَمَّا كَانَتْ ذَاتَ لَيْلَةٍ جَعَلَتْ تَقَعُ فِى النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَتَشْتُمُهٗ فَاَخَذَ الْمِغْوَلَ فَوَضَعَهٗ فِىْ بَطْنِهَا وَاتَّكَاَ عَلَيْهَا فَقَتَلَهَا فَوَقَعَ بَيْنَ رِجْلَيْهَا طِفْلٌ فَلَطَّخَتْ مَا هُنَاكَ بِالدَّمِ فَلَمَّا اَصْبَحَ ذُكِرَ ذٰلِكَ لِرَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَجَمَعَ النَّاسَ فَقَالَ اَنْشُدُ اللهَ رَجُلًا فَعَلَ مَا فَعَلَ لِىْ عَلَيْهِ حَقٌّ اِلَّا قَامَ فَقَامَ الْاَعْمٰى يَتَخَطَّى النَّاسَ وَهُوَ يَتَزَلْزَلُ حَتّٰى قَعَدَ بَيْنَ يَدَىِ النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ يَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَنَا صَاحِبُهَا كَانَتْ تَشْتُمُكَ وَتَقَعُ فِيْكَ فَاَنْهَاهَا فَلَا تَنْتَهِىْ وَاَزْجُرُهَا فَلَا تَنْزَجِرُ وَلِىْ مِنْهَا اِبْنَانِ مِثْلُ اللُّؤْلُؤَتَيْنِ وَكَانَتْ بِىْ رَفِيْقَةً فَلَمَّا كَانَ الْبَارِحَةَ جَعَلَتْ تَشْتُمُكَ وَتَقَعُ فِيْكَ فَاَخَذْتُ الْمِغْوَلَ فَوَضَعْتُهٗ فِىْ بَطْنِهَا وَاتَّكَاْتُ عَلَيْهَا حَتّٰى قَتَلْتُهَا فَقَالَ النَّبِىُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَلَا اِشْهَدُوْا اَنَّ دَمَهَا هَدَرٌ
অর্থ: “হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। (তিনি বলেন,) নিশ্চয়ই একজন দৃষ্টিহীন হযরত ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার একটি ‘উম্মু ওয়ালাদ’ ক্রীতদাসী ছিলো। ঐ ক্রীতদাসীটি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে গালি দিতো এবং উনার সম্পর্কে মন্দ কথা বলতো। ঐ হযরত ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি তাকে নিষেধ করা সত্ত্বেও সে বিরত হতো না। তিনি তাকে ধমক দিতেন, গম্ভীরভাবে সতর্ক করতেন; কিন্তু তাতেও সে বিরত হতো না। এক রাতে সে যখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে গালি দিতে শুরু করলো এবং উনার সম্পর্কে মন্দ কথা বলতে লাগলো, তখন ঐ হযরত ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি একটি ধারালো ছুরি নিয়ে তার পেটে ঢুকিয়ে তাতে চাপ দিয়ে তাকে শরঈ শাস্তি মৃত্যুদন্ড দিলেন। তার দু’ পায়ের মাঝখানে একটি শিশু পতিত হয়ে রক্তে রঞ্জিত হলো। ভোরবেলা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ঘটনাটি অবহিত হয়ে লোকজনকে সমবেত করে ইরশাদ মুবারক করেন, আমি মহান আল্লাহ পাক উনার ক্বসম করে বলছি- যে ব্যক্তি এই কাজ করেছেন, তিনি যদি না দাঁড়ান তাহলে উনার উপর আমার অধিকার রয়েছে। এই কথা মুবারক শুনে ঐ হযরত ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি মানুষের ভিড় ঠেলে কাঁপতে কাঁপতে সামনে অগ্রসর হয়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সামনে এসে বসে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি সেই নিহত দাসীর মনিব। সে আপনাকে গালাগালি করতো এবং আপনার সম্পর্কে অপমানজনক কথা বলতো। আমি নিষেধ করতাম; কিন্তু সে বিরত হতো না। আমি তাকে ধমক দিতাম; কিন্তু সে তাতেও বিরত হতো না। তার গর্ভজাত মুক্তার মতো আমার দুইজন ছেলে রয়েছেন, আর সে আমার খুব প্রিয় ছিলো। গত রাতে সে আপনাকে গালাগালি শুরু করে এবং আপনার সম্পর্কে অপমানজনক কথা বলে। আমি তখন একটি ধারালো ছুরি নিয়ে তার পেটে স্থাপন করে তাতে চাপ দিয়ে তাকে শরঈ শাস্তি মৃত্যুদন্ড দিয়েছি। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
اَلَا اِشْهَدُوْا اَنَّ دَمَهَا هَدَرٌ
‘সাবধান! আপনারা সাক্ষী থাকুন, নিশ্চয়ই ঐ দাসীর রক্তের কোনো বিনিময় নেই। অর্থাৎ ঐ দাসীর শরঈ শাস্তি মৃত্যুদন্ড, সেটাই তাকে এই ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি দিয়েছেন। কাজেই, এজন্য এই ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনাকে কোনো রক্তপণ দিতে হবে না। তিনি যা করেছেন সঠিকই করেছেন। এজন্য উনাকে কোনো রকম দোষারোপ করা তো যাবেই না; বরং উক্ত আমলের জন্য উনার প্রশংসা করতে হবে।” সুবহানাল্লাহ! (আবূ দাঊদ শরীফ, নাসায়ী শরীফ, দারাকুত্বনী ৪/১১৭, আল মু’জামুল কাবীর ১০/৪৫, আল আহাদীছুল মুখতারাহ্ লিল মাক্বদিসী ১২/১৫৭, মা‘আলিমুস সুনান ৩/২৯৫, সুবুলুস সালাম ৩/২৬৬, নাইলুল আওত্বার ৭/২২৩, আল বাদরুত তামাম ৮/৫১৩, আহকামু আহলিয যিম্মাহ্ ৩/১৪০২, ইমতাউল আসমা’ ১৪/৩৭১-৩৭২, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ৯/২১২, তাফসীরে কুরতুবী ৮/৮৩-৮৪, যখীরতুল উক্ববা ৩২/২০ ইত্যাদি)
আবূ দাঊদ শরীফ উনার ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘বাযলুল মাজহূদে’ বলা হয়েছে,
اَلَا اِشْهَدُوْا اَنَّ دَمَهَا هَدَرٌ اَىْ سَاقِطٌ
অর্থ: “সাবধান! আপনারা সাক্ষী থাকুন, নিশ্চয়ই ঐ দাসীর রক্তের কোনো বিনিময় নেই। অর্থাৎ তার রক্তের কোনো প্রতিশোধ বা ক্বিছাছ নেই; এটা হালাল গণ্য হয়েছে।” (বাযলূল মাজহূদ ১২/৪২৬)
-মুহাদ্দিছ মুহম্মদ আল আমীন।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
(সৃষ্টির ইতিহাসে এই প্রথম সাইয়্যিদুনা সুলত্বানুন নাছীর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত নূরুস সালাম মুবারক-এ পবিত্র কুদরত মুবারক উনার হাক্বীক্বত মুবারক প্রকাশ)- ২৩
২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত ক্বওল শরীফ
২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
(সৃষ্টির ইতিহাসে এই প্রথম সাইয়্যিদুনা সুলত্বানুন নাছীর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত নূরুস সালাম মুবারক-এ পবিত্র কুদরত মুবারক উনার হাক্বীক্বত মুবারক প্রকাশ)- ২২
২৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুমহান বুলন্দী শান মুবারক প্রকাশ: ‘উম্মী’ শব্দ নিয়ে বাতিলপন্থীদের মিথ্যাচারের চূড়ান্ত জবাব (৯)
২৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
(সৃষ্টির ইতিহাসে এই প্রথম সাইয়্যিদুনা সুলত্বানুন নাছীর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত নূরুস সালাম মুবারক-এ পবিত্র কুদরত মুবারক উনার হাক্বীক্বত মুবারক প্রকাশ)- ২১
২৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত ক্বওল শরীফ
২৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
২৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে মানহানীকারীদের যুগে যুগে ভয়াবহ পরিণতি (৪৯)
২৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
ইযহারু হাক্বীক্বতিল কুদ্রত আউওয়ালা র্মারাতিন ফী তারীখি খ্বালক্বিল্লাহ্ ‘আলা লিসানি সাইয়্যিদিনা সুলত্বানিন নাছীর মামদূহ্ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলাহ্ আলাইহিস সালাম
২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
(সৃষ্টির ইতিহাসে এই প্রথম সাইয়্যিদুনা সুলত্বানুন নাছীর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত নূরুস সালাম মুবারক-এ পবিত্র কুদরত মুবারক উনার হাক্বীক্বত মুবারক প্রকাশ)- ১৯
২২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












