নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে মানহানীকারীদের যুগে যুগে ভয়াবহ পরিণতি (৩৪)
, ১১ রজবুল হারাম শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০৩ ছামিন, ১৩৯৩ শামসী সন , ০১ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ১৭ পৌষ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ
সম্মানিত হিজরত মুবারক উনার ষষ্ঠ বছর। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সিদ্ধান্ত মুবারক নিলেন সম্মানিত ইসলাম গ্রহণের আহ্বান সম্বলিত চিঠি মুবারক দিয়ে একদল হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে বিভিন্ন অনারব শাসকদের কাছে পাঠাবেন।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্যক অবগত ছিলেন, এই গুরুত্বপূর্ণ কাজের ঝুঁকি ও বিপদ সম্পর্কে।
কারণ, এইসব দূত (পত্রবাহক) উনারা যাচ্ছেন অজানা, অচেনা দুর্যোগ-দুর্ঘটনার সম্ভাবনাপূর্ণ বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলে। তাছাড়া উনাদের জানা নেই সেইসব অঞ্চলের ভাষা এবং কোনো ধারণাও নেই সেই সকল শাসকদের আচার-আচরণ সম্পর্কে। এ সকল হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা ঐসব শাসকদেরকে আহ্বান জানাবেন নিজেদের দ্বীন (ধর্ম ও বিশ্বাস) ত্যাগ করতে, নিজেদের ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি ছাড়তে। উনারা আহ্বান জানাবেন এমন কওমের দ্বীন গ্রহণ করতে, যারা নিকট-অতীতেও ছিলেন তাদেরই অনুগত।
সন্দেহ নেই এটা এক বিপদসঙ্কুল সফর, এখানে নেই মুসাফিরের জীবনের কোনো নিরাপত্তা, নেই প্রত্যাবর্তনের কোনো নিশ্চয়তা। যিনি যাবেন যেন তিনি জীবন হারাবেন, যিনি ফিরবেন যেন তিনি (মৃত্যুর পর) নতুন জীবন ফিরে পাবেন।
এসব নানাবিধ ঝুঁকি ও বিপদ-সম্ভাবনার কথা বিবেচনা করে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে জমা করলেন এবং উনাদের উদ্দেশ্যে খুতবা মুবারক প্রদান করলেন। প্রথমেই হামদ ও ছানা (মহান আল্লাহ পাক উনার প্রশংসা মুবারক) করলেন, পবিত্র কালিমায়ে শাহাদাত পড়ে অতঃপর ইরশাদ মুবারক করলেন-
فَإِنِّي أُرِيدُ أَنْ أَبْعَثَ بَعْضَكُمْ إِلٰى مُلُوْكِ الأَعَاجِمِ، فَلَا تَخْتَلِفُوا عَلَيَّ كَمَا اخْتَلَفَتْ بَنُوْ إِسْرَائِيْلَ عَلٰى حَضْرَتْ عِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ عَلَيْهِ السَّلَامُ
অর্থ: আমি আপনাদের ভেতর থেকে কয়েকজনকে বিভিন্ন অনারব শাসকদের কাছে সম্মানিত হিদায়েত উনার বার্তা নিয়ে পাঠাতে চাই। সুতরাং আমি আশা করি আপনারা অবশ্যই আমার এই সিদ্ধান্ত মুবারক মেনে নিবেন, বনী ইসরাঈলরা হযরত ঈসা রূহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সাথে যেমন আচরণ করেছিলো তেমনটা করবেন না। এই কথা মুবারক শুনে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা সমস্বরে বলে উঠলেন-
يَا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّا لَا نَخْتَلِفُ عَلَيْكَ فِي شَيْءٍ أَبَدًا فَمُرْنَا وَابْعَثْنَا
অর্থ: ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমরা আপনার কোনো বিষয়ে কখনোই ভিন্ন মত পোষণ করবো না। কাজেই আপনি আমাদেরকে আদেশ মুবারক করুন এবং যেখানে ইচ্ছা মুবারক প্রেরণ করুন। (আস সীরাতুন নবুবিয়্যাহ লি ইবনে কাছীর ৩/৫০৭)
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ছয়জন হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে মনোনীত করলেন বিভিন্ন আরব-অনারব শাসকদের কাছে উনার পত্র মুবারক নিয়ে যাওয়ার জন্য। সেই ছয়জনের একজন ছিলেন হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে হুযাফা আস সাহমী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি। উনাকে মনোনীত করা হয়েছিলো নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার চিঠি মুবারক কথিত পারস্য শাসক (খসরু পারভেজ) কিসরার নিকট পৌঁছানোর জন্য।
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে হুযাফা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি আদেশ মুবারক পেয়ে প্রস্তুত করে ফেললেন নিজের বাহন এবং আপন আহলিয়া ও সন্তানদের থেকে বিদায় নিলেন। রওনা করলেন বহু দূরের সেই পারস্য দেশের উদ্দেশ্যে। পাড়ি দিলেন বহু উঁচু-নিচু পথের ঘাত-প্রতিঘাত। মহান আল্লাহ পাক তিনি ছাড়া সঙ্গে কেউ নেই। এমন নিঃসঙ্গ, একা বহু দুর্গম পথ পেরিয়ে এক সময় তিনি পৌঁছে গেলেন আপন গন্তব্য পারস্যদেশে। পারস্য শাসকের সাথে সাক্ষাৎ করার কথা জানালেন এবং তার দরবারের সদস্যদের সেই চিঠি মুবারক উনার সংবাদ জানিয়ে দিলেন যা তিনি কিসরার উদ্দেশ্যে বয়ে এনেছেন।
সদস্যদের নিকট থেকে সবখবর শুনে কিসরা তার দরবার প্রস্তুত করার নির্দেশ দিলো। তার নির্দেশ পালিত হলো, দরবারকে সুসজ্জিত করা হলো। পারস্যের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে আমন্ত্রণ জানালে তারা কিসরার আহ্বানে সেই মজলিসে হাজির হলো। এরপর হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে হুযাফা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে সেই মজলিসে নিয়ে আসা হলো।
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে হুযাফা আস সাহমী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি পারস্য শাসকের সম্মুখে উপস্থিত হলেন পাতলা চাদর এবং মোটা কাপড়ের আবা (আরবদের ঐতিহ্যবাহী পুরুষদের পোশাক) পরে। উনার মাঝে সরলতার ছাপ ছিলো স্পষ্ট। কিন্তু তিনি ছিলেন উন্নত মনোবল ও মজবুত দেহ-কাঠামো মুবারক উনার অধিকারী, উনার সারা দেহ মুবারকে টগবগ করছিলেন ইসলামী মর্যাদা, অন্তরে জ্বলজ্বল করছিলেন সম্মানিত ঈমান উনার গৌরব। (অসমাপ্ত)
-হাফিয মুহম্মদ ইমামুল হুদা।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সৃষ্টির ইতিহাসে এই প্রথম নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় ইসিম বা নাম মুবারক اَحْمَدُ (আহমদ) ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মধ্যকার ‘মীম’ হরফ বা অক্ষর মুবারক উনার হাক্বীক্বত মুবারক প্রকাশ
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত শান মুবারক-এ চূ-চেরা, ক্বীলও ক্বাল করার কারণে, হিংসা-বিদ্বেষ পোষণ করার কারণে কাফেরদের বিরুদ্ধে সরাসরি মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট বিচার চাওয়া প্রসঙ্গে
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মধ্যস্থতা মুবারক-এ হাক্বীক্বী দীদার মুবারক লাভরে বশিষে র্বণনা মুবারক
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে নিসবত মুবারক স্থাপন করতে পারলে, মূল সব নিয়ামত পরিপূর্ণটা হাছিল সম্ভব। আর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথেই আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার সরাসরি মহাসম্মানিত নিসবত মুবারক
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
‘এক নাম্বার আক্বীদাহ্ হচ্ছে- মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা সৃষ্টির কারো মতো নন’
০৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনাকে মহাসম্মানিত বুছা মুবারক দেয়া
০৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
০৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি হচ্ছেন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মধ্যে ঊলা বা প্রথমা, কুবরা বা মূল, বড়, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মূল এবং সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনারও মূল
০৭ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের দায়েমীভাবে এমন মহাসম্মানিত নিসবত মুবারক রয়েছেন যেখানে সৃষ্টির কারো কোনো স্থান সঙ্কুলান হয় না
০৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












