তীব্র গরমে চাহিদা বেড়েছে ফ্যান-এসির, দাম তুঙ্গে
, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) তাজা খবর
রোদের তাপে বাসার বাইরে থাকার অবস্থা নেই। আবার বাসার ভেতরে ফ্যান ছাড়া থাকা যায় না। তীব্র তাপপ্রবাহে অতিষ্ঠ জনজীবন। এই সময়ে ব্যবহার বেড়েছে ফ্যান, এসি ও এয়ার কন্ডিশনারের। ফলে বেড়েছে বিদ্যুতের চাহিদা। এতে লোডশেডিং হচ্ছে। এর ফলে ফ্যান, রিচার্জেবল ফ্যান, এয়ার কন্ডিশনার এবং এয়ার কুলারের চাহিদা বেড়েছে। তবে চাহিদা বৃদ্ধি ও আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির কারণে দাম বেড়ে যাওয়ায় ভোক্তারা হতাশ।
ভোক্তারা অসহনীয় গরম থেকে বাঁচার উপায় খুঁজছেন বলে রাজধানী জুড়ে সব প্রধান শীতল যন্ত্রের বাজারে ভিড় দেখা যাচ্ছে। চাহিদার সঙ্গে সঙ্গে দামও বেড়েছে। রিচার্জেবল ফ্যানের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিদুৎ চলে গেলে অন্ধকারাচ্ছন্ন থেকে কিছুটা স্বস্তির আশায় অনেকেই রিচার্জেবল ফ্যান, ল্যাম্প এবং আইপিএস কিনছেন।
রাজধানীর কয়েকটি মার্কেটে দেখা গেছে সম্ভাব্য ক্রেতাদের ভিড়। রিচার্জেবল ফ্যানের ব্যবহার বেড়েছে- কারণ এতে বিদ্যুৎ ছাড়াও কিছু সময়ের জন্য স্বস্তির বাতাস পাওয়া যায়।
জানা যায়, গত মার্চ থেকে ফ্যান ও এসির চাহিদা বেড়েছে। চাহিদার তুলনায় জোগানেও টান পড়েছে। ব্র্যান্ডের শপগুলো লোকাল দোকানগুলোতে চাহিদামতো ফ্যান দিচ্ছে না। এজন্য তাদের নন ব্র্যান্ড ও বিদেশি ফ্যান বিক্রি করতে হচ্ছে। অপরদিকে ক্রেতারা বলছেন, ইচ্ছামতো দাম নিচ্ছেন বিক্রেতারা।
ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত বছরের তুলনার ফ্যানের দাম সাইজ ভেদে ২০০-৭০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। পাশাপাশি চার্জার লাইটের দামও বেড়েছে ৩০-৭০ টাকা।
ফ্যান কিনতে আসা এক ক্রেতা বলেন, “ছোট নন-ব্র্যান্ডের টাইফুন ফ্যানগুলোর দাম চাইছে ৯০০ থেকে ১১০০ টাকা। অথচ গতবছর এগুলোর দাম ছিল ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। গরম বাড়ায় এক ফ্যানে কাজ হয় না। তাই আরেকটি ফ্যান কিনতে এসেছি। দাম বেশি হলেও গরমের কারণে নিতে হচ্ছে।”
আরেকজন ক্রেতা বলেন, “ডিফেন্ডার ব্র্যান্ডের ১২ ইঞ্চি ফ্যান কোথাও চাইছে ৩ হাজার ৫০০ টাকা কোথাও ৪ হাজার টাকা। আর একই ব্র্যান্ডের ১৪ ইঞ্চি ফ্যান চাওয়া হচ্ছে ৫ হাজার টাকা।”
রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে দেখা যায়, ছোট স্ট্যান্ড (৯-১০ ইঞ্চি) বা টাইফুন ফ্যান বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের স্ট্যান্ড ফ্যান বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ২০০ থেকে ৮ হাজার টাকায়। এছাড়া দেশি ব্র্যান্ডের সিলিং ফ্যান ১ হাজার ৭০০ থেকে ৪ হাজার টাকা, বিদেশি ব্র্যান্ডের সিলিং ফ্যান বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকায়।”
মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা আসিফ বলেন, এই সপ্তাহের শুরু থেকে প্রায় রাতেই বিদ্যুৎ থাকে না। এতে করে ঘরের শিশু ও বৃদ্ধদের ঘুমের সমস্যা হয়। গরম থেকে বাঁচতে তাই চার্জার ফ্যান কিনতে এসেছি।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ২৪ ঘণ্টায় দুই-তিনবার বিদ্যুৎ চলে যায়। বাচ্চারা অনেক রাত পর্যন্ত পড়াশোনা করে। তাদের পড়ায় যেন সমস্যা না হয় তাই ফ্যানের সঙ্গে চার্জার লাইটও কিনে নিয়েছি। তবে আগের থেকে ফ্যান ও লাইট বাড়তি দাম দিয়ে কিনতে হচ্ছে।”
রাজধানীর সুন্দরবন স্কয়ার মার্কেটে রিচার্জেবল ফ্যান বিক্রি করেন আব্দুল আজিজ। তিনি বলেন, পাখার চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বিক্রি অনেক বেড়েছে। আমি কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ৫০টিরও বেশি বিক্রি করেছি। এখন বিক্রি আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
স্টেডিয়াম মার্কেটের ব্যবসায়ী মান্নান বলেন, গরম আসায় চার্জার ফ্যানের বিক্রি বাড়ছে। এছাড়া স্ট্যান্ড ফ্যান, সিলিং ফ্যান- এগুলোও বিক্রি হচ্ছে। তবে কোম্পানি থেকে দাম বাড়ায় আমাদেরকেও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
এদিকে ফ্যানের পাশাপাশি চাহিদা বেড়েছে এসির। বাসাবাড়িতে এক টন থেকে দেড় টন ক্ষমতার এসির চাহিদা বেশি। এর মধ্যে সর্বোচ্চ চাহিদা দেড় টন ক্ষমতার এসির। এসকোয়ার ইলেকট্রনিকসে গিয়ে জানা যায়, ব্র্যান্ডভেদে দেড় টন ইনভার্টার অথবা নন-ইনভার্টার এসি ৬৫ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। আর ১ টনের ইনভার্টার অথবা নন-ইনভার্টার এসি বিক্রি হচ্ছে ৪৫ হাজার থেকে ৯০ হাজার টাকার মধ্যে। তবে তুলনামূলক কম দামের এসি বেশি বেচাকেনা হয়।”
শোরুমের বিক্রয় প্রতিনিধিরা বলছেন, ইনভার্টার ও নন-ইনভার্টার দুই এসির বিক্রি ভালো। তবে বেশিরভাগ ক্রেতাই জানেন না- কী ধরনের এসি কিনতে হবে। এছাড়া এসি ইন্সটলেশন চার্জ ১০ হাজার টাকা। আর ক্রেতাদের জন্য সামান্য ডিসকাউন্টের ব্যবস্থা আছে।
যাদের সামর্থ্য আছে তারা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) ইউনিট কিনছে। তবে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা এসব পণ্যের দাম ১৫ শতাংশ বাড়িয়েছেন। ফ্যানের পাশাপাশি বেড়েছে এয়ার কন্ডিশনার ও এয়ার কুলারের দাম। যারা এসি ইউনিটের খরচ বহন করতে অক্ষম তারা এয়ার কুলারের দিকে ঝুঁকছেন।
যমুনা শোরুমের সেলস এক্সিকিউটিভ আতিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের এসির চাহিদা তুলনামূলক ভালো, বিক্রিও ভালো হচ্ছে। দাম একটু বেশি হলেও আগের চেয়ে ভালো বিক্রি হচ্ছে। আগের চেয়ে দ্বিগুণ বিক্রি হচ্ছে।
লক্ষ্মীবাজারে এসি কিনতে আসা তৌহিদুল ইসলাম বলেন, এই তীব্র গরমে ঘরের ভেতরে থাকা প্রায় অসম্ভব হয়ে গেছে, বিশেষ করে ছোট বাচ্চা আর বয়স্কদের জন্য কষ্টটা বেশি। ফ্যান চালিয়েও তেমন স্বস্তি পাওয়া যাচ্ছে না, তাই বাধ্য হয়ে এসি কিনতে আসতে হয়েছে। আগে এমনটা ভাবিনি, কিন্তু পরিস্থিতি এখন এমন জায়গায় গেছে যে আর দেরি করার সুযোগ নেই। দাম কিছুটা বেশি হলেও পরিবারের স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে কিনতেই হচ্ছে।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে আরও ১ হাজার ৯৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ
২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
যোদ্ধাদের হামলায় ধ্বংস হওয়ার আগমুহুর্তে টার্গেটে দখলদারদের ট্যাংক
২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
তীব্র গরমে ঝুঁকিতে শিক্ষার্থীরা, দুপুর ১২টায় ছুটির দাবি
২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
গ্রামে ১০ থেকে ১৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না, অতিষ্ঠ মানুষ
২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মহান আল্লাহ পাক উনার রহমতের বৃষ্টি, বাঁচলো ৫০ কোটি টাকা
২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
যোদ্ধাদের মর্টার শেলের আঘাতের পর পুড়ে ধ্বংস হচ্ছে দখলদারদের যুদ্ধযান।
২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের টিফিন দেয়ার পরিকল্পনা
২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
কুরবানির চামড়ার ন্যায্যমূল্য নির্ধারণে আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন
২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
এক লাখ টন ক্রুডবাহী ‘এমটি নিনেমিয়া’ ৬ মে বাংলাদেশে আসছে
২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পাহাড়ে সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গণে মিথ্যাচারের প্রতিবাদে বিক্ষোভ
২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
হঠাৎ করে উত্তাপ ছড়াচ্ছে ছাত্র রাজনীতি: সংঘাতে ছাত্রদল-ছাত্রশিবির
২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
উচ্ছেদ হওয়া হকারদের দ্রুত পুনর্বাসনের নির্দেশ
২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












