সুন্নত মুবারক তা’লীম
চাঁদ দেখে পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাসের রোযা শুরু করা খাছ সুন্নত মুবারক (১)
, ২৭ শাবান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৮ তাসি, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ০৩ ফাল্গুন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
وَتَزَوَّدُوا فَإِنَّ خَيْرَ الزَّادِ التَّقْوَى.
অর্থ: “তোমরা পাথেয় সংগ্রহ কর। নিশ্চয়ই উত্তম পাথেয় হচ্ছে তাক্বওয়া।” (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ১৯৭)
‘তাক্বওয়া’ শব্দের অর্থ হলো আল্লাহভীতি। অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করে উনার নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ হতে সম্পূর্ণরূপে বিরত থাকার নাম তাক্বওয়া। আর পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাস উনার পবিত্র রোযা উনার দ্বারা সেই তাক্বওয়া হাছিল হয়ে থাকে।
এ প্রসঙ্গে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “আদম সন্তানের প্রত্যেক নেক আমল দশ গুণ হতে সাতশত গুণ পর্যন্ত বাড়ানো হয়ে থাকে। মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, পবিত্র রোযা ব্যতীত। কেননা, পবিত্র রোযা একমাত্র আমারই জন্য রাখা হয় এবং তার প্রতিফল আমি নিজেই (যত ইচ্ছা) দান করব। সে (বান্দা) আমারই জন্য আপন প্রবৃত্তি ও খাদ্য-পানীয় হতে বিরত থাকে।” সুবহানাল্লাহ! (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ)
আর এই ‘তাক্বওয়া’ ও সম্মানিত রোযা উনার বেমেছাল ফযীলত মুবারক তখনই হাক্বীক্বীভাবে ও পরিপূর্ণভাবে হাছিল করা যাবে যখন প্রত্যেকটি আমল মহাসম্মানিত মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক অনুযায়ী হবে। সে জন্য সকলের দায়িত্ব-কর্তব্য হলো প্রতিটি আমল মহাসম্মানিত মহাপবিত্র সুন্নতী তারতীব মুবারকে করা।
চাঁদ দেখে পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাসের রোযা শুরু ও শেষ করা সম্মানিত শরীয়ত উনার নির্দেশ মুবারক এবং খাছ সুন্নত মুবারক
বান্দা-বান্দীর ইবাদত-বন্দেগী অর্থাৎ সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার অনেক আমল মুবারক পবিত্র আরবী মাসের তারিখ ও সময়ের সাথে সম্পৃক্ত। এক্ষেত্রে চাঁদের সংশ্লিষ্টতা অপরিহার্য। সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার বিশেষ বিশেষ দিবস মুবারক এবং আমল মুবারকসমূহ বিভিন্ন মাসের সাথে সংশ্লিষ্ট। যেমন : পবিত্র নামায, পবিত্র রোযা, পবিত্র হজ্জ, পবিত্র ঈদ, পবিত্র আশূরা শরীফ, পবিত্র শবে ক্বদর শরীফ, পবিত্র শবে বরাত শরীফ, পবিত্র লাইলাতুর রগাইব শরীফ এবং মহাসম্মানিত মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ।
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে -
إِن الله تَعَالٰى قَدْ اَمَدَّهٗ لِرُؤْيَتِهٖ.
অর্থ: “নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি চাঁদ দেখার সাথে মাস নির্ধারণ করেছেন।” (মুসলিম শরীফ, মিশকাত শরীফ)
উপরোল্লেখিত প্রতিটি দিবস মুবারকই চাঁদের সাথে সংশ্লিষ্ট। চাঁদ উঠার মাধ্যমে মাস শুরু হওয়ার পরই এ সকল মহাসম্মানিত দিবস মুবারক এবং আমল মুবারক নির্ধারিত হয়ে থাকে। আর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের দ্বারাই চাঁদ দেখে সংশ্লিষ্ট আমল মুবারকসমূহ পালন করার নির্দেশ মুবারক রয়েছে। সুতরাং পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাস অবশ্যই নির্ভুলভাবে চাঁদ দেখে শুরু ও শেষ করতে হবে। যেমন এ প্রসঙ্গে মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اَبِىْ هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صُوْمُوْا لِرُؤْيَتِهٖ وَاَفْطِرُوْا لِرُؤْيَتِهٖ فَاِنْ غُبِّيَ عَلَيْكُمْ فَأَكْمِلُوْا عِدَّةَ شَعْبَانَ ثَلَاثِيْنَ.
অর্থ: “ হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, তোমরা চাঁদ দেখে পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার পবিত্র রোযা রাখো এবং চাঁদ দেখেই পবিত্র রোযা শেষ করো অর্থাৎ পবিত্র ঈদ পালন করো। আর যদি আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকায় তোমরা চাঁদ দেখতে না পাও তবে পবিত্র শা’বান শরীফ মাস ত্রিশ দিনে পূর্ণ করো।” (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, মিশকাত শরীফ)
-আহমদ হুসাইন
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক প্রচার-প্রসারের বেমেছাল গুরুত্ব- ফযীলত মুবারক
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ওযূর মধ্যে পরিপূর্ণ মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার ইত্তেবা না হওয়ায় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সতর্কতা মুবারক
১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ওযূ করার খাছ সুন্নতী তারতীব মুবারক ও মাসয়ালা-মাসায়িল (৫)
১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
ওযূ করার খাছ সুন্নতী তারতীব মুবারক ও মাসয়ালা-মাসায়িল (৪)
১২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ওযূ করার খাছ সুন্নতী তারতীব মুবারক ও মাসয়ালা-মাসায়িল (২)
১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ওযূ করার খাছ সুন্নতী তারতীব মুবারক ও মাসয়ালা-মাসায়িল (১)
০৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
হাত ও পায়ের নখ কাটার মহাসম্মানিত সুন্নতী তারতীব মুবারক
০৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মহাসম্মানিত সুন্নতী খাদ্য কদু খাওয়ার গুরুত্ব-ফযীলত ও উপকারিতা (৩)
০৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নতী খাদ্য কদু খাওয়ার গুরুত্ব-ফযীলত ও উপকারিতা (২)
০৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পবিত্র শবে বরাত শরীফ পালন করার মহাসম্মানিত সুন্নতী তরীক্বাহ
০৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র শবে বরাত শরীফ পালন করা খাছ সুন্নত মুবারক
০২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র বরাতের রাতে ইবাদত-বন্দেগী করা ও দিনে রোযা রাখা খাছ সুন্নত মুবারক
০১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












