কাদের ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করা উচিত?
, ১৩ শাওওয়াল শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০২ হাদী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ০২ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রি:, ১৯ চৈত্র, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
وَاصْبِرْ نَفْسَكَ مَعَ الَّذِيْنَ يَدْعُوْنَ ربهم بِالْغَدَاةِ وَ الْعَشِىِّ يُرِيْدُوْنَ وَجْهَه.
অর্থ মুবারক: আপনি নিজেকে ঐ সকল ব্যক্তি উনাদের ছোহবত বা সংসর্গে আবদ্ধ রাখুন, যারা সকাল-সন্ধ্যায় উনাদের রব তা’য়ালা উনাকে ডাকেন, উনার সন্তুষ্টি মুবারক হাছিলের জন্য। (পবিত্র সূরা কাহাফ শরীফ, পবিত্র আয়াত শরীফ-২৮)
আর পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, হযরত আবূ জুহাইফা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বর্ণনা করেন, মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, অভিজ্ঞদের জিজ্ঞাসা করো, আলিমদের সাথে মুহব্বত রাখো এবং বৃদ্ধদের সাথে উঠাবসা করো। (কানযুল উম্মাল, হাকীম)
এর ব্যাখ্যায় বলা হয়, মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার নবী ও রসূল হযরত কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার প্রতি ওহী মুবারক করেছিলেন যে, “হে আমার সম্মানিত নবী ও রসূল আলাইহিস সালাম! কয়েক প্রকার লোকের ছোহবত ইখতিয়ার করলে কয়েক প্রকার তাছীর পয়দা হয়ে থাকে। যেমন-
১. হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করলে মহান আল্লাহ পাক উনার মুহব্বত-মা’রিফত পয়দা হয় এবং দুনিয়া বা গাইরুল্লাহর মুহব্বত দূর হয়।
২. যাহিরী আলিমদের ছোহবত ইখতিয়ার করলে ইলিম অর্জন হয় কিন্তু হাক্বীক্বতে পৌঁছা যায় না। অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার মুহব্বত-মা’রিফত মুবারক হাসিল করা সম্ভব হয় না।
৩. হাকীম বা অভিজ্ঞদের ছোহবত ইখতিয়ার করলে প্রত্যেক বিষয়ে চূড়ান্ত ফায়সালা পাওয়া যায়।
৪. বৃদ্ধদের ছোহবত ইখতিয়ার করলে চিন্তাশক্তি বৃদ্ধি পায় এবং দুনিয়াবী অভিজ্ঞতা পয়দা হয়।
৫. রাজা-বাদশাহদের ছোহবত ইখতিয়ার করলে অহংকার পয়দা হয়।
৬. আমীর-উমরাহদের ছোহবত ইখতিয়ার করলে দুনিয়ার প্রতি আসক্তি পয়দা হয়।
৭. সম্পদশালীদের ছোহবত ইখতিয়ার করলে ধন-সম্পদের প্রতি লোভ বৃদ্ধি পায়।
৮. স্ত্রীলোকদের ছোহবত ইখতিয়ার করলে কামভাব বৃদ্ধি হয়।
৯. বাচ্চাদের বা শিশুদের ছোহবত ইখতিয়ার করলে খেল-তামাশার প্রতি আসক্তি বৃদ্ধি হয়।
উপরোক্ত আলোচনা থেকে প্রতিয়মান হয় যে, হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের ছোহবত ইখতিয়ার করা সমস্ত ছোহবত থেকে সর্বোত্তম। কেননা এর মাধ্যমে মহান আল্লাহ পাক উনার মুহব্বত-মারিফত মুবারক হাছিল হয় অর্থাৎ হাক্বীক্বতের চূড়ান্ত সোপানে পৌঁছা সম্ভব। সুবহানাল্লাহ!
মহান আল্লাহ পাক তিনি যেন আমাদের সকলকে হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের ছোহবত মুবারক লাযেম আবশ্যক করে নেওয়ার তাওফিক দান করেন। (আমীন)
-আহমদ বিনতে আলী।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (১০)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ছবি তোলা হারাম, যা জাহান্নামী হওয়ার কারণ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত আশূরা শরীফ উনাকে যারা সম্মান করবে তাদের জন্য-
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত শরীয়ত উনার ফায়ছালা মতে কুলাঙ্গার ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহি কাট্টা কাফির ও চিরজাহান্নামী (১)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পৃথিবীকে পরিবর্তন করার চেয়ে নিজেকে পরিবর্তন করা সহজ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পর্দা রক্ষা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া ব্যভিচারের সমতুল্য
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
৩টি বিষয় কেবল তিনটি অবস্থায়ই জানা যায়।
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত মীলাদ শরীফ পাঠে অনন্য তাজদীদ মুবারক (৪)
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ইসলামী শরীয়ত মুতাবিক- ছবি তোলা হারাম
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












