এই উপমহাদেশে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম ও মুসলমানদের ঈমান-আমলের ক্ষতিসাধনে দেওবন্দীদের কার্যক্রম এবং তাদের ভ্রান্ত ফতওয়া (২)
, ৪রা রমাদ্বান শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ৬ আশির, ১৩৯২ শামসী সন , ৫ মার্চ, ২০২৫ খ্রি:, ১৮ ফালগুন, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
(৪) বাবরী মসজিদ রায় মুসলমানদের মেনে নেয়া উচিত -দেওবন্দ
মুসলমানদের মসজিদ বাবরী মসজিদ, ১৯৯২ সালে এই মসজিদকে অন্যায়ভাবে ভেঙ্গেছিলো হিন্দু সন্ত্রাসীরা। সাথে সমগ্র ভারতজুড়ে সৃষ্টি করেছিলো মুসলিম গণহত্যা। হিন্দুদের দাবি: তাদের কল্পকাহিনী রামায়নের মতে বাবরী মসজিদ নাকি রামের জন্মস্থান। এলাহাবাদের সাম্প্রদায়িক হাইকোর্টও হিন্দু পক্ষ নিয়ে রায় দিলো: বাবরি মসজিদের জায়গার তিন ভাগের মাত্র একভাগ পাবে মুসলমানরা, দুই ভাগ পাবে অন্যরা। বলাবাহুল্য এ রায়ের পর মুসলমানদের প্রতিবাদ করা ফরজ হয়ে পড়ে। কিন্তু দেওবন্দী মালানারা তখন উল্টো ফতওয়া দেয়: “মুসলমানদের এই রায় শ্রদ্ধার সাথে মেনে নেয়া উচিত। ” নাঊযুবিল্লাহ! (সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, ১৬ই সেপ্টেম্বর ২০১০, http://goo.gl/cakLYq)
(৫) হিন্দুদের কাফির বলা যাবে না -দেওবন্দ
মহান আল্লাহ পাক তিনি স্বয়ং মুশরিকদের কাফির বা নাপাক, যবন, ব্লেচ্ছ বললেও দেওবন্দরা তাদের কাফির বলতে নারাজ। এই ফতওয়া কিন্তু তারা পবিত্র কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ ঘেটে দেয়নি। এ ফতওয়া তারা দিয়েছে হিন্দু উগ্রবাদী সংগঠন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নেতা সন্ত্রাসী অশোক সিংহোলের অনুরোধে। (সূত্র: টাইমস অফ ইন্ডিয়া, ২৪ই ফেব্রুয়ারী ২০০৯, http://goo.gl/cakLYq)
(৬) হিন্দুদের দেবতার প্রতি সম্মান জানিয়ে গরু কুরবানী বন্ধ করুন -দেওবন্দ
ভারতে গরু কুরবানী আইন-২০০৪ অনুসারে একজন মুসলমান গরু কুরবানী করলে তার সর্বোচ্চ ৭ বছর কারাদ- হতে পারে, একই সাথে ১০ হাজার রুপি জরিমানা হবে। এটা অবশ্যই মুসলমানদের দ্বীনী অনুভূতিতে আঘাত এবং মুসলমানদের উপর ভারত হিন্দুত্ববাদী সরকারের জুলুম। এখানে কিন্তু দেওবন্দরা এর প্রতিবাদ করতে পারতো, কিংবা সেটা যদি সম্ভব না হয় তাহলে অন্তত তারা চুপ থাকতো। কারণ পবিত্র হাদীছ শরীফ অনুসারে ঈমানের স্তর তিনটি:
(১) অন্যায় দেখলে হাতে বাধা দেয়া।
(২) মুখে বাধা দেয়া।
(৩) অন্তরে খারাপ জেনে সরে আসা।
এরপর ঈমানের আর কোন স্তর নেই। কিন্তু দেখা গেলো তারা হিন্দুদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে ফতওয়া দিলো, “হিন্দু রাষ্ট্রযন্ত্র গরু কুরবানী নিষিদ্ধ করলে গরুর গোশত খাওয়াও নাকি নাজায়িয হবে”। নাউযুবিল্লাহ! (সূত্র: টাইমস অফ ইন্ডিয়া, ২৭শে এপ্রিল ২০০৮ ঈসায়ী, http://goo.gl/gVNDMM)
তারা আরো বললো, হিন্দুদের ধর্মীয় অনুভূতির কথা বিবেচনা করে আপনারা গরু কুরবানী করবেন না। নাঊযুবিল্লাহ!
বলাবাহুল্য হিন্দুদের ধর্মীয় অনুভূতি সংরক্ষণের দায়িত্ব হিন্দুদের এবং মুসলমানদেরটা সংরক্ষণের দায়িত্ব মুসলমানের।
কিন্তু দেখা যাচ্ছে সেই গান্ধীর আমল থেকে হিন্দু গান্ধীর অনুরোধে দেওবন্দরা গরু কুরবানী করতে নিষেধ করে আসছে। (সূত্র: আইবিএন, ১৪ই অক্টোবর ২০১৩ ঈসায়ী, যঃঃঢ়://মড়ড়.মষ/ই৩শঋ২ভ)
তাহলে দেওবন্দীরা কি হিন্দুদের অনুরোধে মুসলমানিত্ব বাদ দিয়ে হিন্দু হয়ে গেছে?
উল্লেখ্য দেওবন্দীরা ২০১১, ২০১০, ২০০৮, ২০০৭, ২০০৪ সালেও সরাসরি গরু কুরবানী করতে নিষেধ করেছে তার প্রমাণও মিডিয়াতে আছে। (ইনশাআল্লাহ চলবে)
-০-
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ফাদ্বায়িলে উম্মাহাতিল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম (৪)
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পর্দা সর্বপ্রকার বিপদ-আপদ থেকে হিফাজত হওয়ার মাধ্যম
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
দ্বীন ইসলাম উনার জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর ৩ শ্রেণী
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
শরীয়তের দৃষ্টিতে কোন রোগই ছোঁয়াচে নয়,
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্রতা সম্পর্কিত মাসয়ালা-মাসায়িল (১২)
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা কবীরা গুনাহ ও অসন্তুষ্টির কারণ
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
বিধর্মী-অমুসলিমরা কখনো মুসলমানদের ভাই/বন্ধু নয়, বরং তারা মুসলমানদের চির শত্রু (৪র্থ পর্ব)
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মূর্তি, প্রতিমা, ভাস্কর্য, ম্যানিকিন ও ছবি নাজায়িয ও হারাম
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (২৪)
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বেপর্দা হওয়া লা’নত ও হালাকীর কারণ
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












