উলামায়ে সূ’ ধর্ম ব্যবসায়ীদের পরিচিতি ও হাক্বীক্বত (১)
, ২৪ শে রজবুল হারাম শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ২৮ ছামিন, ১৩৯২ শামসী সন , ২৫ জানুয়ারী, ২০২৫ খ্রি:, ১১ মাঘ, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
মুক্বদ্দিমাহ
হক্কানী-রব্বানী আলিমগণ হচ্ছেন হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের ওয়ারিছ। সম্মানিত আলিম উনাদের রয়েছে বেমেছাল মর্যাদা ও ফযীলত। মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
يَرْفَعِ اللهُ الَّذِيْنَ آمَنُوْا مِنْكُمْ وَالَّذِيْنَ أُوْتُوا الْعِلْمَ دَرَجَاتٍ
অর্থ: তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে ও যাদেরকে ইলিম দান করা হয়েছে মহান আল্লাহ পাক তিনি দ্বিগুণ বহুগুণে উনাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করে দিবেন। সুবহানাল্লাহ! (পবিত্র সূরা মুজাদালাহ শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ১১)
অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক তিনি যারা হক্কানী আলিম রয়েছেন উনাদেরকে অসংখ্য মর্যাদা দান করেছেন ও করবেন। হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের অবর্তমানে মুসলমানদেরকে সঠিক দ্বীন শিক্ষা দেয়ার, ঈমান-আমল হিফাযত করার দায়িত্ব হচ্ছে উলামায়ে হক্ব উনাদের। যেটা যুগ যুগ ধরে চলে আসছে, ক্বিয়ামত পর্যন্ত চলবে। অপরদিকে যুগ যুগ ধরেই হক্কানী আলিম উনাদের বিপরীতে ছিলো দুনিয়াদার ধর্মব্যবসায়ী আলিম। যারা সাধারণ মানুষের ঈমান-আমল নষ্ট করে থাকে। পূর্বে করেছে এখনও করে যাচ্ছে। যাদেরকে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ‘উলামায়ে সূ’ নামে অভিহিত করা হয়েছে। পবিত্র হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ أَنَسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قاَلَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَيْلٌ لِّأُمَّتِيْ مِنْ عُلَمَاءِ السُّوءِ يَتَّخِذُوْنَ هٰذَا الْعِلمَ تِجَارَةً يَبِيْعُوْنَهَا مِنْ أُمَرَاءِ زَمَانِهِمْ رَبْحًا لِّأنْفُسِهِمْ لَا أَرْبَحَ اللهُ تِجَارَتَهُمْ
অর্থ: হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন- আমার উম্মতের মধ্যে উলামায়ে সূ’দের জন্য জাহান্নাম। তারা এই ইলিমকে ব্যবসার পুঁজি হিসেবে গ্রহণ করবে। ইলিম উনার দোহাই দিয়ে তারা তাদের যামানার শাসকগোষ্ঠীর সাথে ব্যবসা করবে, নিজেদের কিছু ফায়দা হাছিল করার জন্য। (নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তাদের বিরুদ্ধে বদ দোয়া করেন,) মহান আল্লাহ পাক তিনি যেন তাদের এই ব্যবসায় কোনো বরকত দান না করেন। (দায়লামী শরীফ ৪/৩৯৮, জামীউল কাবীর লিস সুয়ূতী ১/২৫৫৮৯, আল ফিরদাউস বি মা’ছূরিল খিতাব ৪/৩৯৮, জামিউল আহাদীছ ২২/৪৮০, কানযুল উম্মাল ১০/২০৫ ইত্যাদি)
এই পবিত্র হাদীছ শরীফ থেকে প্রমাণিত হয় যে সমস্ত আলিমরা তাদের যামানার শাসকদের দরবারে আসা-যাওয়া করবে তারাই হচ্ছে উলামায়ে সূ। পবিত্র হাদীছ শরীফে এদেরকে নিকৃষ্ট জীব হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। যেমন বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اَلْأَحْوَصِ بْنِ حَكِيْمٍ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ عَنْ أَبِيْهِ قَالَ سَأَلَ رَجُلٌ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنِ الشَّرِّ فَقَالَ لَا تَسْأَلُوْنِيْ عَنِ الشَّرِّ وَسَلُوْنِيْ عَنِ الْخَيْرِ يَقُوْلُهَا ثَلَاثًا ثُمَّ قَالَ أَلَا إِنَّ شَرَّ الشَّرِّ شِرَارُ الْعُلَمَاءِ وَإِنَّ خَيْرَ الْخَيْرِ خِيَارُ الْعُلَمَاءِ
অর্থ: হযরত আহ্ওয়াছ ইবনে হাকীম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার পিতা থেকে বর্ণনা করেন। উনার পিতা বলেন, একজন হযরত ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট মন্দ (লোক) সম্পর্কে জানতে চাইলেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, আমাকে মন্দ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করবেন না, বরং ভালো সম্পর্কে জিজ্ঞেস করুন। এই কথা মুবারক তিনি তিনবার বললেন। অতঃপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, সাবধান! সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট হচ্ছে (দুনিয়াদার) আলিমরা অর্থাৎ উলামায়ে সূ’রা এবং সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ হচ্ছেন (হক্কানী) আলিমগণ। (সুনানুদ দারেমী ১/৩৭৭, মিশকাত শরীফ)
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন- একদিন হুজ্জাতুল ইসলাম হযরত ইমাম গাযযালী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার মজলিসের মধ্যে উলামায়ে সূ’দের কিছু হাক্বীক্বত প্রকাশ করলেন। কারণ উনার যামানাটা ছিলো ফিৎনার যামানা। উলামায়ে সূ’দের খুব প্রাধান্য ছিলো, খুব প্রভাব ছিলো; যার কারণে দেখা যায়, উনার বিরুদ্ধে উলামায়ে সূ’রা অনেক আন্দোলন করেছিল। উনার সমস্ত কিতাবাদী যা ছিলো পবিত্র হাদীছ শরীফ, তাফসীর, ফিক্বাহ, ফতওয়া, তাছাওউফের কিতাব প্রায় অনেকগুলি উলামায়ে সূ’রা একত্রিত হয়ে বাদশাহর কাছে নালিশ করে উনার কিতাবগুলি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছিলো। নাউযুবিল্লাহ! এবং উনাকে দেশ থেকে বের করে দেয়ারও তারা ষড়যন্ত্র করেছিলো।
যেহেতু উলামায়ে সূ’দের প্রভাব ছিলো, প্রাধান্য ছিলো, তাদের হাক্বীক্বত প্রকাশ করা প্রয়োজন ছিলো। যার কারণে তিনি উনার তা’লীম গাহে, দরসগাহে যেখানে তিনি তা’লীম দিতেন সেখানে উলামায়ে সূ’দের হাক্বীক্বত প্রকাশ করতেন।
একদিন তিনি উলামায়ে ‘সূ’দের কোন কোন উলামায়ে সূ’ নির্দিষ্ট করে তাদের দোষ-ত্রুটি বর্ণনা করতেছিলেন যে, এরা উলামায়ে সূ’, বাদশাহর সাথে এদের সম্পর্ক রয়েছে, এরা গাইরুল্লাহ হাছিলের জন্য মশগুল রয়েছে।
তিনি যখন উলামায়ে সূ’দের হাক্বীক্বত বর্ণনা করতেছিলেন তখন একজন আলিম ছাহেব সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বললেন, হে শায়েখ! আপনি উলামায়ে সূ’দের দোষ-ত্রুটি বর্ণনা না করে পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ আলোচনা করলে উত্তম হতো।
এটা যখন সে বললো তখন তিনি গোস্বা করলেন, তাকে ধমক দিয়ে বললেন যে, তোমার আদব-কায়দা শেখা উচিৎ, কখন কি আলোচনা করতে হবে সেটা আমার জানা রয়েছে, সেটা তোমার থেকে আমাকে জানতে হবে না। তখন তিনি বললেন-
ایک زمانہ بدنام علماء سوء + بہتر از شست سال طاعت بے ریاء
‘কিছুক্ষণ সময় উলামায়ে সূ’দের দোষ-ত্রুটি বর্ণনা করে দেয়া, তাদের হাক্বীক্বত প্রকাশ করে দেয়াটা হচ্ছে ষাট বৎসর মকবুল নফল ইবাদত থেকে উত্তম। ’ সুবহানাল্লাহ! (মুবারক ওয়াজ শরীফ থেকে সংকলিত)
বর্তমান সময়েও উলামায়ে সূ’দের দ্বারা পরিপূর্ণ যমীন। তাই সাধারণ মানুষ যাতে এই সমস্ত উলামায়ে সূ’দের বদ আক্বীদাহ ও আমল থেকে নিজেদের ঈমান-আমল হিফাযত করতে পারে এজন্য তাদের পরিচয় ও কিছু বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হলো।
-হাফিয মুহম্মদ ইমামুল হুদা।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
যেই ২৬ খানা আয়াত শরীফ বাদ দেয়ার জন্য ভারতের আদালতে রিট করেছিলো ইসলামবিদ্বেষীরা
১৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহিলাদের প্রতি মহান আল্লাহ পাক উনার বিশেষ নির্দেশনা মুবারক- পর্দা পালন করা
১৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বিদ্যুৎ চমকানোর বিস্ময়কর বর্ণনা
১৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ছহিবে নিসাব প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য পবিত্র কুরবানী দেয়া ওয়াজিব (২)
১৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা কবীরা গুনাহ ও অসন্তুষ্টির কারণ
১৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সম্মানিত হানাফী মাযহাবের ফতওয়া অনুযায়ী- কাঁকড়া, কচ্ছপ, অক্টপাস, ঝিনুক, শামুক, কেঁচো, কুঁচিয়া, স্কুইড, সামুদ্রিক প্রাণী শাপলা পাতা, সাপ, মেছোবাঘ (উদ) খাওয়া সম্পূর্ণরূপে হারাম ও নাজায়িয
১৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পুরুষের জন্য কমপক্ষে একমুষ্ঠি পরিমাণ দাড়ি রাখা ফরয
১৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পর্দা সর্বপ্রকার বিপদ-আপদ থেকে হিফাজত হওয়ার মাধ্যম
১৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মূর্তি, প্রতিমা, ভাস্কর্য, ম্যানিকিন ও ছবি নাজায়িয ও হারাম
১৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












