ঈমানী কুওওয়াত বা শক্তি বৃদ্ধিকারী কতিপয় ঘটনা:
, ১৪ রবীউল আউওয়াল শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ২৯ ছালিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ২৮ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি:, ১২৩ভাদ্র, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) মহিলাদের পাতা
যারা রোযা রেখে গীবত করে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তাদের হাকীকত জানিয়ে দেন
(ধারাবাহিক)
(৩) নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিশিষ্ট খাদিম হযরত উবায়দ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, দু'জন মহিলা ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা উনারা রোযা রাখলেন। এক ব্যক্তি এসে বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ! ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দু’জন মহিলা ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমা উনারা রোযা রেখেছেন। এখন পিপাসায় উনাদের প্রাণ ওষ্ঠাগত। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, উনাদেরকে ডেকে আনেন। উনারা এলে একটি বড় পেয়ালা আনা হলো। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি একজনকে বললেন, এতে বমি করুন। তিনি পুঁজ, গোশত ও কিছু রক্ত বমি করলেন। এতে পেয়ালা অর্ধেক ভরে গেলো।
অতঃপর অপরজনকেও বমি করতে বললেন। তিনিও অনুরূপ পুঁজ, গোশত ও রক্ত বমি করলেন এবং পেয়ালা ভরে গেলো। অতঃপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, উনারা উভয়েই মহান আল্লাহ পাক উনার হালাল করা বস্তু খেয়ে রোযা রেখেছেন। তবে হারাম করা বস্তু দিয়ে ইফতার করেছেন। পাশাপাশি উনারা মানুষের গোশত খেয়েছেন তথা গীবত করেছেন। (আবূ ইয়ালা শরীফ, মুসনাদে আহমদ শরীফ, মুছান্নাফ ইবনে আবী শায়বা শরীফ, খাসায়িসুল কুবরা ২/১৩১)
(৪) হযরত যায়েদ ইবনে ছাবিত রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, একদিন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের সাথে বসেছিলেন। অতঃপর তিনি উঠে পবিত্র হুজরা শরীফে তাশরীফ মুবারক নিলেন। উনার খিদমত মুবারকে হাদিয়া স্বরূপ গোশত এসেছিলো। কতিপয় ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম বললেন, হে হযরত যায়েদ ইবনে ছাবিত রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু! আপনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট গিয়ে আবেদন করলে ভালো হতো যে, সমীচীন মনে করলে আমাদেরকেও কিছু গোশত দান করতেন।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত যায়েদ ইবনে ছাবিত রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে বললেন, আপনি উনাদের কাছে গিয়ে বলুন যে, উনারা আপনার চলে আসার পর গোশত খেয়ে ফেলেছে।
হযরত যায়েদ ইবনে ছাবিত রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি এসে উনাদেরকে একথা বললেন। তখন উনারা বললেন, আমরা তো কোন গোশত খাইনি! অতঃপর উনারা সবাই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার নিকট চলে আসলেন। তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আপনাদের দাঁতে আমি হযরত যায়েদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার গোশতের চিহ্ন দেখতে পাচ্ছি। সকলেই তখন বিষয়টি বুঝতে পারলেন। অতঃপর বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি ঠিকই বলেছেন। আপনি আমাদের জন্যে দোয়া করুন। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাদের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করলেন। (মুস্তাদরাকে হাকিম শরীফ)
(৫) হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, আরবে এই নিয়ম প্রচলিত ছিলো যে, সফরে একে অন্যের খিদমত তথা সেবাযতœ করতো। এক সফরে এক ব্যক্তি খলীফাতু রসূলিল্লাহ, হযরত ছিদ্দীকে আকবর আলাইহিস সালাম এবং খলীফাতুল মুসলিমীন, হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম উনাদের খিদমত মুবারকে নিয়োজিত ছিলেন। এক সময় উনারা উভয়েই ঘুমিয়ে পড়লেন। জাগ্রত হয়ে দেখলেন যে, লোকটি তাদের জন্যে খাবার প্রস্তুত করেননি। উনারা বললেন, ইনিতো ঘুমকাতুরে তথা খুব ঘুমায়।
অতঃপর লোকটিকে জাগ্রত করে উনারা উনাকে বললেন, আপনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকটে যান। আমাদের সালাম জানান এবং আমাদের জন্য খাবার নিয়ে আসেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পয়গাম শুনে তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, উনাদেরকে সালামের জওয়াব দিন। আর বলবেন যে,উনারা উভয়েই তো খাবার খেয়ে নিয়েছেন।
একথা শুনে উনারা উভয়েই এলেন এবং তিনি বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ, ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমরা কি খাবার খেয়েছি? তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আপনারা আপন ভাইয়ের গোশত খেয়েছেন। সেই মহান আল্লাহ পাক উনার কসম, যাঁর কুদরতী হাত মুবারকে আমার প্রাণ, আমি আপনাদের ভাইয়ের গোশত আপনাদের সামনের দাঁতের মধ্যে দেখতে পাচ্ছি। তখন উনারা বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারলেন। অতঃপর উনারা উভয়েই আরজু করলেন, ইয়া রসূল্লাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ, ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি আমাদের জন্য মাগফেরাতের দোয়া করুন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আপনারা সেই লোকটিকে মাগফেরাতের দোয়া করতে বলুন। (আল আহাদিসুল মুখতারাহ শরীফ-১৬৯৭, আস সিলসিলাতুস সহীহাহ-২৬০৮)
(ইনশাল্লাহ চলবে)
-আল্লামা মুফতী সাইয়্যিদ আব্দুল হালীম।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
তিন ধরনের লোক বেহেশতে প্রবেশ করবে না
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যে ৪ শ্রেণীর লোকদের জন্য ক্বিয়ামতের দিন সুপারিশ ওয়াজিব হবে
২১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
একসাথে তিন তালাক দেয়ার শরয়ী হুকুম (২)
২০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা বেমেছাল ফযীলত মুবারকের অধিকারী
২০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সৃষ্টির শুরুতেই মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত মুবারক উনার মধ্যে ছিলেন, আছেন এবং অনন্তকাল থাকবেন
১৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
যিকিরের মাধ্যমে ইলমে তাসাউফ অর্জন করা ফরয (২য় পর্ব)
১৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ক্বলবী যিকির জারী না থাকলে শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়
১৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মহিলাদের জামায়াতের জন্য মসজিদে ও ঈদগাহে যাওয়া হারাম ও কুফরী (৮)
১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ইখলাছ অর্জন করা ফরজ; ইখলাছ ছাড়া ইবাদত-বন্দেগী কবুল হয় না
১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মহিলাদের জন্য হাত, পা ও চেহারা আবৃত করে ঘর থেকে বের হওয়া ফরজ; খোলা রেখে বের হওয়া হারাম, জায়েয বলা কুফরী (৬)
১৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত ফায়সালা মুবারক তথা উনার সুন্নত মুবারক পালন করা ব্যতীত ঈমানদার হওয়া সম্ভব নয়
১৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












