ইন্দোনেশীয় অঞ্চলে দ্বীন ইসলাম : আগমন ও বিকাশ
, ১৬ই রবিউছ ছানী শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১০ খমীছ, ১৩৯৩ শামসী সন , ০৯ অক্টোবর, ২০২৫ খ্রি:, ২৫ আশ্বিন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) বিদেশের খবর
ইন্দোনেশিয়া। জনসংখ্যার দিক দিয়ে বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম রাষ্ট্র। ঐতিহাসিক মাসউদি এ অঞ্চলের নাম উল্লেখ করতে গিয়ে লিখেছিলেন ‘জুযুরুল মাহারাজ’ মানে মহারাজার দ্বীপপুঞ্জ। অপর ঐতিহাসিকগণ এ অঞ্চলের পরিচয় দিয়েছেন সুমাত্রা, জাভা প্রভৃতি বিভিন্ন দ্বীপের মাধ্যমে।
কেউ কেউ বলেন, ইন্দোনেশিয়া শব্দটি ইন্দো এবং নেশিয়া এ দুটি শব্দের মাধ্যমে গঠিত। ইন্দো মানে হচ্ছে হিন্দু এবং নেশিয়া মানে হচ্ছে দ্বীপপুঞ্জ। এমনিভাবে অনেক ঐতিহাসিক এ অঞ্চলকে হিন্দুস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় দ্বীপপুঞ্জ হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। কেউ এর নাম দিয়েছেন সবুজ ভূখ-। তবে খ্রিস্টীয় উনবিংশ শতাব্দী থেকে এ অঞ্চলটি ইন্দোনেশিয়া হিসেবে পরিচিত লাভ করে।
ভৌগোলিকভাবে এ অঞ্চলে বড় ছোট মিলিয়ে প্রায় ১৭ হাজার দ্বীপ রয়েছে। এর পাশাপাশি ঐতিহাসিকভাবে মালয়েশিয়া এবং মালদ্বীপ প্রভৃতি রাষ্ট্রগুলোও ছিলো এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। ছয়শটি দ্বীপে জনবসতি রয়েছে। যেখানকার ৯৭ থেকে ৮৫% জনগণই মুসলিম।
বৃহৎ এই অঞ্চলে ইসলামের আগমন ঘটেছিলো কোনো যুদ্ধ-বিগ্রহ এবং তীর-তলোয়ারের নিগ্রহ ব্যতিরেকেই।
এ অঞ্চলে ইসলামের আগমন ঘটেছিলো প্রায় আট অথবা নয় শতাব্দী আগেই। ঐতিহাসিক সূত্রগুলো বলছে, হিজরী দ্বিতীয় শতাব্দীর শেষে অথবা তৃতীয় শতাব্দীর শুরুলগ্নে সুমাত্রা এবং মালয় দ্বীপপুঞ্জের কিছু বন্দরে মুসলিম ব্যবসায়ীগণ নিজেদের ব্যবসায়িক ঘাঁটি স্থাপন করেন। আম্মান, হাজরামাউত এবং ইয়ামানের দক্ষিণ উপকূলের ব্যবসায়ীগণ সবার আগে এই অঞ্চলে আগমন করেন এবং সুমাত্রার পশ্চিম উপকূলে নিজেদের ব্যবসায়িক ঘাঁটি স্থাপন করেন। এই ব্যবসায়ীগণ ছিলেন শাফেয়ী মাযহাবের অনুসারী।
কতক সূত্রের ভাষ্য হচ্ছে, আব্বাসী শাসক হারুনুর রশিদের সময় কয়েকজন ইন্দোনেশীয় ব্যবসায়ী বাগদাদে সফর করেন। সফর থেকে ফেরার পথে তারা নিজ নিজ অঞ্চলে পৌঁছে দ্বীন ইসলামের দাওয়াতকে বিস্তৃত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
এদিকে প্রাচ্যবিদরা ‘দ্য প্রিচিং অব ইসলাম’ গ্রন্থে বলছে, ‘খ্রিস্ট্রীয় সপ্তম শতাব্দীর শেষদিকে এসে শ্রীলংকার পথ ধরে চীনের সাথে মুসলিমদের ব্যবসায়িক প্রসার ঘটে। এর ফলে অষ্টম শতাব্দীতেই সেখানে আরব ব্যবসায়ীদেরকে দলবদ্ধভাবে চলাফেরা করতে দেখা গেছে। পর্তুগিজ ফিরিঙ্গিদের আগমনের আগ পর্যন্ত খ্রিস্টীয় দশম থেকে পঞ্চদশ শতাব্দী পর্যন্ত সময়ে প্রাচ্যের আরবরাই ছিলো এ অঞ্চলের বাণিজ্যে শীর্ষ অবস্থানে। ছিলো না তাদের কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী। এ থেকে আমরা জোরালোভাবেই এই ধারণা পেতে পারি যে, আরবরা বেশ আগেই এ অঞ্চলে তাদের ব্যবসায়িক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত করেছিলো। ’
জাভা দ্বীপ: ইসলাম প্রচারের ঘাঁটি:
ঐতিহাসিক সূত্রগুলো থেকে এ অঞ্চলে ইসলাম প্রচারের ক্ষেত্রে হাজরামাউত এবং আম্মান অঞ্চলের মুসলিমদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা জানা যায়। সেই হিজরী প্রথম শতাব্দীতে ইসলাম প্রচারের শুরু থেকে দশম হিজরী শতাব্দীতে পর্তুগিজ ফিরিঙ্গিদের আগমন পর্যন্ত সহস্র বছর ধরে এই সামুদ্রিক নাবিক এবং ব্যবসায়ীগণ এ অঞ্চলে ইসলাম প্রচারে অসামান্য ভূমিকা রেখেছেন। এমনকি তাদের মধ্যে অনেকেই নিজেদের ভিটে মাটি ত্যাগ করে মালয় দ্বীপপুঞ্জের বিভিন্ন স্থানে বসতি গেড়েছেন।
জাভার পশ্চিমাঞ্চলে রাজা হাসানুদ্দিন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বানতাম রাজ্য। এদিকে জাভার পূর্বাঞ্চলে সানাকানি নামক এক সামরিক ব্যক্তি প্রতিষ্ঠা করেন মাতরাম রাজ্য। এভাবেই জাভা দ্বীপটি হয়ে উঠে এ অঞ্চলে ইসলাম প্রচারের প্রধানতম কেন্দ্র। এখানে থেকেই অন্য দ্বীপগুলোতে ইসলাম ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়াও সুমাত্রা দ্বীপের উত্তরে গড়ে উঠেছিলো আতশিহ রাজ্য এবং দক্ষিণে গড়ে উঠে বালমাবাং রাজ্য। এদিকে ৮৩২ হিজরীতে এসে ফাতেমীয়রা জাভা দ্বীপের মধ্যাঞ্চলে দিমাক রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে।
এভাবেই চলতে থাকে ইন্দোনেশীয় অঞ্চলে দ্বীন ইসলাম উনার আলো। এক দ্বীপ ক্রমান্বয়ে ছড়িয়ে পড়ে আরেক দ্বীপে। এবং কোনো যুদ্ধ বিগ্রহ ছাড়াই। এই বিশাল অঞ্চলে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম ছড়িয়ে পড়েছিলো তার সুবিমল আহ্বান নিয়ে। আলেমে দ্বীন এবং ব্যবসায়ীদের আচার ব্যবহার এবং উত্তম আচরণ দেখে এ অঞ্চলের লোকদের মনে দ্বীন ইসলাম প্রতিষ্ঠিত লাভ করেন। যার ফলশ্রুতিতে তারা লাভ করে সর্ববৃহৎ মুসলিম জনপদের খেতাব।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
বীর যোদ্ধাদের সামনে দখলদারদের ‘শক্তিশালী’ বলতে কিছু নেই
১৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ইসরাইল ছেড়ে পালিয়েছে ১০ লাখ ইহুদি
১৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ফিলিস্তিন ইস্যুতে আন্তর্জাতিক বৈঠক, থাকছে না ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মার্কিন কূটনীতিককে দ্বিতীয়বার তলব করল ভারত
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ন্যাটোতে সামরিক অর্থায়ন কমাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ইসরায়েলি কারাগারে ফিলিস্তিনি বন্দীদের ওপর ভয়াবহ নির্যাতনের অভিযোগ
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি ইরানি নৌবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে -চূড়ান্ত চুক্তির সিদ্ধান্ত হয়নি, দাবি ইরানের
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
জন্মের হার কম, বার্ধক্যের চ্যালেঞ্জের মুখে ভারত
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
হামাসের বীরত্ব:
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ইসরায়েলি কমান্ড সেন্টারে হিজবুল্লাহর সফল হামলা
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ইসরায়েলি কমান্ড সেন্টারে হিজবুল্লাহর সফল হামলা
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বীর যোদ্ধাদের সাহসী আক্রমণের আরও একটি শিকার
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












