আসমাউর রিজাল, জারাহ ওয়াত তা’দীল, উছুলে হাদীছ শরীফ উনার অপব্যাখ্যা করে অসংখ্য ছহীহ হাদীছ শরীফ উনাকে জাল বলছে ওহাবী সালাফীরা (১০)
, ১৮ শাবান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০৯ তাসি, ১৩৯৩ শামসী সন , ০৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ২৪ মাঘ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
নিম্নে সে বিষয়সমূহ সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো-
সনদ ছহীহ না হলেও উলামায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের আমলের দ্বারা তা ছহীহ সাব্যস্ত হয়:
হযরত উলামায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা যদি গ্রহণ করে নেন তবে তা ছহীহ বলে সাব্যস্ত হয়। এ বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বিখ্যাত আলিমে দ্বীন হযরত খতীব বাগদাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি কয়েকটি হাদীছ শরীফ উল্লেখ করেন যা সনদগতভাবে দুর্বল।
কিন্তু সকল আলিম এই হাদীছ শরীফগুলো আমল করে আসছেন। আর তাই তিনি বলেন-
وَإِنْ كَانَتْ هٰذِهٖ أَحَادِيْثَ لَا تُثَبِّتُ مِنْ جِهَةِ الْإِسْنَادِ لٰكِنَّ لَـمَا تَلَقَّتْهَا الكَافَّةُ عَنِ الْكَافَّةِ غَنَّوْا بِصِحَّتِهَا عِنْدَهُمْ عَنْ طَلَبِ الْإِسْنَادِ لَّـهَا فَكَذٰلِكَ حَدِيْثُ مُعَاذٍ لَمَّا اِحْتَجُّوْا بِهٖ جَمِيْعًا غَنَّوْا عَنْ طَلَبِ الْأَسْنَادِ لَهٗ
অর্থ: “আমলের মাধ্যমে যুগ যুগ ধরে এগুলো ছহীহ হিসাবে অনুসরণ করে একথার প্রমাণ করেছেন যে, এগুলোর সনদ তালাশ করার প্রয়োজন নেই। অনুরূপভাবে হযরত মুয়াজ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার হাদীছ শরীফ, যখন সকলেই এ হাদীছ শরীফ দ্বারা দলীল দিয়েছেন, তখন সকলের নিকট উক্ত হাদীছ শরীফ উনার সনদের প্রয়োজনীয়তা হ্রাস পেয়েছে।” (আল ফক্বিহ ওয়াল মুতাফাক্কিহ ১/৪৭১, ই‘লামু মুওয়াক্কিঈন লি ইবনিল কাইয়্যিম ১/২০২)
বিখ্যাত মুহাদ্দিছ হযরত জালালুদ্দীন সুয়ূতী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এ বিষয়ে বলেন-
يـُحْكَمُ لِلْحَدْيْثِ بِالصِّحَّةِ اِذَا تَلْقَاهُ النَّاسَ بِالْقُبُوْلِ وَاِنْ لَّـمْ يَكُنْ لَّهٗ اِسْنَادٌ صَحِيْحٌ
অর্থ: “কোন হাদীছ শরীফ উনার ছহীহ সনদ না পাওয়া গেলেও যদি সকলের আমলের মাধ্যমে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার বক্তব্য অনুসৃত হয় তাহলে সে হাদীছ শরীফখানা ছহীহ বলে গণ্য হবে।” (তাদরীবুর রাবী ১/৬৬)
হাফিজে হাদীছ, বুখারী শরীফ উনার অন্যতম ব্যাখ্যাকারক হযরত ইবনে হাজার আসকালানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, “যে বৈশিষ্ট্যের কারণে হাদীছ শরীফ গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হয় তার মধ্যে একটি হলো কোন হাদীছ শরীফ উনার বক্তব্য অনুযায়ী আমল করার ব্যাপারে সকল আলিম ঐক্যবদ্ধ হওয়া। তাহলে সে হাদীছ শরীফখানা গ্রহণযোগ্য ও তার বক্তব্য অনুযায়ী আমল করা আবশ্যক হয়ে পড়ে।”
উছূলে হাদীছ শরীফ উনার অনেক ইমাম এই নীতি সুস্পষ্ট বর্ণনা করেছেন। এর একটি উদাহরণ হচ্ছে হযরত ইমাম শাফেয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বক্তব্য, “কোন পানির যদি স্বাদ, গন্ধ, রং পরিবর্তন হয়ে যায় তাহলে তা ব্যবহারযোগ্য নয়।”
এ হাদীছ শরীফখানা উনার সনদকে যদিও হাদীছ শরীফ বিশারদগণ ছহীহ মনে করেন না, তথাপি এটাই সকলের বক্তব্য, এ ব্যাপারে কারো দ্বিমত আছে বলে আমার জানা নেই। “ওয়ারিশদের জন্য ওছিয়ত প্রযোজ্য নয়” এ হাদীছখানাও হযরত উলামায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা (সনদগতভাবে) প্রমাণিত মনে করেন না, কিন্তু সকলের আমলের মাধ্যমে এটি অনুসৃত হয়েছে।” (তাউযীহুল আফকার ১/২৫৭, ছহীহ ইবনে খুযায়মা: হাদীছ শরীফ নং ১৬৪৩)
সুতরাং চট করেই কোন হাদীছ শরীফ উনার সনদ পাওয়া না গেলে বা ছহীহ না মনে হলেই জাল বলে বর্জন করার সুযোগ নেই। কারণ উছূলে হাদীছ শরীফ উনার নীতি অনুযায়ী, যে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার উপর সকলে আমল করে আসছেন বা গ্রহণ করে নিয়েছেন তার বিরুদ্ধে এতদিন পরে এসে জাল, দ্বয়ীফ ফতওয়া উদগীরণ করা জায়িয হবে না। কেউ এরকম করলে সেটা স্পষ্ট নফসানিয়াত ও বিদ্বেষ বৈ কিছু নয়।
কোন মুহাদ্দিছ রহমতুল্লাহি আলাইহি কোন হাদীছ শরীফ উনার ব্যাপারে “ছহীহ নয়” শব্দটি ব্যবহার করলেই তা জাল হয় না:
বর্তমানে ওহাবী-সালাফীরা মানুষকে ধোঁকা দেয়ার জন্য কিছু ইমাম মুহাদ্দিস উনাদের বক্তব্য لا يصح (ছহীহ নয়) এমন বক্তব্য দিয়ে হাদীছ শরীফ জাল বলার অপচেষ্টা করে। কিন্তু ছহীহ নয় দ্বারাই কি জাল হয়ে যায়? ছহীহ’র পরের স্তর হাসান, তারপরের স্তর দ্বয়ীফ, তারপরে গিয়ে হচ্ছে মওদ্বু বা জাল। ছহীহ নয় বললে হাসান হওয়াতে নিষেধ কোথায়?
এ প্রসঙ্গে বিখ্যাত মুহাদ্দিছ হযরত মোল্লা আলী কারী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন-
قَوْلُ السَّخَاوِّىِّ لَا يَصِحُّ لَا يُنَافِـي الضَّعْفَ وَالْـحَسَنَ
অর্থ: “ইমাম হযরত সাখাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, পবিত্র হাদীছ শরীফখানা ‘ছহীহ নয়’ দ্বারা পবিত্র হাদীছ শরীফখানা হাসান ও দ্বয়ীফ হওয়া নিষেধ করে না।” (আসরারুল মারফুয়া ১/৩৪৯) (ইনশাআল্লাহ! চলবে)
-খাজা মুহম্মদ নুরুদ্দীন পলাশ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে- ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (১২)
০৭ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পর্দা পালন করা নারী-পুরুষ সকলের জন্যই শান্তি ও পবিত্রতা হাছিলের কারণ
০৭ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০৭ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সম্মানিত হানাফী মাযহাবে ছদক্বাতুল ফিতর উনার অকাট্য দলীল (১)
০৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি আদেশ মুবারক করেছেন-
০৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
আকরামুল আউওয়ালীন ওয়াল আখিরীন, সাইয়্যিদুল আম্বিয়া ওয়াল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হলেন খুলুকুন ‘আযীম উনার অধিকারী (৪)
০৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পবিত্র রোযা সম্পর্কিত মাসয়ালা-মাসায়িল
০৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা কবীরা গুনাহ ও অসন্তুষ্টির কারণ
০৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (৯)
০৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
যেই ২৬ খানা আয়াত শরীফ বাদ দেয়ার জন্য ভারতের আদালতে রিট করেছিলো ইসলামবিদ্বেষীরা
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যাকাত সম্পর্কিত আহকাম, মাসায়িল ও ফাযায়িল (১৪)
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












