আসমাউর রিজাল, জারাহ ওয়াত তা’দীল, উছুলে হাদীছ শরীফ উনার অপব্যাখ্যা করে অসংখ্য ছহীহ হাদীছ শরীফ উনাকে জাল বলছে ওহাবী সালাফীরা (৯)
, ১১ শাবান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০২ তাসি, ১৩৯৩ শামসী সন , ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ১৭ মাঘ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
দ্বয়ীফ হলেই কি হাদীছ শরীফ গ্রহণ করা যাবে না?
দ্বয়ীফ হলেই কি হাদীছ শরীফ গ্রহণ করা হবে না? যারা এমন কথা বলে তাদের জেনে রাখা দরকার, ইমাম হযরত বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বিখ্যাত কিতাব “আদাবুল মুফাররাদ” কিতাবে এমন অনেক হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন যার সনদ দ্বয়ীফ। বিখ্যাত হাদীছ শরীফ বিশারদ হযরত ইবনে হাজার আসকালানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার “তাকরীবুত তাহযীব” কিতাবে প্রায় ৫২ জন রাবীকে দুর্বল সাব্যস্ত করেছেন যারা সকলেই “আদাবুল মুফাররাদ” কিতাবের রাবী। ইমাম হযরত বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি যদি দ্বয়ীফ হাদীছ শরীফ নাই মানতেন বা গ্রহণ করতেন তাহলে কি “আদাবুল মুফাররাদ” কিতাবে ওই সকল রাবীদের রেওয়ায়েত গ্রহণ করতেন?
এছাড়া মূল বুখারী শরীফ উনার মধ্যেই একধিক হাদীছ শরীফ আছে যার রাবী সম্পর্কে দ্বয়ীফ বলা হয়েছে। যেমন, মুহম্মদ বিন আব্দুর রহমান তুফাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি। উনাকে হাফিজ আবু যুরআ রহমতুল্লাহি আলাইহি মুনকারুল হাদীছ বলেছেন। (ফতহুল বারী ৬১৫ পৃষ্ঠা)
আরেকজন রাবী হচ্ছেন, “হযরত উবাই বিন আব্বাস রহমতুল্লাহি আলাইহি”। তিনি ছহীহ বুখারী শরীফ উনার রাবী। উনার উপস্থিতিসহ বুখারী শরীফ উনার ‘কিতাবুজ জিহাদ’ অধ্যায়ের ২৮৫৫নং হাদীছ শরীফ উনার সনদ হচ্ছে-
حدثنا على بن عبد الله بن جعفر حدثنا معين بن عيسى حدثنا ابـى بن عباس ابن سهل عن ابيه عن جده قال
উক্ত রাবী ‘হযরত উবাই বিন আব্বাস রহমতুল্লাহি আলাইহি’ সম্পর্কে হযরত ইবনে মুঈন রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, তিনি দ্বয়ীফ। হযরত আহমদ ইবনে হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, তিনি মুনকারুল হাদীছ। ইমাম হযরত নাসাঈ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, তিনি শক্তিশালী নন। (মিযানুল ই’তিদাল ১ম খ- ৭৮ পৃষ্ঠা)
আরেকজন রাবী হচ্ছেন, হযরত মুহম্মদ বিন তালহা মুসাররিফ কূফী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি। বুখারী শরীফ উনার ২৮৯৬নং হাদীছ শরীফ উনার সনদ-
حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ حَدَّثَنَا مُـحَمَّدُ بْنُ طَلْحَةَ عَنْ طَلْحَةَ عَنْ مُصْعَبِ بْنِ سَعْدٍ سَعْدٌ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ
হযরত মুহম্মদ বিন তালহা মুসাররিফ কূফী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে হযরত ইবনে মুঈন রহমতুল্লাহি আলাইহি, ইমাম হযরত সা’দ রহমতুল্লাহি আলাইহি, ইমাম হযরত নাসাঈ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনারা দ্বয়ীফ বলেছেন। (মিযানুল ই’তিদাল)
আবার এমন অনেক হাদীছ শরীফ রয়েছে, যেগুলো ইমাম বুখারী ও মুসলিম রহমতুল্লাহি আলাইহিমা উনারা ছহীহ বলে গ্রহণ করেন, কিন্তু ছিহাহ সিত্তার অন্যান্য ইমাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা সেগুলো ছহীহ নয় বলে পরিত্যাগ করেন। (সায়িকাতুল মুসলিমীন)
আর তাই বিখ্যাত মুহাদ্দিছ হযরত মোল্লা আলী ক্বারী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, হযরত ইমাম সাখাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি “আলফিয়া” কিতাবের হাশিয়ায় উল্লেখ করেন যে, “ছহীহ বুখারী শরীফ উনার ৮০ জন ও ছহীহ মুসলিম শরীফ উনার ১৬০ জন রাবীর বর্ণনাকৃত হাদীছ শরীফ দ্বয়ীফ বলে প্রমাণিত হয়েছে।” (নুয্হাতুন্ নাযার ফী তাওযীহি নুখবাতিল ফিকর ১০৭ পৃষ্ঠা)
হযরত ইমাম নববী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, “হযরত ইমাম দারে কুতনী, আবূ আলী ও আবূ দাউদ দামেস্কী রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা ছহীহ বুখারী ও মুসলিম উনাদের ২০০ হাদীছ শরীফকে দ্বয়ীফ বলে উল্লেখ করেন।” (মুকাদ্দিমায়ে শরহে মুসলিম ১/২৭, ফতহুল বারী ১/৩৪৬)
হযরত ইমাম কুস্তলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, ছহীহ বুখারী শরীফ উনার মধ্যে তো এরূপ হাদীছ শরীফও রয়েছে, যা কারো মতে ছহীহ, আর কারো মতে দ্বয়ীফ। (শরহে বুখারী)
কাশফুয যুনুন, মুকাদ্দিমায়ে ফতহুল বারী ইত্যাদি কিতাবে ছহীহ বুখারী শরীফ উনার কিছু কিছু হাদীছ শরীফকে দ্বয়ীফ বলে প্রমাণ করা হয়েছে।
এবার উছুলে হাদীছ শরীফ উনার সম্পর্কে কিছু তথ্য সবার জানা থাকা জরুরী। যেগুলো জানা থাকলে ওহাবী সালাফীরা সহজেই ধোঁকা দিতে পারবে না। (ইনশাআল্লাহ! চলবে)
-খাজা মুহম্মদ নুরুদ্দীন পলাশ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
শ্রেষ্ঠ উসমানীয় সুলতান মুরাদ আল রাবির ন্যায়পরায়নতা এবং এক রাতের ঘটনা
১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সম্মানিত তিনটি বিষয়
১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া কবীরা গুনাহ
১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
অসংখ্য হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত- প্রাণীর ছবি হারাম
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মহান আল্লাহ পাক উনাকে যদি কেউ হাক্বীক্বী ভয় করতে চায়, তার তিনটি দায়িত্ব
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে- ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (৯)
১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া হারাম
১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












